বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :
বকশীগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জের, থানায় চাঁদাবাজীর অভিযোগ করল আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য বকশীগঞ্জে রহস্য উদঘাটন করলেন ওসি, জিজ্ঞাসাবাদে জানালো সে বাংলাদেশী বকশীগঞ্জে এসডিজি নীতিমালা বাস্তবায়ন ও প্রত্যাশা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে জনতার হাতে আটক ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করল পুলিশ বকশীগঞ্জে কর্মরত পুলিশ কনেস্টবল নিজামের অর্থে ১ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার বকশীগঞ্জে দিনমজুর সেজে গণধর্ষন মামলার আসামী গ্রেফতার করল পুলিশ বকশীগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত বকশীগঞ্জে শ্বশুর ও দেবরের নির্যাতনে মৃত্যু শয্যায় গৃহবধু বকশীগঞ্জে নারীসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক ৬ দফা দিবসে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আমরা কি কোনদিন ছাত্রলীগ করতে পারব না.. সীমান্ত

স্টাফ রিপোর্টার, বকশীগঞ্জ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
  • ৭২৯ জন সংবাদটি পড়ছেন

গোলাম রাব্বানী নাদিমঃ রাত ১০ ছুই ছুই। উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে ভাতিজা শাকিলের পানের দোকান। পান খাওয়ার অভ্যাসটা অনেক আগেরই। চাচা ভাতিজার খোশ গল্প চলছে। এমন সময় পিছন থেকে মিষ্টি কণ্ঠে ভাই ডাক।

পরে দেখলাম সে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয় মামার মেজো ছেলে শাহ্ মোহাম্মদ সীমান্ত।

সীমান্ত, ১ যুগ ছাত্রত্বের মধ্যাংশ শেষ করে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য চেষ্টায় রয়েছে। সীমান্তের দাদা আব্দুল হামিদ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাবা সাইফুল ইসলাম বিজয় উপজেলা আওয়ামীলীগের টানা তিনবারের নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক।

১৯৭১ সালে অনুষ্ঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠন ছিলেন সাইফুল ইসলাম বিজয়ের বাবা ও সীমান্তের দাদা। এর জন্য হারাতে হয়েছে বাড়ী ঘর। পাকিস্তানী বাহিনী ও তার দোষরা তাদের বাড়ী ঘর অগ্নি সংযোগ করেছিল। স্বাধীনতার পর আব্দুল হামিদ ও তার পরিবার স্বাভাবিক হতে পারেনি। এই ছিল সীমান্তের পরিবারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

এখন আসি মুল কথায়, ভাই বলে সম্মোধন করার সাথে সাথে আওয়ামীলীগের অফিসে সাথেই নতুন উদ্বোধনকৃত বিসমিল্লাহ হোটেল গিয়ে বসি সীমান্তের সাথে।

চোখে মুখে কি যেন হতাশা কাজ করছে। অর্ধেক বলে আবার থামে। মাঝে মধ্যেই বাবা সাইফুল ইসলাম বিজয়ের অনুশাসনের ভয়ও তার মাঝে কাজ করছে।

তারপরেও এক পর্যায়ে হতাশার কথা বলেও ফেলল সীমান্ত। প্রসঙ্গ ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটি।

ভাই আমরা কি ছাত্রলীগ করতে পরব না? প্রশ্ন ছুড়ে দিলো সীমান্ত। প্রশ্নের উত্তর না দিতেই আবার হতাশা নিয়েই বলল, ভাই ছাত্রলীগ নিয়ে কিছু লেখেন। আমরা যারা ছাত্র তারা ছাত্রলীগ করতে চাই। আমাদের একটু সুযোগ করে দিন।

তার কথা শোনে একটু অবাকও হয়নি। কারন পেশাগত কারণেই ছাত্রলীগের অনেক খবর, অনেক অসংগতি তথ্যও রয়েছে আমার কাছে।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বিবাহিতদের দিয়ে চলছে উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম। ফলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অপরদিকে গতি হারাচ্ছে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম। ইত্যিমধ্যেই ছাত্রলীগের সভাপতি জুমান তালুকদার বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে সেপ্টেম্বর মাসে জাহিদুল ইসলাম জুমান তালুকদারকে সভাপতি হাসানুজ্জামান সজিবকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের ইউনিটগুলোকে পুনর্গঠন করা, সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করার কথা ছিল। কিন্তু ওই কমিটি গঠনের পর আশানুরূপ তেমন কোন অগ্রগতি দেখাতে পারেন নি কমিটির নেতৃবৃন্দ। এক বছর মেয়াদী কমিটি ৮ বছর পার হলেও কমিটির কার্যক্রম চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে।

শুরু থেকে উপজেলা ছাত্রলীগ দুই মেরুতে অবস্থান নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিল। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুমান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান সজিবের মধ্যে বরাবরই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই বিদ্যমান ছিল।

এই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও শুধুমাত্র নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি ব্যতিত বাকি ইউনিয়নগুলোতে আজ পর্যন্ত কোন কমিটি দিতে পারে নি উপজেলা ছাত্রলীগ। দীর্ঘ ২২ বছর পর ২০২০ সালে নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া হলেও সেখানেও রয়েছে অভ্যন্তরিন কোন্দল। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় গতি হারিয়েছে ছাত্রলীগের কার্যক্রম। ফলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না ইউনিয়ন পর্যায়ে।

এছাড়াও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দুই কন্যা সন্তানের পিতা হয়েছেন। পুত্র সন্তানের পিতা হয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান সজিবও। নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিবাহিতরা।

নতুন কমিটি গঠনের কোন উদ্যোগ না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তৃণমূলের ছাত্রলীগের কর্মী সমথর্করা। গত ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুমান তালুকদার উপজেলা ভাইস পদে জয়লাভ করায় এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক একটি বেরসকারি কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করায় উপজেলা ছাত্রলীগের মধ্যে হযবরল অবস্থার সৃষ্টি হয়। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব থাকায় ৬ বছরেও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি এশিয়া মহাদেশের সববৃহৎ এই ছাত্র সংগঠনের।

সম্প্রতি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুমান তালুকদারকে বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্মআহ্বায়ক করা হলে ছাত্রলীগের কার্যক্রম পুরোপুরি থুবড়ে পড়ে। তবে এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। জুমান তালুকদার পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্মআহ্বায়ক হওয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদের বৈধতা আছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্রলীগের কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতা জানান, মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বাতিল করে নতুনদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হোক।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান সজিব মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে জানান, কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও কার্যক্রম চলছে। নানা কারণেই বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।

 

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102