শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০২:০৩ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

গণতন্ত্র ও সুশাসনঃ স্থানীয় নির্বাচন ও কালো টাকা

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৪৯৮ জন সংবাদটি পড়ছেন

গোলাম রাব্বানী নাদিমঃ এক এক করে চুতর্থ ধাপের নির্বাচন শেষ। ৫ ধাপের নির্বাচন আগামী ৫ জানুয়ারী। এতসব কারচুপি, প্রকাশ্যে সীল, জোড় পুর্বক সীল ও ব্যালেট ছিনতাইয়ের ফলে সর্বশেষ নির্বাচন ৪৯ শতাংশ চেয়ারম্যানই নির্বাচিত হয়েছে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

এ ছাড়া আচারণ বিধির গ্যাড়াকলে বারবার স্বতন্ত্রপ্রার্থী বা বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রায়ই সময় নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই আচারণ বিধি তৈরী বা প্রয়োগ শুধু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই বেশি প্রয়োগই করা হয়েছে বেশি। মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাচন মাঠ থেকে দুরে সড়ানোও হয়েছে অনেক প্রার্থীকে।

যদি নিরেপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হত বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয় হার এই শতাংশের চেয়ে আরও বেশিই হত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

নির্বাচণে কালো টাকার ব্যবহারের ফলে ফলাফলও পাল্টে যাচ্ছে। একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বমোট ৫ লক্ষ টাকার ব্যায় নির্ধারন করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিদিনই ৫লক্ষ টাকার উপরে ব্যায় প্রায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর। এটি প্রতীক বরাদ্দের দিন হতে ১০দিন পর্যন্ত খরব। কিন্তু নির্বাচনের ৫দিন পুর্বে প্রতিটি চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যায়ের পরিমান দ্বিগুণ হয়ে যায়।

একটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে ও ভোটারদের মনজয় করে জয়ী হতে কমপক্ষে ২০ হাজার ভোটারের একটি ইউনিয়নে প্রায় ৬০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা খরচ হয় মাত্র ১ মাসে।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ১০ (৫) ধারা এবং অর্থ বিভাগের স্মারক নং ০৭.০০.০০০০.১২৯.০০.০০৬.১৩.৭৩; তারিখ: ২১/০৬/২০১৭ খ্রি: অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের মাসিক সম্মানী ভাতা (সরকারী অংশ ও ইউপি অংশ) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরকারি অংশ ৩ হাজার ৬০০ টাকা ও ইউপি অংশ ৪ হাজার ৪০০ টাকাসহ মোট ৮ হাজার টাকা; সদস্য সরকারি অংশ ২ হাজার ৩৭৫ টাকা ও ইউপি অংশ ২ হাজার ৬২৫ টাকাসহ মোট ৫ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী পাবেন।

প্রতিটি চেয়ারম্যান যদি মাসিক ৮ হাজার টাকা বেতন পায় তবে ৫ বছরে ৬০ মাস। ৬০ মাসের বেতন দাড়ায় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। যা নির্বাচনের ১দিনের খরচ।

১ কোটি খরচ করে একজন চেয়ারম্যান মাসিক বেতন প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। বাকী ৯৫ লাখ টাকা আসে কোথায় থেকে?

প্রশ্নটা যতটা সহজ এবং উত্তরটাও এর চেয়ে ঢের সহজ। এই টাকা উত্তোলনের জন্য চেয়ারম্যান সাহেবরা পকেট কাটবে আপনার আর আমার।

কিভাবে কাটবে? এর উত্তরটাও জেনে রাখা ভাল-  আপনি বিধবা ভাতার জন্য যাবেন, টাকা লাগে ৫ হাজার। কর্মসুচিতে নাম লেখাবেন সেটাও একই রেট, অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে রেটের হেরফের হলেও ৫ হাজার টাকার নিচে নামে না।

এছাড়া এলজিএসপি ও টিআর, কাবিখা, কাবিটা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়। ২ লক্ষ টাকা একটি প্রকল্পে কাজ হয় মাত্র ২ হাজার টাকার। অনেক সময় প্রকল্প গুলো থেকে যায় কাগজে কলমে।

এভাবেই উঠে যায় ১ কোটি টাকার উপরে। দেশ ও জাতীর উন্নয়ন কাগজে লেখা থাকলেও বাস্তবে আমরা পাই শুণ্য।

একটি মজার অভিজ্ঞতা কথা শেয়ার না করলেই নয়, আমি নিজেও স্থানীয় একটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নিয়েছি। একদিন এক ভোটারকে ফোন দিলাম, ফোনটি রিং হওয়ার সাথে সাথে তিনি রিসিভ করলেন। যথারীতি সালাম দিলাম.. আস সালামু আলাইকুম। ওই পাশ থেকে ছালামের জবাব আসলো আজ খরচ দিলেন না কেন?

এটাই নির্বাচন, এটাই বাস্তবতা, আমি লিখতে পারি বলেই হয়তো জানাতে পারলাম কিন্তু যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা বড়ই অসহায়। ভোট নষ্টের ভয়ে বা পরাজয়ের ভয়ে প্রার্থীরা কিছু বলতে না পারলেও আমি বলি, আমি বলতে চাই।

যে দেশের ভোটার টাকার বিনিময়ে নিজের ভোট বা মতামত বিক্রি করে সে দেশে গণতন্ত্র আর সুশাসন বড্ড বেমানান।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102