মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৯:২২ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

বকশীগঞ্জে বীরমুক্তিযোদ্ধার একটি ঘরের জন্য অর্ধযুগের সংগ্রামের ব্যর্থ কাহিনী

স্টাফ রিপোর্টার, বকশীগঞ্জ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৩৩ জন সংবাদটি পড়ছেন

জামালপুরঃ বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান আলী, ১৯৬৯ সালের একেবারের শেষের দিকে যোগদেন ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) সদস্য হিসাবে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ঝাপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। টানা ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশের মানচিত্র আর পতকা পরিবর্তণ করতে পারলেও পরিবর্তণ হয়নি ভাগ্য।

একটি ঘরের জন্য ৬ বছর বা অর্ধযুগ যাবত সংগ্রাম করে আসছেন। ঘর চাইতে চাইতে সাংবাদিক দেখলেই রাগ আর ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিডিআর এর সদস্য হিসাবে চাকুরী করেন। ১৯৭৪ সালে চাকুরীরত অবস্থায় আসেন জামালপুরে। পরে সীমান্তবর্তী কামালপুর বিডিআরের বিওপি ক্যাম্পে বেশ কিছুদিন চাকুরীও করেন। বিওপির সামনেই একটি খাস জমিতে ঘর তোলেন মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান। সেখানেই স্ত্রীসহ বাস করতে শুরু করেন। এখানেই জন্ম নেয় তিন মেয়ে ও এক ছেলে। জামালপুরের শেষ পর্যন্ত শেষ হয় চাকুরী।

চা বিক্রি করছেন মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে

১ লক্ষ ৪৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার বাংলাদেশে জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নিজের জন্য জুটেনি ১ শতাংশ জমি আর একটি ঘর। থাকেন সরকারী খাস জমিতে ভাঙ্গা খুপড়ি ঘরে।

সম্প্রতি সেই খাস জমি থেকেও উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে এক প্রভাবশালী মহল। মেজর জলিলের নেতৃত্বে ৯নং সেক্টারের কপ্ট্যান নজেস অধীনে পুরো ৯ মাসই যুদ্ধ করেন মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান। পৈত্রিক বাড়ী তৎকালীন বরিশালের ভোলাতে। নদী ভাঙ্গনের ফলে অনেক আগেই ভীটেবাড়ী হারিয়েছেন। একটি ঘরের জন্য অর্ধযুগ যাবত ঘুরছেন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে। পাননি মাথা গুজবার একটা ছাঁদ।

স্ত্রী জাহানারা বেগম চাকুরী করেন ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের ভুমি অফিসের ঝাড়ুদার। ৩ মেয়ের মধ্যে ১ম মেয়ের স্বামী বর্তমানে দিন মজুর, ২য় মেয়ের স্বামী মারা যাওয়ায় এক সন্তান নিয়ে চলে এসেছেন পিতার ঘরে, ছোট মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছেন। ১ ছেলে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারী। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে প্রতিমাসে যা ভাতা পান তা দিয়েই বিধবা মেয়ে ও সন্তানসহ স্বামী স্ত্রীর টানাটানির সংসার।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এমন অবস্থায় রয়েছে তার জানা ছিল না। চলতি বছরের তার নামে একটি ঘর দেওয়া হবে।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102