বকশীগঞ্জে সন্ধ্যা নামলেই হাতি

স্টাফ রিপোর্টারঃ সন্ধ্যা নামলেই হাতি নেমে আসে জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে। এই হাতি আতংকে সীমান্তবর্তী প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারতীয় হাতির দল সীমান্তের ১০৮৯নং পিলারের নিকট দিয়ে প্রায় অর্ধ শতাধিক বন্য হাতির একটি দল জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের সাতানীপাড়া সীমান্ত দিয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
গত রবিবার থেকে বন্য হাতির দলটি ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছিল। এসব হাতি খাদ্যের সন্ধানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রবেশ করে।
হাতির প্রবেশ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে চরম ক্ষোভ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে তাদের গেট খোলে দিয়ে হাতিদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করায়। পরে তারা সেই গেটটি বন্ধ করে দেয়। সারারাত হাতির দল বাংলাদেশের জনবসতিতে তান্ডব শেষে ভোরের দিকে আবারও গেটিটি খোলে দেয় বিএসএফ।
বন্যহাতির প্রবেশের কারণে বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী কামালপুর ইউনিয়নের সোমনাথপাড়া, গাঢ়োপাড়া, টিলাপাড়া, যদুরচর, সাতানীপাড়া ও মীর্ধাপাড়াসহ ৬ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নির্ঘুম রাত যাপনসহ হাতি আতংকে রাত কাটাচ্ছেন।


প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, ওইদিন বিকালে ভারতীয় বন্য হাতির দলটি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের লোকালয়ে প্রবেশ করে। এদিকে হাতির তা-ব ঠেকাতে স্থানীয় লোকজন পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় তারা জেনারেটর এর মাধ্যমে আলোক সজ্জা করে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্ত তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় হাতি তাড়ানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল, সোলায়মান, রাশেদসহ অনেকেই জানান, হাতির দল তাড়ানোর জন্য আমাদের কোন প্রস্তুতি নেই। কিছু বিদ্যুতিক তার ছড়ানো হয়েছে কিন্তু বিদ্যুতের অভাবেই সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এছাড়া একটি জেনারেটর থাকলেও জ্বালানির অভাবে সেটিও অকর্যকার অবস্থায় রয়েছে।
এদিকের সর্দার মিয়া, সবুজ মিয়া, খালেকসহ অধিকাংশ গ্রামবাসীরা জানান, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী গেট খোলার কারণেই এইসব হাতি বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
হাতি তাড়ানোর প্রস্তুতি সম্পর্কে এলাকাবাসী জানান, স্থানীয়ভাবে কেরাসিন তেলের মাধ্যমে গোলক, টিন দিয়ে শব্দ করে হাতি তাড়ানো হয়ে থাকলেও বর্তমানের এই পদ্ধতিও অকর্যকর হয়েছে। এখন হাতি গুলো আগুন দেখলেই আরও হিংস্র হয়ে তেড়ে আসে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেই হাতি তাড়ানোড় কোন পদক্ষপও নেই।
স্থানীয় বিজিবি সদস্যরা হাতির থেকে জানমাল রক্ষার্থে ও এলাকায় আইন শৃঙ্খলা সুষ্ঠু রাখতে টহল জোড়দার করেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বন্যহাতির দল বাংলাদেশ ত্যাগ করে বলে বিজিবির সুত্রে জানাগেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

     এই বিভাগের আরো খবর
ব্রেকিং নিউজঃ