ইসলামপুরে সরকারি পুকুর শোভাবর্ধনের ‘অর্থোৎস’ রহস্যেঘেরা!

এম. কে. দোলন বিশ্বাস, জামালপুর থেকে : জামালপুরের ইসলামপুরে সরকারি ‘উপজেলা পুকুর’ এর শোভাবর্ধনের ‘অর্থোৎস’ নানাবিধ রহস্যেঘেরা। কেউ বলছেন, এ অর্থ কোথা হতে এলো? কেউ বলছেন, এত বড় ব্যয়ে সরকারি কাজের কোনো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নেই কেনো? আবার কেউ কেউ বলছেন, সম্ভবত ‘পুকুরে সাগর চুরি’ করতেই হয়তো পুকুরের শোভাবর্ধনের কাজের সব কিছুই গোপন করা হচ্ছে! এসব নানা জনের নানা কথা প্রতিদিনই চাউর হচ্ছে উপজেলাজুড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, একাধিকবার যোগাযোগ করলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কেউই মুখ খুলছেন পুকুরের শোভাবর্ধন প্রকল্পের বিষয়ে। এতে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা পাচ্ছেনা কোনো তথ্য, অন্যদিকে সচেতমন মহলেরও অজনা রয়েছে উপজেলা চত্বরের অভ্যন্তরে সরকারি ওই পুকুরটির শোভাবর্ধনের অর্থের বিষয়ে।

জানা যায়, শোভাবর্ধনের নামে চলছে উপজেলা চত্বরের অভ্যন্তরে পুকুরের উন্নয়ন কাজ। মাটি ধসে যাতে পুকুরটি শ্রীহীন না হয়, সেজন্য পুকুরের চার পাশে করা হচ্ছে মিনি পাইলিং। সহজে গোসলে নামতে কিংবা ‘পুকুরবিলাস’ করতে পুকুরের প্রবেশ পথে নির্মাণ করা হয়েছে কারুকাজে সিঁড়ি। খোসগল্পে অবসর সময় অতিবাহিত কিংবা পড়ন্ত বিকাল তথা সন্ধ্যা কিংবা চাঁদের জ্যোৎস্নায় মিতালির লোভে ‘শান্তিবিলাস’ করতে পুকুর পাড়ে ইট-টাইলসে নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক বসার আসন। পুকুরের শোভাবর্ধনকল্পে গ্রহণ করা হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। দির্ঘদিন ধরে প্রায় ডজনখানেক শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছে।

বিশাল ওই পুকুরের শোভাবর্ধনের কাজ পুরোদমে এসব নির্মাণ কাজ চললেও যেমন জানা যায়নি নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম। তেমনই পাওয়া যায়নি অর্থের উৎস কিংবা বারাদ্দের পরিমান। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ছাড়াই এতবড় সরকারি পুকুরে শোভাবর্ধনের নির্মাণ কাজ কীভাবে করা হচ্ছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে নানাবিধ প্রশ্ন। শোভাবর্ধনের অর্থের উৎস খোঁজে না পাওয়ায় ক্রমেই বাড়ছে ‘পুকুরে সাগর চুরি’ সন্দেহের বিষয়টি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কোনো লোকজনকে না দেখা গেলেও ওই পুকুর খননের পর প্রথম বারের মতো বিপুল অর্থ ব্যয়ে পুকুরের শোভাবর্ধনের কাজ তত্ত্বাবধান করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তার সিন্ধান্ত অনুযায়ী চলছে কাজ। তাকে মাঝে মধ্যেই কাজের নানা বিষয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের সাথে বকাবকি করতে দেখা যায়।

অনেক চেষ্ঠা করেও যখন ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ভাঙনকবলীত এ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি পুকুরের শোভাবর্ধনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবং অর্থের খোঁজ পাওয়ায় যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। শোভাবর্ধনের নামে যেনো ‘পুকুরে সাগর চুরি’ না ঘটে। এছাড়া অতিদ্রত যেনো কাজের বরাদ্দসহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও যাবতীয় তথ্যাবলি সংবলিত সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দেওয়া হয়, এমন দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের।

নিউজটি শেয়ার করুন..

     এই বিভাগের আরো খবর
ব্রেকিং নিউজঃ