শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৩৪ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :
জুমের মাধ্যমে কামালপুর মুক্ত দিবস পালিত শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় চির বিদায় নিলেন আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন আবুল কালাম আজাদ মেডিসিনের মৃত্যু ॥ নুর মোহাম্মদের শোক আবুল কালাম মেডিসিনের মৃত্যুতে এমপি আবুল কালাম আজাদের শোক কামালপুর মুক্ত দিবসের সকল অনুষ্ঠান বাতিল জামালপুরে জেলা আ’লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু বকশীগঞ্জে অবৈধ ৪ ড্রেজারে আগুন, পাইপ ধ্বংস জামালপুরে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করলেন ৪৫ জন বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবে অতিরিক্ত সচিব শাওলী সুমনের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল বক‌শীগঞ্জ উপ‌জেলা বিএন‌পি`র আহ্বায়ক ক‌মি‌টির প‌রি‌চি‌তি সভা

এমপি আবুল কালাম আজাদের নিকট প্রাণের দাবী, বকশীগঞ্জ কে.ইউ কলেজে অনার্স কোর্স চালু করণ

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ১০১০ জন সংবাদটি পড়ছেন

গোলাম রাব্বানী নাদিমঃ জামালপুরের সদরের ৩টি কলেজসহ দেওয়ানগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, ইসলামপুরে প্রতিটি উপজেলায় প্রত্যেকটি সরকারী ও বেসরকারী কলেজের তাদের অনার্স (সম্মান) কোর্স চালু করা হয়েছে। কিন্তু একমাত্র বকশীগঞ্জে প্রায় ৪টি কলেজ থাকা স্বত্বেও বকশীগঞ্জে কোন কলেজে অর্নাস কোর্স চালু হয়নি। ফলে উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ এলাকার মানুষ।
বকশীগঞ্জ তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব আবুল কালাম আজাদের নিকট সর্বস্তরের মানুষের একমাত্র দাবী বকশীগঞ্জ কিয়ামত উল্লাহ কলেজে অর্নাস কোর্স চালু করণ।
উপজেলা পর্যায়ে সর্ব প্রথম অর্নাস কোর্স চালু হয় সরিষাবাড়ীতে। সেখানে বাংলা, সমাজ বিজ্ঞান ও ব্যবসায়ী শিক্ষামহ ৪টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে প্রায় ১ যুগ আগে।
ইসলামপুর কলেজে ২০১৬ সালে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। দেওয়ানগঞ্জ একেএম মেমোরিয়াল কলেজ ও দেওয়ানগঞ্জ কামিল মাদ্রাসাতেও অনার্স কোর্স চালু আছে। জেলার অন্যান্য উপজেলা পর্যায়ে অত্যন্ত একটি করে কলেজে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে।
পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী, কলেজ অবকাঠামো ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা স্বত্বেও বকশীগঞ্জ কিয়ামত উল্লাহ কলেজে অনার্স কোর্স চালু করা হয়নি।
১৯৮৭ সালে জাতীয়করণের তকমা লাগা বকশীগঞ্জ কিয়ামত উল্লাহ প্রতিষ্ঠা পায় ১৯৭২ সালে। একটি কলেজ যাত্রাকালে কমপক্ষে ৫২টি পদ সৃষ্টি করার বিধান থাকলেও মাত্র ২১টি পদ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। মাত্র ১৪ বছরের মাথায় তৎকালীন মন্ত্রী এম. সাত্তারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়।
এরপর থেকে অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন হলেও নতুন কোন পদ সৃষ্টি করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ ফলে ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ বা বদলী সম্ভব হয়নি।এখন পর্যন্ত সেই ২১টি পদ নিয়ে সন্তোষ্ট থাকতে হচ্ছে।
এছাড়া বর্তমানে কলেজের শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। উপাধ্যক্ষ, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী পদই সৃষ্টি করা হয়নি। এছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ইংরেজী, গণিত, প্রাণিবিদ্যা, দর্শণ, আইসিটি বিষয়ে প্রভাষক শুন্য রয়েছে।প্রর্দশকের পদ থাকলেও সেটিও শুন্য।শিক্ষক ডারমেটরি এখন পরিত্যক্ত। কর্মচারীদের মধ্যে ২১টি পদ শুন্য রয়েছে।
শিক্ষকদের কোন অবাসন ব্যবস্থা নেই। সে কারণে নতুন যোগদান করেই একমাত্র অবাসন সমস্যার কারণেই দ্রুত বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যায়। নতুন পদ সৃষ্টি করে ও শুন্যপদে শিক্ষকের ব্যবস্থাসহ শিক্ষকদের বাসস্থান নিশ্চিত করণে এখন পর্যন্ত কার্যকরী কোন পদক্ষেপও নেওয়ার লক্ষণও নেই।
বর্তমানে বকশীগঞ্জ কিয়ামত উল্লাহ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রীর শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন। আসছে একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি এ কলেজে আসন সংখ্যা ৮১০ জন। এর মধ্যে মানবিক শাখায় ৪১০, বিজ্ঞান শাখায় ২০০ ও বাণিজ্য শাখায় আরও ২০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
এ বিষয়ে ডিগ্রীতে পড়া শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, আমার অনার্সের পড়াশোনা করার খুবই ইচ্ছা ছিল, কিন্তু অর্থিক সংকটের কারণে জামালপুর বা অন্য জায়গায় পড়াশোনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় বিধায় বাধ্য হয়েই আমাকে ডিগ্রীতে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।
অপর শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন জানান, আমি এসএসসিতে এ প্লাস ও এইচএসসিতে রেজল্ট এ ছিল। আমার অনার্সে পড়া খুবই ইচ্ছা ছিল কিন্তু অর্থিক সংকটের কারণে আমাকে বাধ্য হয়েই ডিগ্রীতে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। আমাদের এ কলেজে অর্নাস কোর্স চালু থাকলে আমি অনার্সে পড়াশোনা করতে পারতাম।
প্রতিবছর ভর্তির সময় নির্ধারিত আসনের চেয়ে দ্বিগুণ শিক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়ে। কিন্তু নির্ধারিত আসনের চেয়ে ভর্তি করানো সম্ভব হয় না বলেও কলেজ সুত্রে জানাগেছে।
এ বিষয়ে বিএসএস ক্যাডার থেকে আসা এই করেজের প্রথম অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ ইদ্রিস আলী জানান, একটি কলেজে অর্নাস কোর্স চালু করতে প্রতিটি বিভাগে সাধারনত ৫জন শিক্ষক থাকতে হয় কিন্তু সরকারী কলেজ হওয়ায় কোন বিভাগের ২জনের বেশি শিক্ষক নেই। অনেক পদই রয়েছে শুন্য।
অর্নাস কোর্স চালু করতে হলে প্রথমেই বিভাগ পর্যায়ে পদ সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারী কলেজ হিসাবে পদ সংখ্যা বৃদ্ধি করা জটিল হলেও সৎইচ্ছা থাকলে মন্ত্রণালয় থেকে পদ সংখ্যা বৃদ্ধি করতে কঠিন কিছু নয়। আর পদ বৃদ্ধি পেলে অনার্স কোর্স চালু করা খুব সহজ হয়ে যাবে।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102