শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :
জুমের মাধ্যমে কামালপুর মুক্ত দিবস পালিত শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় চির বিদায় নিলেন আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন আবুল কালাম আজাদ মেডিসিনের মৃত্যু ॥ নুর মোহাম্মদের শোক আবুল কালাম মেডিসিনের মৃত্যুতে এমপি আবুল কালাম আজাদের শোক কামালপুর মুক্ত দিবসের সকল অনুষ্ঠান বাতিল জামালপুরে জেলা আ’লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু বকশীগঞ্জে অবৈধ ৪ ড্রেজারে আগুন, পাইপ ধ্বংস জামালপুরে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করলেন ৪৫ জন বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবে অতিরিক্ত সচিব শাওলী সুমনের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল বক‌শীগঞ্জ উপ‌জেলা বিএন‌পি`র আহ্বায়ক ক‌মি‌টির প‌রি‌চি‌তি সভা

জামালপুরে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবী সবত্রই

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৮
  • ১২৭৬ জন সংবাদটি পড়ছেন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ  জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ৫টি আসন রয়েছে এই জামালপুরে। একটানা দীর্ঘ ১০ বছর শাসন  ৪টিতেই প্রার্থী পরিবর্তনের দাবী জানাচ্ছে আওয়ামীলীগের তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। এর শুধু ব্যতিক্রম জামালপুর-৩। যেটাতে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন মীর্জা আজম এমপি।

তবে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী দলীয় কোন্দলের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগসহ প্রতিটি উপজেলা আওয়ামীলীগ অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। কোন আসনেই দলীয় কোন কোন্দল নেই, তবে মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতা রয়েছে। মনোনয়ন ঘোষনা হওয়ার পর সব কিছুই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

এদিকে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন জানান, উন্নয়নের নামে লুটপাট সাধারন মানুষ বোঝে গেছে। জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারলে ৫টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হবে।


জামালপুর মুলত আওয়ামীলীগের অধ্যুষিত এলাকা। এ জেলায় মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে সারা বাংলাদেশের এক-তৃতীয়ংশ যুদ্ধই সংগঠিত হয় জামালপুরে। সে কারণে সাধারনত এই এলাকায় লোকজন আওয়ামীলীগের প্রতি ভিষন দুর্বল।

বিএনপি অবস্থা আগের চেয়ে অনেকটাই ভাল। আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরিন কোন্দল ও দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকার ফলে বিএনপি বর্তমানে অনেকটাই চাঙ্গা। ৫টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীদের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে বড় ধাক্কা দিতে প্রস্তুত বিএনপি।

আওয়ামীলীগের কোন্দল যখন সবত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিএনপিতে কোন্দল থাকলেও অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ফলে ফুরফুরে অবস্থায় রয়েছে বিএনপি।

জেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায়, জামালপুরে ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা  ১৭ লক্ষ ১২ হাজার ৯২৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা পুরুষ- ৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ৭৮৬ ও মহিলা ভোটার সংখ্যা- ৮ লক্ষ ৬৪ হাজার ১৪৩ জন।


জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জে) আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবী করে আসছে দুই উপজেলার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। এ আসনের বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদ, তিনি সাবেক তথ্য ও সাংস্কৃতি মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পালন করেন। এখানে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ তৃনমুলের নেতাকর্মীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবী জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। এ দিকে আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরিন কোন্দলে বিএনপি রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে। এখানে বিএনপির প্রার্থী ২জন। সাবেক এমপি রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও পুলিশের সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম। বিএনপিতে কোন্দল থাকলেও স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই কোন্দল নিরশন যোগ্য।জামালপুর- ২ এর বর্তমান এমপি ফরিদুল হক খান দুলাল। বর্তমান সংরক্ষিত আসনের এমপি মাহাজাবিন খালেদ বেবী। আসনে সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জিয়াউল হকের সাথে বর্তমান এমপির  সর্ম্পক সাপে নেউলে। বর্তমান এমপি ফরিদুল হক দুলালকে ছাড়া নৌকা চাই এই দাবী এখন সবত্রই। কোন্দলে জর্জরিত এ আসনে কোন্দল নিরশন না হলে নিশ্চিত পরাজয় স্বাদ পেতে হবে আওয়ামীলীগকে। এ আসনে বিএনপি একক প্রার্থী হওয়ায় দলীয় কোন্দল তেমন একটা নেই। এ আসনের একমাত্র প্রার্থী সাবেক এমপি সুলতান মাহামুদ বাবু।

জামালপুর- ৩, এ আসনের এমপি পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম। এখানে দলীয় ভাবে কোন কোন্দল নেই। আ.লীগের ৫ বারের নির্বাচিত এমপি মির্জা আজম এবারও মনোনয়ন পাবেন বলে শতভাগ আশা করা যায়। কেননা তিনি শুধু মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ নয়; গোটার জেলার উন্নয়নে অবদান রাখছেন।
এসব জেনেও মির্জা আজমের বিরুদ্ধে এবারই প্রথম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন-সাবেক মহকুমা আ.লীগের সেক্রেটারি এড.আ. মালেকের ছেলে তারিক মালিক সিজার। তিনিও জামালপুর শহর আ.লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। সচেতন মহলের ধারণা মির্জা আজমের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যানারে সাবেক জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম রেজনুর গ্রুপ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সিজারকে দিয়ে হাই কমান্ডেও মির্জা আজমের বিরুদ্ধে লবিং চলছে। বাস্তবতা হচ্ছে-মির্জা আজম মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের যেভাবে সুসংগঠিত করেছেন, তাতে অন্য কোন প্রার্থী প্রচারণাও চালাতে পারবে কিনা সন্দেহ। এ ব্যাপারে মেলান্দহ পৌর আ.লীগের সভাপতি-প্রখ্যাত নাট্যকার আসাদুল্লাহ ফারাজী হেভীওয়েট প্রার্থী মির্জা আজমের বিপক্ষে সিজারের মনোনয়ন ধাক্কাকে বড় করে দেখছেন না। বরং এটাকে হাস্যকর মনে করছেন। কেননা মির্জা আজমের মতো তৃণমূলের কর্মীবাহিনী এমনকি এলাকায় পরিচিতিও নেই সিজারের। বিএনপিরও একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ।

জামালপুর-৪, এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মামুন জোয়ার্দার। ২০০৮ সাল থেকেই মনোনয়নের আশায় আওয়ামীলীগের ডজন খানে প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। ফলে এ আসনে আওয়ামীগের কোন্দল চরম আকার ধারন করছে। অমীমাংসাযোগ্য প্রতিদ্বন্দিতায় লিপ্ত রয়েছে সাবেক এমপি ডা. মোরাদ হাসান ও প্রফেসর আব্দুর রশীদ। এ আসনের বিএনপি একক প্রার্থী সাবেক বিএনপির মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালামের ভাতিজা ফরিদুল হক খান দুলাল।

জামালপুর-৫, জামালপুর সদরে এ আসনেও প্রার্থী পরিবর্তনের দাবী উঠেছে। এ আসনে বর্তমান এমপি রেজাউল করিম হিরা। টানা ১০ বছরে শাসনামলে জেলা আওয়ামীলীগসহ তৃণমুল আওয়ামীলীগও প্রার্থী পরিবর্তনের দাবী জানিয়ে আসছে। এ আসনে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট বাকী বিল্লাহ, সাধারন সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোজ্জাফর হোসেন ও রেজাউল করিম রেজনু শক্তিশালী প্রার্থী সবাই সমানে সমান। এ ক্ষেত্রে পরিছন্ন রাজনীতির ধারক বাহক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট বাকী বিল্লাহ ব্যতিত যে কেউ মনোনয়ন পেলে কোন্দলে হাতছাড়া হতে পারে জামালপুরের সদর আসনটি।

এদিকে বিএনপির প্রার্থীও ৪জন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক  এডভোকেট ওয়ারেশ আলী মামুন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি, সাবেক মন্ত্রী সিরাজুল হক । তবে এডভোকেট ওয়ারেশ আলী মামুনই মনোনয়ন পাবেন এটা অনেকটাই নিশ্চিত।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102