শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :
মাদার তেরেসা গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন প্যানেল মেয়র সেলিনা আক্তার বকশীগঞ্জে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ধানের শীষের সাথে মিশে আছে যার জীবন, সেইতো আব্দুল্লাহ আল সাফি লিপন বকশীগঞ্জে রাতে চালু থাকা ড্রেজারে বালু উত্তোলন বন্ধ করলেন ওসি বকশীগঞ্জে পুজা মন্ডব প‌রিদর্শন ও নগদ অর্থ সহায়তা দিলেন মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর বকশীগঞ্জে মধ্যবয়সী নারী ধর্ষন, আটক-১ বকশীগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি বাতিল! দুই মামলায় রাশেদ চিশতির জামিন দেওয়ানগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানালেন অধ্যাপক সুরুজ্জামান

বকশীগঞ্জে সহায়কের মোড়কে গাইড বাণিজ্য-১।। প্রশাসন নিরব

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৭৯৭ জন সংবাদটি পড়ছেন

সুমন সওদাগরঃ পহেলা জানুয়ারি বই উৎসবে সরকারিভাবে দেয়া নতুন বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা যতটা উচ্ছ্বসিত হয়, ঠিক ততটাই শংকিত হন অভিভাবকরা। কারণ বিনামূল্যের বই পাওয়ার পরই স্কুলের শিক্ষকরা তাদেরকে ধরিয়ে দেন একগাদা গাইড বইয়ের তালিকা। বাধ্য হয়েই শিক্ষকদের পছন্দের তালিকার এসব নিষিদ্ধ বই কিনতে হয় অভিভাবকদের। চড়া দামের গাইড বই কিনতে গিয়ে হিমশিম খান তারা।

যদিও স্থানীয় বই বিক্রেতারা এসব গাইড গুলোকে গাইড বলতে নারাজ। এসব গাইড বই গুলোকে সহায়ক বলে বৈধ্য করা চেষ্টা করেন।

গাইড বই বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারীভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব বই বিক্রি হলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে।

সারা বকশীগঞ্জের চিত্রটা এমন। এখানকার মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল প্রধান এবং মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি মোটা অংকের টাকা নিয়ে নির্ধারিত প্রকাশনীর সহায়ক নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে লেখাপড়ার প্রকৃত মান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিয়ে তৈরি হচ্ছে শংকা।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শতাধিক টি কিন্ডারগার্টেনসহ মোট দুই শতাধিক টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ২লাখের বেশি নতুন বই প্রদান করা হয়। এছাড়া ৫৫টি উচ্চবিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ৩০ হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে  নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বুক স্টলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের সহায়ক ও নিষিদ্ধ গাইড বই কেনার জন্য নির্ধারিত প্রকাশনীর তালিকা ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। যদি কোন শিক্ষার্থী নির্ধারিত তালিকার বাইরে অন্যকোন প্রকাশনার গাইড ক্রয় করে তাহলে তাকে আবারো নতুন করে গাইড কিনতে বাধ্য করা হয়। বকশীগঞ্জ উপজেলার ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় ৫টি লাইব্রেরীর মাধ্যমে প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা মোটা অংকের টাকার  বিনিময়ে এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় পাঞ্জেরী, সংকলন, অনুপম, জুপিটার, আল ফাতাহ্ ও আল আরাফার মতো প্রকাশনীগুলোর নিষিদ্ধ গাইড বই। এদিকে এনসিটিবি প্রণীত ও অনুমোদিত পাঠ্যপুস্তকের বাইরে এসব সহায়ক ও নিষিদ্ধ গাইড বই মোটা অংকের বিনিময়ে কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

প্রসঙ্গত, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রতি বছর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নোট-গাইডসহ কারিকুলামের বাইরের বই পড়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও তা কোনও কাজে আসেনি। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কোনও ধরনের নোট ও গাইড বই ব্যবহার না করার নির্দেশনা রয়েছে অনেক আগে থেকেই। এছাড়া অন্যান্য ক্লাসের জন্য গত কয়েক বছর একই নির্দেশনা দিচ্ছে এনসিটিবি। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নোট ও গাইড নির্ভর হয়ে পড়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) নোট ও গাইড বইসহ কারিকুলামের বাইরের অতিরিক্ত বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না পড়ানোর জন্য নির্দেশনা জারি করে।

চলবে…

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102