ওসি এতই খারাপ!

গোলাম রাব্বানী নাদিমঃ রাত ২.৩০ গভীর ঘুম। হঠাৎ টিনের চালে ধুম ধুম শব্দ।
মোবাইল হাতে দ্রুত থানায় ফোন, ওসি সাহেব আমার চালে কে, যেন ঢিল ছুড়ছে, ১৫ মিনিটের মধ্যেই পুপুপু শব্দে পুলিশের গাড়ী।
রাত সাড়ে ১২টা, হাতে ফোন নিয়ে ওসি সাহেব, এখানে জুয়া খেলা হচ্ছে ১০ মিনিটের মধ্যেই পুলিশের গাড়ী হাজির।
রাত ৩টা গাড়ী থেকে নেমে রওনা কয়েকজন এসে ঘিরে ধরল, হাতে যা ছিল সবই নিয়ে দৌড়, ওসি সাহেব ঘুম ছেড়ে দৌড়।
সামাজিক, রাজনৈতিক নিরাপত্তা সবই যখন পুলিশ হাতে তাতে পুলিশ কেন এত খারাপ!
হ্যাঁ আছে, সব পেশায় কিছু খারাপ লোক আছে, পুলিশেও আছে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।

ব্যক্তিগতভাবে আমিও জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানার একজন খারাপ ওসির পাল্লায় পড়েছিলাম। ওসি কিছু টাকা ও নিজের পদ টিকাতে এক রাজাকারের কথা মোতাবেক ২টি মিথ্যা মামলায় আসামী বানিয়েছিল। শারীরিকভাবে নির্যাতনের ফলে ৬০ দিন স্বাভাবিকভাবে হাটতেই পারি নাই। মামলার কারণে ৩মাস হাজতবাসও হয়েছিল। ওই মানুষটাকে আমি মনে প্রাণে ঘৃণা করি কিন্তু পুলিশ ও ওসিকে নয়।

সম্প্রতি সোনাগাজী থানার পুলিশের ওসি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। বিভিন্ন মিডিয়া প্রচার যন্ত্রে এই দৃশ্য এমনভাবে দেখানো হলো এই পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিদের মধ্যে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন অন্যতম।

বাংলাভাই, শায়াখ আব্দুর রহমানসহ জঙ্গিদের আটকের পর এমন দৃশ্যই দেখানো হয়েছে । সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) হিরো সাজতে চেয়েছিলেন মোবাইলে ভিডিওটি আপলোড করে। এই ভিডিও মাধ্যমে হয়তো ঘটনার সাথে সর্ম্পক্তদের মুখোশ উন্মোচন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেকেন্ডের মধ্যে গণেষ যে ভাবে পাল্টে যাবে তিনি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি।
সেতো কোন বোমা হামলা করেনি, অথবা কাউকে হত্যাও করেনি। তারপরেও দেশের মিডিয়া যেভাবে দেখালো তা দেখলে মনেহয় জঙ্গিদের চেয়েও খারাপ।

যে পুলিশ রাতদিন আমাদের সেবা করে যাচ্ছে, আমাদের বিপদ আপদে সবসময় এগিয়ে আসছে তাদের একটু ভুলটাকে অপরাধ বানিয়ে জঙ্গিদের মত আচারণ কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না।
ওসি মোয়াজ্জেম কি এতই খারাপ!

নিউজটি শেয়ার করুন..

     এই বিভাগের আরো খবর
ব্রেকিং নিউজঃ