বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১০:০১ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :

গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা আবু সাইদকে ভাতা প্রদানের নির্দেশ

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৩ মার্চ, ২০১৮
  • ২৪৩৮ জন সংবাদটি পড়ছেন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টির গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা আবু সাইদের অনুকুলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রদাণের নির্দেশনা মোতাবেক তার অনুকুলে বরাদ্দের টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। গত ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী বকশীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি কর্তৃক আবু সাইদ ‘‘মুক্তিযোদ্ধা নন’’ মর্মে একটি প্রতিবেদন জামুকা বরাবর দাখিল করা হয়েছিল।



এর আগে গত বছরের ২০ জুন মহামান্য হাই কোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন ১২০৪২/১৪ ও সিভিল পিটিশন ফর লীভ টু আপিল নং ৩৮৪৬/১৬ এ মহামান্য আদালতের রায় ও আদেশের প্রেক্ষিতে ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহিনী গেজেট ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের অনুকুলে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা, বিধি-মোতাবেক চালুকরণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলাতে আবু সাইদের নাম রয়েছে। আবু সাইদের স্মারক নং- ম- ১৯৫২৪৫, স্মারক নং-৩৩৭২, তারিখ ২৮/১০/২০১৩ ও গেজেট নম্বর- ন্যাপ কমিউনিস্ট গেজেট নং- ১০ তারিখ ৪/৮/২০১৩।
মহামান্য উচ্চ আদালতে স্পষ্ট নির্দেশনা ও আদেশ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চাপ ক্ষোভও রয়েছে। তারা আবু সাইদকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মানতে চান না। তাদের দাবী আবু সাইদ তাদের সাথে কোন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। ফলে আবু সাইদ কোন ক্রমেই মুক্তিযোদ্ধা নন।
এ নিয়ে জাতীয় দিবস বর্জণেরও ঘোষনা দিয়েছিল কিছু মুক্তিযোদ্ধা পরে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়ে মধ্যস্থতায় বিষয়টি আপাদত নিরসন হয়। আবু সাইদের অনুকুলে ভাতা প্রদান বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে চিঠি দিবেন মর্মে মুক্তিযোদ্ধারা প্রাথমিক সিদ্ধান্তে উপণিত হয়ে আগামী ২৬ মার্চ জাতীয় দিবস বর্জণের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন বলে এক বিশেষ সুত্রে জানাগেছে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয় জানান, মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় দিবস বর্জণ করবে মর্মে একটি গুঞ্জন শোনার পর তাদের নিয়ে বসে আপাদত একটি সমধানে উপনিত হওয়া গেছে।
এদিকে একটি সুত্রে জানাগেছে ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টির মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে এতদিন যাবত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ও অনুসাঙ্গিন সুযোগ সুবিধা ভোগ করছিলেন আবু সাইদ। কিন্তু গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারী উপজেলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি কর্তৃক ’’আবু সাইদ মুক্তিযোদ্ধা নন’’ মর্মে জামুকা বরাবর দাখিল করা হয়। সেই কমিটিতে আবু সাইদ অনুপস্থিতও থাকেন।
অনুপস্থিত বিষয়ে আবু সাইদ উচ্চ আদালতকে জানান, সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে লংঘন করে তার পক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহন আদালত অবমাননার সামিল হবে বিধায় সেখানে অংশ গ্রহন করেন নাই।
মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব এ.এইচ.এম. মহসিন রেজা স্বাক্ষরিত চিঠির সুত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা প্রদান বন্ধ না করে ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বহাল রাখার মহামন্য সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনা আলোকে ‘‘পরবর্তী যাচাই বাছাইকালে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে না থাকলে এ যাবৎ গৃহীত সমুদয় অর্থ ফেরত প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন’’ মর্মে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহন করে আবু সাইদের অনুকুলে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা চালুর জন্য নির্দেশ ক্রমে অনুরোধ করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টির গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা আবু সাইদের অনুকুলে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতার ছাড়পত্র দেয় বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102