জামালপুর-১, সবত্রই মিল্লাত ঝড় ॥ করতে পারবেন নির্বাচন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সবত্র বিএনপির সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জাম মিল্লাতকে নিয়ে ঝড়। তিনি কি আসলেই নির্বাচন করতে পারবেন কি না ? এমন প্রশ্নটাই সকলের মুখে মুখে। সমর্থকদের উকণ্ঠা আর কপালে হতাশার ভাজ।

সবশেষে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারবেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি অবশ্যই নির্বাচন করতে পারবেন।তার সামনে আইনগত কোন বাঁধা নেই।


মিল্লাতের মামলার সর্বশেষ অবস্থাঃ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ৩ জুন সাবেক সংসদ সদস্য রশিদুজ্জামান মিল্লাত, তার স্ত্রী সাবিরা সুরাইয়া এবং ছেলে সাঈদ বিন জামানের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ৫ কোটি ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ আয় এবং দাখিল করা বিবরণীতে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৫ হাজার ৬শ’৮৫ টাকার সম্পত্তির হিসাব গোপনের অভিযোগ আনা হয়। ২০০৮ সালের ২৯ জানুয়ারি ১/১১-এর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিচারিক আদালত এ মামলার রায়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে ১ বছর ও ৭ বছরের কারাদণ্ড  প্রদান করেন।
বিচারিক আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে  রশিদুজ্জামান মিল্লাত আপিল করলে ২০১০ সালের ১৭ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে খালাস প্রদান করেন। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন, যার ওপর শুনানি শেষে  হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনরায় শুনানির নির্দেশ প্রদান করেছেন আপিল বিভাগ।

পরে সেই আদেশের বিরুদ্ধে রশিদুজ্জামান মিল্লাত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করলে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আপিল খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা করেন।

জানা যায়, ১৯৮৭-৮৮ থেকে ২০০৫-০৬ করবর্ষে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে এনবিআরের উপ-কর কমিশনার মৃদুল কান্তি দাস মিল্লাতের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৭ অক্টোবর মামলা করেন।


অভিযোগে বলা হয়, মিল্লাত চার কোটি ৫১ লাখ ১১ হাজার ৮০ টাকার ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকি দিয়েছেন। ১৯৮৭-৮৮ থেকে ২০০৫-০৬ করবর্ষে তিনি এ কর ফাঁকি দেন। মামলায় মোট ১৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার পর একই বছরের ২৮ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন সংসদ ভবনে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত।রায়ে সম্পদের তথ্য গোপন করায় মিল্লাতকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত।

অন্যদিকে, মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে এক বছর কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন।


এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলে ২০১০ সালের ১৭ আগস্ট হাইকোর্ট মিল্লাতকে খালাস দেন। পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে যায় এনবিআর। ৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে আপিল বিভাগ এনবিআরের আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।

ফলে উক্ত মামলা দুটিতে উচ্চ আদালত কর্তৃক নির্দোষ প্রমানিত হন তিনি। ফলে নির্বাচনে অংশ নিতে কোন বাধা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন..

     এই বিভাগের আরো খবর
ব্রেকিং নিউজঃ