শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English

বকশীগঞ্জে ভাগ্যে জুটেনি ঘর, আশায় বুক বেধে আছে দুই বোন

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ২০২৯ জন সংবাদটি পড়ছেন

বকশীগঞ্জঃ ভাইয়া একটু আসবেন আমাদের বাড়ী? পিছন থেকে মিষ্টিকণ্ঠে ডাক। বাড়ী থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুরে যখন সীমান্ত এলাকায় একটি সংবাদ সংগ্রহের কাজে ক্যামারায় ছবি তুলেতে ব্যস্ত তখনি এই ডাক।

এতই মিষ্টি, ছবি তোলা বাদ দিয়ে একটু এগিয়ে আসা ছাড়া আর উপায়ও ছিল না। পরে কাজ দ্রুত শেষ করে দুই বোনকে সাথে নিয়ে যাওয়া হয় বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের যদুরচর গ্রামের তাদের বাড়ীতে।

দুই বোন, ফারিহা ও ফারজানা। দুই বোন বয়সের মাঝে ১ বছরের পার্থক্য হলেও ছোট বোন বেশ লম্বা। প্রথম দেখাতেই যে কেউ ছোট বোনটাকে বড় মনে করবে।

ফারিহা ও ফারজানা একই সাথে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু ফারিহা পাশ করলেও ১ বিষয়ে অর্কতকার্য হয় ফারজানা। সামানে আবার ওই বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ফারিহার বাবা মোঃ ফরিদ, বাড়ীতে নেই,  অভাবের তাড়নায় মেয়েদের মুখে দু, মুঠো ভাত তোলে দেওয়ার জন্য ঢাকায় একটি বেসরকারী স্কুলে পিয়নের কাজ করেন। মা সেই স্কুলের পরিছন্নকর্মী। দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করলেও কপালে ভাত ছাড়া কিছুই জুটে না।

আদি নিবাস বাট্টাজোড় ইউনিয়নের পলাশতলা গ্রামে। কিন্তু অভাবের কারনে সমস্ত জমিজমা বিক্রি করে শ্বশুরবাড়ী সীমান্তবর্তী কামালপুরের যদুরচর গ্রামে এসেছেন।

মেয়ে দুটোকে নানার হেফাজতে রখে ফারিহা ও ফারজানার বাবা ও মা ঢাকা চলে গেছে। প্রতিমাসে দুই বোনের জন্য ১৫শত টাকা পাঠান। সেই টাকায় খাবার আবার সেই টাকায় পড়াশোনার খরচ। কলেজও বেশ দুরে, প্রতিদিন কলেজে আসতে ৪০ টাকা খরচও হয়। করোনার কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় সেই টাকা বেচে গেলেও ওই টাকার মধ্যেই দুই বোনের জীবন সংসার।

বহু কষ্টে ৬ শতক জমি কিনেছেন ফারিহা ও ফারজানার বাবা। ঘর তোলেছেন কিন্তু সেই ঘরটি অর্থের অভাবে মেরামত না করায় জড়ার্জীণ। থাকার উপযুগিও নয়। বৃষ্টির পানিতে সকল বই পুস্তক ভিজে যায়। দুর্যোগ ও নিজেদের নিরাপত্তার কারণে ভাঙ্গা কুটির ছেড়ে নানার ঘরে থাকে দুই বোন।

সম্প্রতি দরিদ্র অসহায়দের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় আসেপাশে ঘর দিলে আশায় বুক বাধে দুই বোন। কিন্তু আসে পাশে অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেলেও ঝুটেনি তাদের ভাগ্যে।

দুই বোনের প্রশ্ন, ভাইয়া কত গরীব হলে ঘর পাওয়া যায়? আমরা কি একটি ঘর পাব না?

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী দেওয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের ১০৮টি ঘর বরাদ্দ হয় বকশীগঞ্জ উপজেলাতে। এদের মধ্যে প্রায়ই ঘর ঝুটেছে প্রভাবশালীদের আত্মীয় স্বজনদের নামে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিস সুত্রে জানায়, এ পর্যন্ত ১০৮জন পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের দুর্যোগসহনশীল ঘর নির্মান করে দেওয়া হয়েছে। আরও ১৫২ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। এই তালিকাতেও তাদের নাম নেই।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102