Blog Image

বকশীগঞ্জে ভয়ংকর প্রতারক চক্র সক্রিয়-৩, এসপির নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা আদায়

স্টাফ রিপোর্টারঃ জামালপুরের বকশীগঞ্জে ভয়ংকর প্রতারক চক্র সক্রিয়। এই চক্রের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সাধারন মানুষ, পুলিশ, সাংবাদিকসহ জনপ্রতিনিধিরাও।
মানুষকে আটক রেখে টাকা আদায়, মিথ্যা মামলা দিয়ে আপোষ মিমাংসার কথা বলে টাকা আদায়, চাকুরীর কথা বলে টাকা আদায়, বাল্য বিয়ে দিয়ে টাকা আদায়, মামলার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় ও মিথ্যা স্বাক্ষীর বিনিময়ে টাকা আদায়ই হলো এদের মুল কাজ।
এ চক্রের সাথে মুলহোতা হচ্ছেন বকশীগঞ্জের একজন সাংবাদিক। এই সাংবাদিকতা পেশাকে পুজি করে একের পর অপকর্ম করে যাচ্ছেন।
সাথে যোগ হয়েছে তার খালাতো ভাই, গ্রামের আরও কয়েকজনকে তিনি সাংবাদিক বানিয়ে চক্রের পরিধি বৃদিধ করেছেন। পুলিশ প্রশাসনের নাকের একমাত্র সাংবাদিকতার দোহাই দিয়ে একের পর এক অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন। এদের এ ধরনের কার্যক্রমে পুরো বকশীগঞ্জ সাংবাদিক সমাজ আজ বিব্রত।

এবার এই প্রতারক চক্র জামালপুর জেলার সবচেয়ে সৎ ও আদর্শবান পুলিশ সুপারের নামও ভাঙ্গিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানাগেছে। এই সব তথ্য সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জের কাছে পৌছিলে, প্রতারক চক্রের সদস্যরা জামালপুর জেলা পরিষদের সদস্য ও শ্রমিক নেতা জয়নাল আবেদীনের মাধ্যমে অর্ধেক টাকা দিয়ে ক্ষমাও চেয়েছে।


জানা যায়, চলতি বছর ৬ জুন কামালের বার্তী তদন্তের কেন্দ্রে কর্মরত পুলিশের উপ-সহকারী পরির্দশক (এএসআই) ফেরদৌস প্রতারনা কবলে পড়ে।

এ সময় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মেয়েকে দিয়ে পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে জামালপুর পুলিশ সুপার বরাবর একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করায় ওই প্রতারক চক্র। তাৎক্ষনিকভাবে কর্মরত ওই এএসআইকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবু সুফিয়ান।

তদন্ত চলাকালেই তদন্ত কমিটিকে জানানো হয় যে, প্রতারক চক্রের মুল হোতা সাংবাদিক মাসুদ আল হাসান, মেরুরচর গ্রামের হাফেজ উদ্দিন ও নতুন করে সাংবাদিক দাবীকারী আলমাসের প্রলোভনে পড়ে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তদন্ত কমিটি সামনেই  তিনি অভিযোগ তুলে নেন। এবং তদন্ত কমিটিকে জানান যে, এই ঘটনায় পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেনকে দিতে হবে, এই কথা বলে ওই মহিলার নিকট ৩ দফায় ৩৪ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা আত্মসাৎ করে।

পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ তুলে নিলেও ভুক্তভোগী মহিলার টাকা ফেরত ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে।

এদিকে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ফলে একের পর এক মানুষে নানা ধরনের হয়রানী করেই যাচ্ছে। সম্প্রতি ওই একই প্রতারক চক্র ৪ লক্ষ টাকা চাঁদা না পেয়ে মেরুরচর ইউনিয়নের চিনারচর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে কলেজছাত্র মোস্তাইন বিল্লাল রনিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসিয়ে ২৫দিন জেল হাজতে থাকার পর মুক্তি পেয়েছে।

একের পর এক প্রতারক চক্রটি এলাকায় অপরাধ করে পার পাওয়ায় মেরুরচর ইউনিয়নের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এই চক্রের ভয়ে মেরুরচর তথা পুরো বকশীগঞ্জের মানুষ কথা বলেতেই ভয় পায়। যারা বলেছে তাদের কপালে জুটেছে মিথ্যা মামলা। এই প্রতারক চক্রকে দ্রুত আইনের আওয়তায় আনার জন্য জোর দাবি করে ইতিমধ্যেই বকশীগঞ্জ বাজারে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

মেরুরচর এলাকার মানুষ ওই প্রতারক চক্রের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জেহাদ দ্রুত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।

এই বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) হযরত আলী জানান, প্রতারনার শিকার ভোক্তভুগি মহিলা থানায় অভিযোগ দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

এদিকে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশের সম্মান ক্ষুন্ন করেছে প্রতারকচক্র। তাই ব্যবস্থা পুলিশকে নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

[custom_share_link]

এ ধরনের আরও খবর