শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English
শিরোনাম :

পানি বন্দি জেলার ১০ লক্ষ মানুষ, পানিতে ডুবে মৃত্যু দুই শিশু

Reporter Name
  • প্রকাশের সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২০
  • ১০৯ এ পর্যন্ত খবরটি পড়েছেন-

জামালপুরঃ জামালপুরের  আবারও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আবারও অবনতির পাশাপাশি  বাড়ছে দুর্ভোগ। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষ। বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে দুই শিশু।

জেলার প্রধান নদী যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ‍উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি ঝিনাই, জিঞ্জিরাম ও দশানী নদীর পানিও বাড়ছে। চলতি মাসেই যমুনার পানি ৩ বার বিপৎসীমা শতক ছড়িয়েছে।

২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে  ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ও জগন্নাথগঞ্জ ঘাট এলাকায় ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৩ সেন্টিামটার বৃদ্ধি পেয়ে জামালপুর ফেরীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আবু সাঈদ এ তথ্য জানান।

এদিকে অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় ৩য় দফা বন্যা আশংকা দেখা দিয়েছে। টানা বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে বন্যার্তরা । এ পর্যন্ত বন্যায়  প্রায় দশ লক্ষাধিক মানুষ প্রায় ২৫দিন যাবত পানি বন্দি হয়ে পরেছে।

চলমান তৃতীয় দফা বন্যায় জেলার ৭টি উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়নের ৬৭৭টি গ্রাম এখন পানির নিচে।

জামালপুরে ত্রান ও পুর্নবাসন অফিস সুত্রে জানা যায়, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা গুলির মধ্যে সবচেয়ে দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলা। এছাড়া অন্যান্য উপজেলাতেও বন্যার তান্ডব চলছেই।

বন্যায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দুই লক্ষ ১১ হাজার ৫০২ জন, মাদারগঞ্জ উপজেলায় এক লক্ষ ৯৮ হাজার ২৭০ জন,মেলান্দহ উপজেলায় এক লক্ষ ৫১ হাজার ৯১১ জন,সরিষাবাড়ী উপজেলায় এক লক্ষ ৪৭ হাজার ৮৮৭ জন, ইসলামপুর উপজেলায় এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৭৫০ জন, বকশীগঞ্জ উপজেলায় ৭৩ হাজার ৮৬৪ জন এবং জামালপুর সদর উপজেলায় ৬৭ হাজার ৫২৩ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

৭ উপজেলায় প্রায় ১০লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের সাথে দিন কাটাচ্ছে । জামালপুরে এ বছর বন্যায় পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত দুইজন শিশুসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবারের বন্যায় মৎস খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বকশীগঞ্জে দুই শিশু মারা যায়।

জেলা মৎস কর্মকর্তা কায়সার মুহাম্মদ মঈনুল হাসান জানান, এবারের বন্যায় জেলার মৎস জীবিদের প্রায় দশ কোটি টাকার মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

জামালপুর ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা মো.নায়েব আলী জানান, এবারের বন্যায় ৪১০ মেট্রিক টন চাল, ১৯ লাখ টাকা, ৪ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার,দুই লক্ষ টাকার শিশু খাদ্য ও দুই লক্ষ টাকার গো-খাদ্য এবং ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে আরো তিন হাজার ৪০৮ মেট্রিক টন চাল বিতরণ কাজ চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন...

এই বিভাগের আরো খবর
Copyright By- সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102