শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :
বকশীগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি বাতিল! দুই মামলায় রাশেদ চিশতির জামিন দেওয়ানগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানালেন অধ্যাপক সুরুজ্জামান বকশীগঞ্জে পৌর আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের সংর্ঘষ ।। আহত অর্ধশতাধিক বকশীগঞ্জে নারী ও শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধে বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত দেওয়ানগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর বকশীগঞ্জে এসডিজি অর্জনে জেলা নেটওয়ার্কের ষান্মাসিক সভা অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে পুকুরে ডুবে ভাই বোনের মৃত্যু বকশীগঞ্জে ইলিশ রক্ষায় নিজেই মাঠে নামলেন ইউএনও মুনমুন জাহান লিজা

ফার্মাস ব্যাংক কেলেংকারী, চিশতির শালার স্ত্রী সজলী শবনম কারাগারে

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮
  • ১৬১৭ জন সংবাদটি পড়ছেন

অনলাইন ডেস্কঃ ফার্মাস ব্যাংক কেলেংকারীর অন্যতম হোতা বাবুল চিশতির ছোট শ্যালক গোলাম মাবুদ সেতুর স্ত্রী ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান কর্পোরেট শাখার এক্সিকিউটিভ অফিসার ও ব্যাংকটির জামালপুরের বকশিগঞ্জ শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক সাজলী শবনমকে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ নির্দেশ দিয়েছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

বৃহস্পতিবার নিম্ন কোর্টে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের টাঙ্গাইলের ্আঞ্চলিক অফিসের সহকারী উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, সাজলী শবনমের জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আগে ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ ধারায় রুজু করা মামলার অপর আসামিরা হলেন- ফার্মাস ব্যাংকের সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান বাবুল চিশতির ছেলে রাশেদুল হক চিশতি, যাত্রাবাড়ীর এসটুআরএস কর্পোরেশনের প্রোপ্রাইটর ফেরদৌস জুবায়েত ইসলাম ভুঁইয়া ও ফারমার্স ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক সোহেল রানা। এই চার আসামির মধ্যে রাশেদুল হক চিশতি ও তার বাবা বাবুল চিশতি অপর একটি দুর্নীতি মামলায় কারাগারে আছেন। এছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামি ফেরদৌস জুবায়েত ইসলাম ভূঁইয়াকে জাতীয় রাজস্ব ভবনের সামনে থেকে দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলমের নেতৃত্বে একটি টিম গ্রেফতার করে।



রাশেদুল হক চিশতি তার বাবার মালিকানাধীন একটি কাগুজে ও ভুয়া প্রতিষ্ঠান আরসিএল প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রোপ্রাইটর। দুদক অনুসন্ধান করে জানতে পারে, দি ফারমার্স ব্যাংক টাঙ্গাইল শাখায় প্রতিষ্ঠানটির নামে ২০১৭ সালের ২৪ জুলাই প্রথমে একটি চলতি হিসাব (নং-০১১১১০০২৩৪০৩৯) খোলা হয়। হিসাব খোলার দিনই অর্থাৎ ২৪ জুলাই ব্যাংকটির বকশিগঞ্জ শাখা থেকে অনলাইনে ১২টি নগদ জমার মাধ্যমে সর্বমোট ৪ কোটি টাকা মেসার্স আরসিএল প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজের টাঙ্গাইল শাখার চলতি হিসাবে জমা হয়। এ ক্ষেত্রে জমাকারী ব্যক্তি অর্থের উৎস সংক্রান্ত কোনো ঘোষণা দেননি। এর ফলে লেনদেনগুলোর বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহের সৃষ্টি হওয়ার কথা। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার মোতাবেক সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর) হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আনার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার এক্সিকিউটিভ অফিসার সাজনীন শবনম কোনো এসটিআর করেননি। অর্থাৎ এ বিষয়ে কোনো রিপোর্ট করেননি। রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই তারিখেই দি ফারমার্স ব্যাংক লি. টাঙ্গাইল শাখাটি উদ্বোধন করা হয়। শাখাটি উদ্বোধনের ১ দিন পর অর্থাৎ ২৫ জুলাই আরসিএল প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজের নামে টাঙ্গাইল শাখায় নতুন একটি এসএনডি (শর্ট নোটিশ ডিপোজিট) অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। যার হিসাব নম্বর-০১১৩০০০২৩৪৪২৪। হিসাব খোলার দিনই ওই এসএনডি হিসাবে ৪ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়। সেই সঙ্গে ২৪ জুলাই খোলা চলতি হিসাব নং- ০১১১১০০২৩৪০৩৯ বন্ধ করে দেয়া হয়। যার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা অভিযুক্তরা দুদকের কাছে দিতে পারেননি।


পরবর্তী সময়ে ওই এসএনডি হিসাবে ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর ৫৪ লাখ টাকা ঢাকার মিরপুর শাখা থেকে অনলাইনে নগদ জমা হয়। এছাড়া একই বছর ২৬ নভেম্বর ২টি জমা স্লিপের মাধ্যমে ২ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ২৭ নভেম্বর ২ কোটি ১০ লাখ ২ হাজার টাকা নগদ জমা হয়। এসব নগদ জমার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী বাধ্যবাধকতা থাকলেও তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক ও অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সোহেল রানা কোনো এসটিআর বা বাংলাদেশ রিপোর্ট করেননি। অনুসন্ধানকালে দুদক আরও জানতে পারে, ওই বছর ২৭ নভেম্বর মেসার্স আরসিএল প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজের নামে টাঙ্গাইল শাখায় আরও একটি নতুন চলতি হিসাব (নং-০১১৩০০০২৬৫১৫৭) খোলা হয়। এতে আগে করা এসএনডি হিসাবে জমাকৃত অর্থ থেকে বিভিন্ন সময়ে উত্তোলনের পর বিদ্যমান স্থিতি ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে এসএনডি হিসাবটিও ওই বছর ৫ ডিসেম্বর বন্ধ করে দেয়া হয়। এভাবে ধাপে ধাপে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার সহায়তায় বাবুল চিশতির ছেলে রাশেদুল হক চিশতি ৯ কোটি ২৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ব্যাংক থেকে লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে লন্ডারিং করেন।

রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দুদক আরও জানতে পারে, দি ফারমার্স ব্যাংক লি. টাঙ্গাইল শাখার বর্ণিত বিতর্কিত ২টি হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকও একই ব্যক্তি। অর্থাৎ রাশেদুল হক চিশতি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক ঠিকানা বকশিগঞ্জ হলেও ব্যাংকের বকশিগঞ্জ শাখায় কোনো হিসাব না খুলে টাঙ্গাইল শাখায় হিসাব খোলা হয়েছে যার কোনো যৌক্তিক কারণ তারা ব্যাখ্যা করতে পারেননি তিনি।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102