Blog Image

অবৈধ নিয়োগ ও দুর্নীতির অভিযোগে জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে মাউশি’র শোকজ

জামালপুর প্রতিনিধি
অবৈধ নিয়োগ ও দুর্নীতির অভিযোগে জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম তফিকুল ইসলাম কে শোকজ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

কলেজটির উপাধ্যক্ষ মোঃ সুরুজ্জামান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ ও দুর্নীতির অভিযোগ করলে সেই অভিযোগের দু’দফা তদন্ত শেষে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই শোকজ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

অধ্যক্ষ এ কে এম তফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে ও তথ্য গোপন করে চাকরি নেয়া, জ্যেষ্ঠ না হওয়া সত্বেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন, ভূঁয়া নিবন্ধন সনদ এর মাধ্যমে নিয়োগদান, ২০১৫ সালে বিধিবর্হিভূত ভাবে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান এবং সরকারি পরিপত্র বর্হিভূতভাবে পরীক্ষার আনুতোষিক বন্টন, তথ্য জালিয়াতি করে এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার এমপিও সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে এবং তার এমপিও কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না এই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফারহানা আক্তারের স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।
জানা গেছে, ১৮/০৬/২০১৯ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্মারক নং ৩৭.০০.০০০০.০৭৪. ০২৭..০০৩.০০৭.২০১০.১৬২ তাং ১৮জুন’২০১৯ইং পত্রমুলে প্রেরিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসাবেই মাউশি অধ্যক্ষকে এই শোকজ করেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ সুরুজ্জামান ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে অবৈধ নিয়োগ, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি উল্লেখ করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগ পত্রের সাথে সংযুক্ত তথ্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে অভিযোগটির তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশন,প্রধান কার্যালয় এর পত্রঃ০০. ০১.০০০০. ৬১১.২৬.০০৩.১৮.১৭৯২৪ তারিখঃ ৩১ মে’২০১৮ খ্রি.পত্রের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়। মাউশি বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্তে অধ্যক্ষ এ কে এম তফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। বিগত ১৮ মার্চ’২০১৯ তারিখে স্মারক নংঃ ৩৭.০২.০০০০.১০৫.৩১.০৫৮.১৯/৯২৩ পত্র মূলে উক্ত তদন্ত প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার মন্তব্যসহ মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করা হয়। মাউশির সুপারিশের আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিগত ১৮/০৬/২০১৯ তারিখে শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষসহ তিনজন শিক্ষকের এমপিও সাময়িক স্থগিত করে কেন তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না মর্মে শোকজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসাবেই অধ্যক্ষকে এই শোকজ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে
অধ্যক্ষ এ কে এম তফিকুল ইসলাম জানান, অধিদপ্তর থেকে পাঠানো কারণ দর্শানোর চিঠি পেয়েছি। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আমি লিখিত ভাবে জবাব দেব।#

নিউজটি শেয়ার করুন..

[custom_share_link]

এ ধরনের আরও খবর