বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :

বকশীগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ ॥ ফেরত যাচ্ছে রোগীরা

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
  • ৯১২ জন সংবাদটি পড়ছেন

জামালপুরঃ জামালপুরের কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ হওয়ায় ঔষুধ নিতে আসা রোগীরা ঔষুধ না নিয়েই ফেরত যাচ্ছে। গত ২০ জানুয়ারী থেকে বন্ধ রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো।
এসব ক্লিনিক থেকে ৩০ ধরনের ঔষুধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। শিশু চিকিৎসার পাশাপাশি গর্ভবতি মহিলাদের দেওয়া হয় বিশেষ সেবা। এছাড়া যক্ষ্মা রোগীদেরও নিয়মিত সেবা দেওয়া হয় ক্লিনিক গুলো থেকে।



টানা কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো বন্ধ থাকায় ভেঙ্গে পড়েছে তৃণমুলের স্বাস্থ্য সেবা। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী ও বয়স্ক মানুষসহ য´া রোগীরা পড়েছে চরম বিপাকে।
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ গৌতম রায় বাংলানিউজকে জানান, বকশীগঞ্জে ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপিরা তাদের চাকুরী রাজস্ব করণের দাবীতে গত ২০ জানুয়ারী থেকে এসব ক্লিনিক বন্ধ রেখেছে। এতে তৃণমুলে স্বাস্থ্য সেবা দিতে প্রচন্ড সমস্যা হচ্ছে।
গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে এসব কমিউনিটি ক্লিনিক প্রয়োজন অত্যাধিক দাবি করে সিভিল সার্জন আরও জানান, কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ থাকায় জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলো চাপ পড়ছে।
এদিকে বিভিন্ন ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায় ঔষুধ নিতে আসা রোগীরা অসন্তোষ নিয়ে ফেরত যাচ্ছে।
শনিবার বকশীগঞ্জ উপজেলার বিনোদেরচর, বাসকান্দা, মৌলভিপাড়া, গোয়ালগাওসহ বেশ কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে এসব দৃশ্যই দেখা যায়।
মালিচর মৌলভিপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা ৭০ বছর বয়সী সামসউদ্দিন জানান, হাতে টাহা নাই, টাহার কান্নে শহরে যাবার পাই না। এ ক্লিনিক বদ্দ থাহায় আমাগোর খুব মুশকিল হইতেছে।
নিজের শিশু বাচ্চা জন্য চিকিৎসা নিতে আসা রুবি বেগম জানান, আমার বেটির জ্বও হইছে। কয়েকদিন ধরে আমার বেটির অসুখ। বন্ধ থাহায় চিকিৎসা করতে পাইতেছি না।
কমিউনিটি ক্লিনিকে গর্ভবতী কোহিনুর বেগম জানান, আমার পত্তমবার চেক করাইছি, এহন আবার চেক করানো হব কিন্তু বদ্দ থাকায় আমি করবার পাই না। এছাড়া আমার আইরন বড়িও শেষ হইছে। এহন যে কি করি।
পরে সাইন বোর্ডে সাটানো মোবাইল নাম্বার দিয়ে ফোন দিলে মালিরচর মৌলভিপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপি খন্দকার ফারুক বাংলানিউজকে জানান, আমাদের চাকুরী রাজস্ব করণের দাবী নিয়ে জামালপুরের সকল সিএইচসিপি এখন ঢাকায় অবস্থান করছে। আমাদের কর্মসুচী অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারী থেকে আমরা অমরণ অনশনে অংশ নিয়েছি।

প্রসঙ্গত, ২০, ২১ ও ২২ জানুয়ারী কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো বন্ধ রেখে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নেয়।
২৩ ও ২৪ তারিখেও কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো বন্ধ রেখে জামালপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় জেলার সকল সিএইচসিপিরা।
২৭ তারিখ থেকে অদ্যবধি জামালপুরের সকল সিএইচসিপিরা ঢাকায় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছে বলে জানা যায়।

গত ১৮ জানুয়ারি সিএইচসিপি এসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় আহবায়ক শহিদুল ইসলাম ও প্রধান উপদেষ্টা কামাল সরকার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটে সাংবাদিক সম্মেলনে চাকুরী জাতীয়করণের জন্য কর্মবিরতিসহ অবস্থান কর্মসূচীর ঘোষণা দেন। প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলা ও জেলাতে অবস্থান কর্মসূচী শেষে ২৭ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে সিএইচসিপিরা। এরপরেও যদি দাবি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত না আসে তাহলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচী পালন করে আসছে সারা দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডাররা।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102