শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০৩:৪০ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English
শিরোনাম :

ফারমার্স ব্যাংক: চলছে আসামিদের জামিন তৎপরতা

স্টাফ রিপোর্টার, সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
  • প্রকাশের সময়ঃ বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০
  • ৮৪৭ এ পর্যন্ত খবরটি পড়েছেন-

ঢাকাঃ অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক পরিচালক রাশেদুল হক চিশতীকে নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন শর্ত সাপেক্ষে বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল আদালতে মাত্র ১০ দিনেই সবগুলো মামলায়ই জামিন হয়েছে মাহবুবুল হক চিশতীর ছেলে রাশেদুল হকের। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতাসহ নানা কারণে জামিনের তৎপরতা চালাচ্ছে আলোচিত এই অর্থ কেলেঙ্কারির আসামিরা।

ফারমার্স ব্যাংকের অডিট ও ইসি কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী এবং তার ছেলে ব্যাংকের সাবেক শেয়ার হোল্ডার রাশেদুল হক চিশতীসহ পরিবার-স্বজনদের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজন মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনিয়ম, জাল-জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এসব মামলায় ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল থেকে বাবুল চিশতী ও রাশেদ চিশতী কারাগারে আটক আছেন।

দুদক সুত্রে জানা গেছে, বাবুল চিশতি ও রাশেদ চিশতি ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে কৌশলে প্রায় ১৮শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব টাকায় কেনা স্থাবর সম্পদের বাজারমূল্য দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। আদালতের নির্দেশে এসব সম্পত্তি ইতিমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। আসামিরা জামিন পেলে জব্দ করা সম্পত্তি বেহাত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

দুর্নীতির এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাশেদ চিশতী তার বিরুদ্ধে থাকা ৫টি মামলাতেই নিম্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। ভার্চুয়াল আদালতের ফাঁকফোকরে তার জামিন হয়। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের মামলায় আদালত দুদকের বক্তব্য না শুনেই রশিদ চিশতি জামিন পান। তবে দুদক থেকে প্রতিটি মামলায় হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে়। ইতিমধ্যে টাঙ্গাইলে মামলায় তার জামিন স্থগিত। অপর একটি মামলায় আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত তার জামিন স্থগিত রয়েছে। অন্য তিনটি মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন হাইকোর্টে বহাল রাখা হয়েছে। তবে দুদক এরই মধ্যে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে।

দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসামিরা বিত্তশালী। করোনা পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল আদালতের সীমাবদ্ধতাকে তারা কাজে লাগিয়েছে। দুদকেরপক্ষ থেকে ইতিমধ্যে রাশেদুল হকের জামিন বাতিলে সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘এ ধরনের রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে যারা জড়িত তারা সবসময়ই খুব শক্তিশালী হয়। করোনা পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল আদালত চালু হওয়ার পরে তারা সেই সুযোগটা নিয়েছে। তবে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ এ বিষয়ে তৎপর আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি সঙ্গে যারা জড়িতরা জামিনে বের হয়ে যেতে নানা রকম চেষ্টা করছে এজন্য রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে সবসময়ই হুশিয়ার থাকতে হচ্ছে।’

২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া নতুন প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংককে (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক)। অনুমোদন নিয়ে কার্যক্রম শুরুর পরই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে ব্যাংকটি।

আস্থার সংকট তৈরি হলে আমানতকারীদের অর্থ তোলার চাপ বাড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতি । পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তারা। পরে বাবুল চিশতি ও রাশেদ চিশতিসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যাংকারের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে দুদক। অবশ্য কোনো মামলায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে আসামি করা হয়নি।

শেয়ার করুন...

এই বিভাগের আরো খবর
Copyright By- সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102