শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:১৫ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :
বকশীগঞ্জে বাংলাদেশ সেল ফোন রিপেয়ার ট্যাকনেশিয়ান এসোসিয়েশনের পরিচিতি সভা কামালপুর ইউনিয়নে মানবাধিকার কমিশনের কমিটির অনুমোদন বকশীগঞ্জে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ২টি বাল্য বিয়ে পন্ড, কনের বাবার জরিমানা বকশীগঞ্জে ট্রাকের চাপায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের মৃত্যু বকশীগঞ্জে বিট পুলিশিং সচেতনতায় পথসভা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে ফেব্রুয়ারীতেই পাচ্ছে করোনার টিকা নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে সবার সহযোগিতা চাই.. মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর বকশীগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ বকশীগঞ্জে মুজিববর্ষকে স্মরণীয় রাখতে বৃক্ষ স্মারক রোপণ বকশীগঞ্জে বাংলাদেশ সেল ফোন রিপেয়ার ট্যাকনেশিয়ান এসোসিয়েশনের আলোচনা সভা

গরুর চেয়ে মাংসের দাম বেশী হবে , তবে …

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০১৮
  • ১৭২৮ জন সংবাদটি পড়ছেন

সুলতানুল আরেফীন আদিত্য— কন্টিবিউটিং রিপোর্টার

১….
বকশীগন্জে গরুর মাংসের দাম বেশী , এটা নতুন কোন ঘটনা নয় । যেখানে পার্শ্ববর্তী এলাকা শ্রীবর্দী শেরপুর , জামালপুর বা কামালপুরেও ৩৬০ – ৪০০ টাকায় গরুর মাংস সীমাবদ্ধথাকে । আর সেখানে বকশীগন্জের মতো সচেতন শহরে গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকা যা সত্যিই ভাববার বিষয় । এতো গলাকাটা দাম তবুও প্রশাসন নির্বাক , কিন্ত কেন ?যদিও বাঙালীকে “মাছে ভাতে বাঙালী” বলা হয় । তবুও দেখা যায় , বাঙালীদের কোন অনুষ্ঠান , সেটা বিয়ে হোক , বা মজলিশ হোক অথবা সুন্নতে খাৎনা সেখানে গরুর গোশত না হলে যেন অপূর্নয় থাকে । এতেই বুঝা যায় , বাঙালী জাতির গোমাংস প্রীতি । তাহলে বকশীগন্জে মধ্যবিত্তের চেয়ে নিম্মবিত্তের সংখ্যা নেহায়াত কম , না । তাহলে নিম্মবিত্তকে কেন ঠকাচ্ছেন বকশীগন্জের গরুর মাংস ব্যাবসায়ীরা ।
২……
সাত সকালে ঘুম ভাঙল পাশের বাসার এক পিচ্চির
কান্নাকাটি শুনে । দরজা খুলে এগিয়ে দেখলাম , বাচ্চাটা তখনো কাঁদছে । আমি বাচ্চার মাকে বললাম , কি ব্যাপার , ও কাঁদছে কেন ? মহিলা প্রতিবেশী, সম্পর্কে ভাবী হয় । ভাবী বললেন , আর বইলেন না , দুইদিন যাবত বায়না ধরছে গোশত খাবে । আপনের ভাই রিকশা চালাই জানেন ই তো । দিনে দুইশো তিনশো টাকা খ্যাপ মারে । এহনের যে বাজার গরুর গোশত পাঁচশো টাকা করে কেমনে জুটামো কন তো ? পরে কাল রাতে ব্রয়লার মুরগী কিনছে , পোলা খাইনা । কি আর কমু আমরা গরীব মানুষ । গুছ কিনি খাওয়ার সাদ্যি থাকলে শিন ।
আমি চলে আসলাম , দাঁত ব্রাশ করতে করতে রোদে
বসলাম । সকালের রোদ শীত কালেই ভাল লাগে ।
গ্রীষ্মকালে না ।

৩…..
রফিক ফাউন্ডেশন এর এবারের শীতবস্ত্র বিতরনের
দায়িত্ব পাওয়ায় ,আমার গরীব দুখী নিম্মবিত্ত ফ্যামিলির হালচাল খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল ।
যে কারনে নিম্মবিত্ত ফ্যামিলির ভিতরের খবর খুব
কাছ থেকে দেখতে পেরেছি । সেদিন কম্বল বিতরনের লিষ্ট করতে গিয়েছিলাম , মেরুরচর গ্রামে । সে বাড়ীতে এক নিম্মবিত্ত পরিবারের এক মহিলা আমাকে দেখে
ভীষণ খুশি । কি মনে করে আসলেন । আমি বললাম , কিছুনা আপনাদের দেখতে আসছি ও ছবি তুলতে । গরীবের ছবি তুলে আপনারা কি করবেন ? আমি বললাম , আপনার জন্য কম্বলের ব্যবস্থা করছি ।
তিনি ভীষন খুশি । বলল , কবে দিবেন ? সোমবার
রাতেই পাবেন । আমি নিজে এসে দিয়ে যাব । কাউকে বলার দরকার নেই । আমি চলে আসলাম আরও কিছু লিষ্ট করতে । সোমবার যথারীতি সেই মহিলার বাসায় গেলাম কম্বল দিতে । মহিলা বলল , ভাইজান আমার একটা আব্দার আছে ? আমি একটু অবাক হয়ে , আবার কিসের আব্দার ? আজ গরীবের ,বাড়ীতে একমুড খেয়ে যাবেন ।আমি বললাম , আজ না । মহিলা বললেন , না খাইলে মনে করমু গরীবের বাসা দেহি ঘেন্না করেন । আরে কি যে বলেন না । আমি খেতে বসছি । সাধারনত ব্রয়লার মুরগী খাইনা তারপরেও অনেকটা আগ্রহ নিয়ে খাচ্ছি ।মহিলা খাবার দিতে দিতে বললেন , খুব হাউশ আছিল । আপনেরে গরুর গোছ দিয়ে খিলেমু গরুর গুছ যে মঙা আমরা কিনবের পামু , কন তো ? আমি বললাম , আমিই একদিন গরুর গোশত আনমু আপনি রান্না করে খাওয়াবেন , কেমন ।আমি কম্বল বিতরন ফুরফুরে মেজাজে বের হয়ে আসলাম ।

৪…
আমি সাধারনত গরুর গোশত ভুনা বা তরকারী দিয়ে যতোটা তৃপ্তিসহকারে ভাত খেতে পারি । মাছ দিয়েও ততটা না । এখন প্রশ্ন হলো , আমার মতো নিম্মবিত্ত ফ্যামিলিতেও অনেকে আছে যারা মাংস পছন্দ করেন । কিন্ত টাকার অভাব বা দাম বেশী হওয়ায় কিনে খেতে পারেনা । কেও কেও আছেন , কুরবানীতেই যা খায় । সারাবছর আর নাম গন্ধ নেই । তো যাইহোক মূল কথায় আসি , বকশীগন্জেই কেন গরুর গোশতের দাম বেশী । আজ বেশ কয়েকটা গরুর ব্যবসায়ীর সাথে কথা বললাম , একজনরে বললাম , আপনারা গরুর গোশতের দাম
বেশী নিচ্ছেন কেন ? কি আর কমু যা দিয়ে কিনি তাই ওঠেনা । আমি বললাম , পাথরের চর , কামালপুর ,
জামালপুর সহ সব জায়গাতেই ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা করে আপনারা নিচ্ছেন ৫০০ টাকা করে তাও ওঠেনা ।
তিনি বললেন , ওরা তো চোরাই গরু জবাই করে বর্ডার থেকে আসে । ঠ্যাং ভাঙা ল্যাঙুর নাই । আপনার কথা ঠিক আছে মানলাম , পাথরের চর বর্ডারের কাছে ওটা মানলাম । কিন্ত শেরপুর জামালপুর ঢাকা ওখানেও তো কম । ব্যবসায়ী চুপ করে আছে । আমি আজ যে গরু জবাই করছেন , কত দিয়ে কিনছেন ?
— ৪৮ হাজার টাকা ।
—কয় মণ গোশত হইছে ?
— সোয়া তিন মণ ।
— তারমানে , ১৩৫ কেজি ।
— কত করে বিক্রি করছেন ?
— ৪৮০ টাকা করে ।
— ৪৮০ করে হলে ১৩৫ কেজির দাম আসে ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা । গরুর চামড়া, বুড়ি বাদ ই দিলাম । তিনি বলেন অনেকেই কম দেই ।
— কত আর কম দেন । ১০-২০ টাকার নিচে না’তো । তিনি চুপ করে আছেন । এখন কথা হলো , একটা গরুতে যদি ১৫ হাজার টাকার ওপরে লাভ করে । তাহলে সাধারন মানুষের ওপর কতটা চাপ পড়ে । যেখানে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ১০ থেকে ১২ পার্সেন্ট লাভ করতে পারে তাই বলে এতো । গরীবের গলাকাটা ছাড়া আর কিছুই না ।
এখন বকশীগন্জের প্রশাসনিক কর্মকর্তা , উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সবাই কে আমি অনুরোধ করবো ।
এ ব্যাপারে যেন খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয় ।
আমি আপনার জন্য হয়তো এটা জটিল কোন বিষয় না ।
অন্তত নিম্মবিত্ত ফ্যামিলির দিকে তাকিয়ে যেন এর যেন একটা ফায়সালা গ্রহন করা হয় ।

গরুর চেয়ে মাংসের দাম বেশী হবে , তবে এটা যেন সবার অনুকূলে থাকে ।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102