মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :
বকশীগঞ্জে মডেল মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন যে কারণে স্থগিত হল বকশীগঞ্জে আ’লীগের বর্ধিতসভা জামালপুর পৌরসভা নির্বাচনঃ প্রার্থী হিসাবে অধ্যাপক সুরুজ্জামানের পরিচিতি ভাষা সৈনিক এডভোকেট আশরাফ হোসেনের ইন্তেকাল বকশীগঞ্জে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা না থাকায় দুর্ভোগ চরমে বকশীগঞ্জে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি রুখতে বাজার মনিটরিংয়ে ইউএনও জনগনকে থানায় যেতে হবে না, পুলিশ যাবে জনগনের কাছে.. সীমা রানী সরকার জামালপুর জেলা আ’লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা বকশীগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর, জেলা আ’লীগের ৩ সদস্যের তদন্ত টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নুর মোহাম্মদের পদত্যাগ পত্র গ্রহন করে নাই জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগ

বন্যার তান্ডব ॥ দীর্ঘপথে পায়ে হাটা ছাড়া বিকল্প নেই

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৯
  • ৩৯০ জন সংবাদটি পড়ছেন

রোকনুজ্জামান সবুজঃ দীর্ঘপথে পায়ে হাটা ছাড়া বিকল্প নেই অসংখ্য খানা খন্দক জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দাবাড়ি সড়কের কান্দিরগ্রাম বটতলায় বাঁশের সাঁকো! শুধু কান্দির গ্রামেই বাঁশের সাঁকো নয়। দেওয়ানগঞ্জের কান্দিরগ্রাম, কাঠারবিল, ঝালোরচর, সবুজপুর, মিতালি বাজার, তারাটিয়া, গোপালপুর, সানন্দবাড়ি ও জলব্রীজ এলাকায় রয়েছে বাঁশের সাঁকো। ওইসব খানা খন্দক দিয়ে এখনো বন্যার পানি বইতে থাকায় দেওয়ানগঞ্জের অধিকাংশ সড়কের পায়ে হাটা ছাড়া বিকল্পনেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জানা গেছে, জামালপুরে এবছর যমুনায় বন্যার বিপদ সীমার ১৬৬ সেন্টিটিার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। স্মরণকালের সবচেয়ে এই ভয়াবহ বন্যার পানি ইতিমধ্যেই নদী নালা আর খাল-বিলে নেমে গেছে। সম্প্রতি বন্যার পানি নামতেই ফুটে উঠেছে বন্যার ভয়াবহতা। এ বছরের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দাবাড়ি সড়কের বাহাদুরাবাদ থেকে কাঠারবিল ও তারাটিয়া হয়ে সানন্দাবাড়ি পর্যন্ত পাকা সড়কটির যোগাযোগ সম্পুর্ণরুপে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এপথে পথচারীদের অন্তত: ১০টি বাশের সাঁকে পাড়ি দিতে হয়। দেওয়ানগঞ্জের সানন্দাবাড়ি থেকে মৌলভীরচর পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়ক এবং ঝালোরচর থেকে কাদেরের মোড় হয়ে গোপালপুর পর্যন্ত অন্তত: ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দাবাড়ি সড়কে গত শনিবার সরেজমিনে ঘুরে জানাগেছে, বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কান্দিরগ্রাম এলাকায় পাকা সড়ক ভেঙ্গে কয়েকটি খানা খন্দক আর একটি ছোট খাল বেড়িয়েছে। কান্দিরগ্রাম বটতলায় নতুন খালের উপর অস্থায়ীভাবে বাঁশের সাঁকো নির্মান করেছেন স্থানীয়রা। সেখানে পথচারীদের নিকট সাঁকো পাড়ি দিতে ৫টাকা করে ভাড়া নিচ্ছেন সাঁকো নির্মাণারীরা। সেদিন ওই সাঁকোর পাশে কান্দিরগ্রাম বটতলায় রাস্তার উপর সারিবদ্ধ ভাবে দাড়িয়ে ছিল ২০টি ব্যটারী চালিত অটো রিক্সা। ওইসব অটো রিক্সা ও ভাঙ্গা রাস্তার ছবি তুলতেই সাংবাদিকের কাছে এসে অটো রিক্সা চালক মো.শাহীন ও মো.সোহেল জানান, তাদের সকলের বাড়ী দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কান্দির গ্রাম ও কাঠারবিল এলাকায়। তারা এবছরের ভয়াবহ বন্যার আগে দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দাবাড়ি সড়কে গাড়ী চালিয়ে দৈনিক অন্তত: এক হাজার টাকা আয় করতেন। এখন পুুরো রাস্তাই ভাঙ্গা। তারা কান্দিরগ্রাম থেকে কাঠারবিল পর্যন্ত ভাঙ্গা রাস্তাটির উপরেই কোন রকমে গাড়ী চালিয়ে দৈনিক দুইশ থেকে তিনশ টাকা আয় করে পবিারের সকলকে নিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। তারাটিয়া এলাকার অটো রিক্সা চালাক দুলাল মিয়া জানান, দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দাবাড়ি সড়কের ঝালোরচর থেকে কাদেরের মোড় হয়ে গোপালপুর পর্যন্ত অন্তত: ৭ কিলো মিটার দীর্ঘ সড়কটি বন্যার পানির তীব্র ¯্রােতে ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্চিন্ন হয়েছে। এ পথেও পায়ে হাঁটা ছাড়া কোন প্রকার যানবাহন চালানো সম্ভব না। তাই তারা বন্যার সময় নৌকা দিয়ে তাদের অটো রিক্সা কান্দির গ্রাম এনেছেন। তারা স্বল্প দৈর্ঘের এই সড়কেই অটো রিক্সা চালিয়ে যা আয় করেন তাই দিয়ে কোন রকমে পবিারের সদস্যদের জীবন বাঁচান। একই দিন কাঠারবিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানেও কান্দির গ্রামের মতই দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দাবাড়ি সড়কটি ভেঙ্গে রয়েছে। সেখানে থাকা পথচারী শ্রী গোবিন্দ লাল বলেন, মৌলভী বাজার থেকে সানন্দবাড়ী হয়ে পায়ে হেঁটে তিনি শুক্রবার বিকালে কাঠারবিল এলাকায় এসেছেন। এই দীর্ঘপথে পায়ে হাটা ছাড়া আর কোন বিকল্প নাই। এপতে রিক্সা তো দুরের কথতা বাইসাইকেলও চালানো সম্ভবনা। কাঠারবিল এলাকার আটো রিক্সা চালক দারোগ আলী জানান, দেওয়ানগঞ্জ-সানন্দাবাড়ি সড়কের কাঠারবিল, ঝালোরচর, সবুজপুর, মিতালি বাজার, তারাটিয়া ও জলব্রীজ এলাকা সমূহেও রয়েছে ৪টি বাঁশের সাঁকো এবং অসংখ্য ভাঙ্গা আর খানা খন্দক। এসব ভাঙ্গা আর খানা খন্দক দিয়ে এখনো বন্যার পানি বইছে। এজন্য এই রাস্তায় কোন যানবাহন চলেনা। এলাকার মানুষ এপথে মাথায় করে মালামাল টানছে। তবে স্থানীয়রা জলব্রীজ এলাকার ভাঙ্গা সড়কের মেরামত কাজ শুরু করেছেন। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান, এবারের বন্যায় দেওয়ানগঞ্জের মোট ১৬৩টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় দেওয়ানগঞ্জের ৩০০ কিলোটিার পাকা সড়ক এবং ৩০টি ব্রীজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও যমুনা নদী ভাংগনে ২৮০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সমূহের যোগাযোগ আজও বিচ্ছিন্ন থাকলেও তা সংস্কারের জন্য কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
রোকনুজ্জামান সবুজ
ইসলামপুর জামালপুর।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102