সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৩১ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

দেওয়ানগঞ্জে যুবলীগ নেতা আব্দুল খালেককে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর কন্যাকে অপহরণ করার অভিযোগ স্ত্রীর

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৯
  • ৫১৪ জন সংবাদটি পড়ছেন

জামালপুরঃজামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ একেএম মেমোরিয়াল কলেজের সাবেক জিএস সাবেক যুবলীগ নেতা আব্দুল খালেককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। হত্যার পর খালেকের নবম শ্রেণি পড়–য়া কন্যা নাজমুজ শোভা রাখি মনিকে অপহরণ করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী তারজিনা আক্তার লাকি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।

নিহত আব্দুল খালেকের স্ত্রী তারজিনা আক্তার লাকি শনিবার দুপুরে জামালপুর শহরের একটি বাসায় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তার স্বামীর সাথে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে আবুল কালাম আজাদের লোক সেলিম, রুবেল ও সুলতান গত বুধবার সন্ধ্যার পর জোরপূর্বক বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

হত্যার পর উল্টো নিহত খালেকের স্ত্রীর ছোট বোন জামাই উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সোলায়মান হোসেনসহ তার আত্মীয় স্বজনের উপর দায় চাপাচ্ছে। ঘটনার পর আবুল কালাম আজাদের লোকজন খালেকের কন্যা নাজমুজ শোভা রাখি মনিকে অপহরণ করেছে। স্বামী হত্যা ও কন্যা অপহরণের ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে নিহতের স্ত্রী।


সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল খালেকের স্ত্রী তার স্বামীর প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং অপহৃত কন্যা উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে নিহত খালেকের শিশু পুত্র খালিদ বিন বিজয় উপস্থিত ছিলেন।

এসব অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করে আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, আব্দুল খালেকের সাথে তার কোন বিরোধ ছিলনা। তার কন্যাকে অপহরণ করার ঘটনা সঠিক না। আব্দুল খালেক তার সমর্থক ছিলেন এবং নৌকা প্রতীকের নির্বাচন করছিলেন। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের ভাতিজা মুসলিম উদ্দীন বাদী হয়ে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। আব্দুল খালেকের কন্যা তার ফুফুর বাড়িতে রয়েছে। পুলিশ ও পৌরসভার মেয়র এ ঘটনা জানেন।

দেওয়ানগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতের ন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে যেসব অভিযোগ করেছে তা ভিত্তিহীন। ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রীকে খোজে পাওয়া যাচ্ছেনা। নিহতের কন্যা থানায় উপস্থিত হয়ে তার বাবার হত্যাকারীদের বিচার চেয়েছেন। খালেকের স্ত্রী থানায় মামলা নিয়ে যাননি বলেও জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। অপহরণের ঘটনা সঠিক নয়। তিনি জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ ফেব্রুয়ারী রাতে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে চোকাইবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে বসে খাবার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন আব্দুল খালেক।
এ ঘটনায় পরদিন তার ভাতিজা গুলিবিদ্ধ মুসলিম উদ্দীন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। মামলায় আসামী করা হয়েছে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী সোলায়মান হোসেন, দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরনবী অপু ও বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাকিরুজ্জামান রাখালসহ ৩১ জনকে।
নিহত যুবলীগ নেতা আবুল খালেকের বাড়ি দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ডালবাড়ি এলাকায়।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102