নিজ পুত্রবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে প্রকাশ্যে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে এক লম্পট শশুর।
মঙ্গলবার (২৪ জুলাই ) দুপুরে রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে ফয়জুর রহমান তালুকদার নামের ওই শ্বশুরকে গণধোলাই দেয় মেয়ের স্বজন ও স্থানীয়রা। পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আ’লীগ সভাপতি উপস্থিত হয়ে জনরোষ থেকে রক্ষা করে বখাটে ওই শ্বশুরকে। বখাটে এই শ্বশুর উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থাকায় বিষয়টি সারা এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, রাজীবপুর উপজেলার চররাজীবপুর গ্রামের ফয়জুর রহমান তালুকদারের পুত্র আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে ৮ মাস আগে একই উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আব্দুর রশীদ মন্ডলের মেয়ের বিয়ে হয়। পুত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন ঢাকায় থাকায় বিয়ের তিন মাসের মাথায় ছেলের অনুপস্থিতিতে শ্বশুর ফয়জুর রহমান তালুকদার তার ছেলের বউ’কে নানা ভাবে উত্যক্তের এক পর্যায়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানির পর মেয়ের পরিবার তাদের মেয়েকে শ্বশুর বাড়ি পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফয়জুর রহমান তালুকদার ও তারপুত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন নব বধূকে নিয়ে অশ্লীল সব তথ্য ফেসবুকে প্রকাশ করে।
এসব বিষয়ে নিয়ে দুই পরিবারের মাঝে উত্তেজনা বাড়ার এক পর্যায়ে মঙ্গলবার (২৪ জুলাই) ফয়জুর রহমান তালুকদার উপজেলা চত্বরে উপস্থিত হলে তাকে এলোপাথারি ভাবে কিলঘুষি মারতে থাকে মেয়ে পক্ষের লোকজন সহ আরও ২০-৩০ জনের এক দল।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফয়জুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘ছেলের শ্বশুর আব্দুর রশীদ মন্ডল ও তার লোকজন অন্যায় ভাবে আমাকে মেরেছে। তাদের অভিযোগ সত্য নয়।’
নির্যাতনের শিকার মেয়ের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশীদ মন্ডল বলেন, ‘ফয়জুর রহমান তালুকদার ও তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন দু’জনেই লম্পট। তারা পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়ের শ্লীলতা হানির চেষ্টা করেছে। আব্দুল্লাহ আল মামুন বিভিন্ন সময় আমার মেয়েকে অশালীন ভাষায় ম্যাসেজ দেয়। তার বাবা শশুর হয়ে আমার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। আমি ওই পরিবারে আমার মেয়েকে আর পাঠাবো না’।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশীদ মন্ডল আরও বলেন, ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টার ব্যাপারে রাজিবপুর থানায় মৌখিক অভিযোগ করলে থানার ওসি বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মিমাংসা করে নিতে পরামর্শ দেয়। কিন্তু আমি স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বিষয়টি জানালেও কোনও সুরাহা হয়নি’।
রাজীবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি কিন্তু থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।