সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

জামালপুর-২ ইসলামপুরে সুবিধায় বিএনপি, নৌকার ভোটে লাঙলের ভাগ

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮
  • ৯০৬ জন সংবাদটি পড়ছেন

অনলাইন ডেস্কঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে মহাজোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগের (নৌকা প্রতীক) প্রার্থীর ভোটের পাতে ভাগ বসিয়েছেন শরিক দল জাতীয় পার্টির (জাপা, লাঙল প্রতীক) প্রার্থী। এ নিয়ে দল দুটি রয়েছে বেকায়দায়। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দল বিএনপির প্রার্থী তাদের দলীয় কোন্দল ভুলে এই সুবিধাকে কাজে লাগাতে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন বেশ কোমর বেঁধেই।

১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ইসলামপুর আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। প্রয়াত ভূমি প্রতিমন্ত্রী রাশেদ মোশাররফ এখান থেকে পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরশাদ সরকারের আমলে নির্বাচিত হয়েছিলেন জাপার আশরাফুদ্দৌলাহ পাহলোয়ান। বর্তমান সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফরিদুল হক খান তৃতীয়বারের মতো দলীয় প্রার্থী হয়েছেন। এর আগে তিনি ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। বিএনপি থেকে এবার প্রার্থী হয়েছেন ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু। তিনি আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্বের কারণে ২০০১ সালে জয় পান। অন্যদিকে জাপার প্রার্থী উপজেলা জাপার আহ্বায়ক মোস্তফা আল মাহমুদ এ আসনে নতুন মুখ।


আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফরিদুল হক খান বিগত ১০ বছরে তাঁর সময়ে এ আসনের এবং বর্তমান সরকারের আমলে সারা দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর সময়ে ৪৬৮ কোটি টাকায় যমুনার পূর্বতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাবায়ন, ইসলামপুর ডিগ্রি কলেজকে সরকারীকরণসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, একটি হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, ২০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে দুটি সেতু ও ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ইসলামপুর-বেনুয়ারচর, ইসলামপুর-ঝগড়ারচর ও ইসলামপুর-বকশীগঞ্জ সড়ক নির্মাণ এবং পাকা করায় ইসলামপুরের পূর্বাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে।

ভোটে জাপার ভাগ বসানো নিয়ে আওয়ামী লীগ কিছুটা শঙ্কিত থাকলেও লাঙল মোকাবেলায় প্রকাশ্যে তাদের কোনো তৎপরতা এখনো দেখা যায়নি। তারা বিএনপির প্রার্থীকে মোকাবেলাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। ফরিদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অন্য দলের প্রার্থীরা এ আসনে আমাদের ভোটের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারবে না। আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল। নেতাকর্মীরা সবাই সজাগ আছে। জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন না করে ঘরে ফিরব না। প্রতিশ্রুতিগুলোর শতভাগ পূরণের চেষ্টা করেছি। তাই জনগণ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে আমাকে ভোট দেবে।’


বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় এবং অনেক নেতাকর্মী বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ায় সাংগঠনিকভাবে কিছুটা বেকায়দায় রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু। বিগত ১০ বছরে তিনি এলাকায় সাংগঠনিকভাবে নিয়মিত কার্যক্রম না চালালেও এবার নির্বাচন ঘিরে ঘুরে দাঁড়াতে এলাকায় সক্রিয় রাজনীতিতে সরব রয়েছেন। তিনি ২০০১ সালে এ আসনে জয় পেলেও দলকে অতটা সুসংগঠিত করতে পারেননি। তখন তাঁর ‘পথের কাঁটা’ হয়ে দাঁড়ান মন্ত্রিপরিষদসচিব এ এস এম আব্দুল হালিম। সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে দলীয় সংসদ সদস্যকে পাশ কাটিয়ে হালিম সরকারি উন্নয়নকাজের পাশাপাশি দলীয় সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে বেশ সমালোচিত হন। একই সঙ্গে উপজেলা বিএনপিতে দেখা দেয় চরম কোন্দল। ওই দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে একাধিকবার। হালিম এবারও মনোনয়নের জন্য লবিং করেছিলেন।সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, ‘বিএনপিতে কোনো কোন্দল নেই। নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ ভোটার, জনতার বড় অংশ আমাদের সঙ্গে আছে।’

এদিকে জাপা সাংগঠনিকভাবে অতটা শক্তিশালী অবস্থানে নেই। কিন্তু জাপা প্রার্থী মোস্তফা আল মাহমুদ প্রায় তিন বছর ধরে এ আসনে মহাজোটের মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নিতে নিয়মিত মাঠে সরব ছিলেন। তিনি একজন শিল্পপতি, জনবান্ধব ও দানশীল ব্যক্তি। ইসলামপুরের বেলগাছা ইউনিয়নের যমুনা নদীর চর মন্নিয়ায় পাঁচ বিঘা জমিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ২৪৯ দশমিক ৬ কিলোওয়াট পিক সোলার মিনি গ্রিড বিদ্যুেকন্দ্র। চরের মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর মধ্য দিয়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, ‘অবহেলিত এই ইসলামপুরকে বন্যামুক্ত ঘোষণার জন্য যা যা করা দরকার আমি করে দেব। আমি জনগণের খাদেম হতে আসছি।’

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102