রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ১২:২৪ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকসহ তিনটি দপ্তরে দুর্ধর্ষ চুরি

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
  • ৮৯৭ জন সংবাদটি পড়ছেন

জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকসহ তিনটি দপ্তরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। তিনটি দপ্তরের আলমিরা ও টেবিলের ড্রয়ারের কাগজপত্র তছনছ ও নগদ ১৮ হাজার ৭০০ টাকা চুরি হয়েছে।


২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। সিসি ক্যামেরার ঝামেলা এড়াতে অন্ধকার স্থানে সীমানা দেয়ালের নিচে সিঁধকেটে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ঢুকে চুরির ঘটনা ঘটায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জামালপুর সদর থানা পুলিশ এ চুরির ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটিবাড়ি একটি খামার প্রকল্পের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড- বিআরডিবি’র উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটে। বিআরডিবির নৈশপ্রহরী রুবেল মিয়া ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে বিআরডিবি’র উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয়ের দরজা খোলা দেখে সবাইকে জানান। পরে দেখা যায়, বিআরডিবি কার্যালয়সহ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ের দরজা খুলে ভেতরে আলমিরা ও টেবিলের ড্রয়ারের তালা ভেঙে কাগজপত্র তছনছ করেছে চোরেরা। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কম্পিউটার অপারেটর কাম হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এ প্রতিবেদককে জানান, চোরেরা আলমিরার ভেতরে রাখা ভল্টের তালা ভেঙে ১০ হাজার ২০০ টাকা এবং অন্য একটি ডয়ারে রাখা অফিস সহকারীর ৮ হাজার ৫০০ টাকা চুরি করেছে। বিআরডিবি ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দপ্তরে জানালার গ্রিলও কেটেছে। খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে চুরি যাওয়া তিনটি দপ্তর পরিদর্শন করেন। তারা উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকে সিসি ক্যামেরাসহ আরও কয়েকটি সিসি ক্যামেরার চলচ্চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। কিন্তু কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। এ চুরির ঘটনাটি সদর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে। ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সদর থানা পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে। এদিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে পুলিশ চলে যাওয়ার পর ওই তিনটি দপ্তরের কর্মচারীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয়ের পেছনে সীমানা দেয়ালের নিচে মাটি খুঁড়ে গর্ত বা সিঁধকাটা গর্ত দেখতে পান। তাদের ধারণা উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রধান ফটকসহ কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ভয়ে চোরেরা ওই গর্ত দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চোরেরা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও অন্য দু’টি দপ্তরের দরজার তালা আটকানো লোহার রিং বা বলয় কেটে দরজা খুলেছে। তালা ভাঙতে হয়নি। ওই দপ্তরের কর্মচারীরা বলেছেন, দরজায় তালা লাগানো এই ধরনের পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে অনিরাপদ। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিমুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলা পরিষদ চত্বরের তিনটি দপ্তরের চুরির ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা থানায় মামলা দায়ের করবেন। তিনি আরও বলেন, রাতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ভেতরে আমাদের পুলিশের কোনো কাজ থাকে না। তবে উপজেলা পরিষদের নৈশপ্রহরীরা ঠিক মতো দায়িত্ব পালন করলে এ ধরনের চুরির কোনো আশঙ্কা থাকে না। জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিকিৎসক মোহাম্মদ মফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা সিসি ক্যামেরার চলচ্চিত্র দেখেছি। তাতে সন্দেহভাজন কাউকে পাওয়া যায়নি। আমি শুনেছি যে যেসব দপ্তরে চুরি হয়েছে সেই দপ্তরগুলোর নির্ধারিত নৈশপ্রহরীরা রাতে ঘুমিয়েছিল। তারা দায়িত্ব পালন করেনি। উপজেলা পরিষদের ভেতরের প্রতিটি দপ্তরে তাদের নিজস্ব নৈশপ্রহরী রয়েছে। চুরির এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের থানায় মামলা দায়ের করতে বলেছি। একই সাথে সকল দপ্তরের নৈশপ্রহরীদের সতর্ক করা হয়েছে।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102