শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ১১:১০ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

সাংবাদিক নির্যাতনের ২ বছর পুর্তি ॥ এখনো আতংক কাটেনি সাংবাদিক মুসার পরিবারের

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১২ মে, ২০১৯
  • ৯১১ জন সংবাদটি পড়ছেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সেদিন ছিল ১২ মে। ধর্মীয় দিক থেকে মুসলিম জাহানের মহাপবিত্র রজনী শবে বরাত। এই দিনে আল্লাহ ও তার ফেরাস্তা দ্বারা বান্দার ভাগ্য নির্ধারণ করেন।
রাতে ৩ মেয়ে ১ ছেলে ও স্ত্রীর সাথে সাথে খাওয়া দাওয়া শেষে পবিত্র কোরআন পড়ছিলেন সাংবাদিক মুসা আলী। এই সময় হঠাৎ করেই এসআই হান্নানের নেতৃত্বে পুলিশের ১০/১২জন সদস্য হাজির।
সেখানেই বলে ফেললেন ওসি সাহেব ডেকেছে। করার কিছু নেই, যেতেই হবে, পরিবেশ এমনটাই না গেলে জোড় করে ধরে নিয়ে যাবে।
কি আর করার? পুলিশের সাথে থানায় যেতে বাধ্য হয় সাংবাদিক মুসা।
কে এই মুসাঃ ৩০ বছর যাবত সাংবাদিক পেশার সাথে জড়িত রয়েছে মুসা। পেশাগত কারণে সরাসরি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত না হলেও পরিবারসহ আওয়ামীলীগের একানিষ্ঠ ভক্ত একটি পরিবার। বকশীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত সামছের আলীর ছেলে এই মুসা। ১৯৯০ সাল থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত মুসা।


এরপর থানায় নাটকের পর নাটক। পরদিন বাবুল চিশতি নিজে বাদী হয়ে তৎকালীন সবচেয়ে আলোচিত ৫৭ ধারায় একটি মামলা দিয়ে ঢাকা প্রতিদিনের সম্পাদক মঞ্জুরুল বারী নয়ন ও প্রতিবেদক এ কে ফেরদৌস ও মুসাকে আসামী করে জেল হাজতে প্রেরণ করে ক্ষান্ত হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদের নামে রিমান্ডে এনেও চালানো হয় নির্যাতন।

সময়টি ছিল এমন বাবুল চিশতির হুকুমে বকশীগঞ্জে গাছের পাতাও নড়াচড়া করতে ভয় পেতো।
কি অপরাধ ছিল সাংবাদিক মুসারঃ ১১ মে ঢাকা প্রতিদিন পত্রিকায় ‘‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় নেতা মানবতা বিরোধী মামলার আসামী ’’ একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত করে। সংবাদটি লেখেন এ,কে ফেরদৌস। এখানে নিজস্ব পত্রিকায় কাটিংটি শুধু শেয়ার করেন মুসা। শুধু মাত্র এই অপরাধে তাকে গ্রেফতার করে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ।

সাংবাদিক মুসা গ্রেফতারের পর অর্নাস পড়ুয়া এক মেয়ে, সদ্য এসএসসি পাশ করা ছেলে ও জিএসসি পরীক্ষার্থী এক মেয়ে ও ৪ চতুর্থ শ্রেনীতে পড়া মেয়েকে নিয়ে পুরো পরিবার মুসার স্ত্রী চরম আর্থিক সংকটে পতিত হয়। সংসারের একমাত্র উপর্জণক্ষম ব্যক্তি মুসা জেলে থাকায় এই ১১৪দিনই প্রায়ই অনাহারে অর্ধাহারে কাটাতে হয়েছে।

১২ মে গ্রেফতারের ঘটনায় ১১৪দিনের মাথায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্ত হন সাংবাদিক মুসা আলী। ১১৪দিন পর মুক্তি পাওয়ার পরেও হুমকি ধুমকিতে কাটে। মামলার বাদী বাবুল চিশতি দুদুকের মামলায় জেল হাজতে থাকায় একটু স্বস্থিতে থাকে এই পরিবারটি। এছাড়া বর্তমান বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বদৌলতে অনেকটাই নিরাপদ, তারপরেও আতংক কাটেনি মুসার পরিবারে। এখনো আর্থিক ধকল কাটাতে পারেনি মুসার পরিবার।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102