শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৫৯ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :
জুমের মাধ্যমে কামালপুর মুক্ত দিবস পালিত শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় চির বিদায় নিলেন আবুল কালাম আজাদ মেডিসিন আবুল কালাম আজাদ মেডিসিনের মৃত্যু ॥ নুর মোহাম্মদের শোক আবুল কালাম মেডিসিনের মৃত্যুতে এমপি আবুল কালাম আজাদের শোক কামালপুর মুক্ত দিবসের সকল অনুষ্ঠান বাতিল জামালপুরে জেলা আ’লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু বকশীগঞ্জে অবৈধ ৪ ড্রেজারে আগুন, পাইপ ধ্বংস জামালপুরে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করলেন ৪৫ জন বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবে অতিরিক্ত সচিব শাওলী সুমনের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল বক‌শীগঞ্জ উপ‌জেলা বিএন‌পি`র আহ্বায়ক ক‌মি‌টির প‌রি‌চি‌তি সভা

সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো টাইগাররা

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৮
  • ৮৬৭ জন সংবাদটি পড়ছেন

অনলাইন ডেস্কঃ এক ম্যাচ হাতে রেখেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। ২৪ অক্টোবর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগাররা ৭ উইকেটে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। ফলে দশমবারের মত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতলো টাইগাররা। সিরিজ জয়ের পাশাপাশি তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলো মাশরাফির দল।


দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪৬ রান করে জিম্বাবুয়ে। দলের পক্ষে ব্রেন্ডন টেইলর ৭৫, সিকান্দার রাজা ৪৯ ও সিন উইলিয়ামস ৪৭ রান করেন। বাংলাদেশের সাইফ উদ্দিন নেন ৩ উইকেট। জবাবে ৩৫ বল বাকী রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগটি ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারেনি জিম্বাবুয়ের ওপেনার ও অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। অবশ্য ২টি চার দিয়ে নিজের ইনিংস শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু ১৪ রানেই থেমে যান মাসাকাদজা। বাংলাদেশের মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন জিম্বাবুয়ের দলপতি।

দলীয় ১৮ রানে অধিনায়ককে হারানোর পর বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার চেপাস ঝুয়াও ও তিন নম্বরে নামা ব্রেন্ডন টেইলর। তাদের মার মুখি মেজাজে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে জিম্বাবুয়ের রানের গতিও চলতে থাকে। তবে ১২তম ওভারের শেষ বলে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটান অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ১টি করে চার ও ছক্কায় ২৭ বলে ২০ রান করে মিরাজের শিকার হন ঝুয়াও। দ্বিতীয় উইকেটে টেইলরের সাথে ৪৩ বলে ৫২ রান যোগ করেন ঝুয়াও।

ঝুয়াওর বিদায়ে ক্রিজে টেইলরের সঙ্গী হন সিন উইলিয়ামস। এ জুটির কল্যাণে দলীয় স্কোর দেড়শর কাছাকাছি পৌছে যায়। এর মাঝে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদও নিয়ে নেন টেইলর।

তবে দলীয় ১৪৭ রানে টেইলর-উইলিয়ামসের জমে উঠা জুটিতে ভাঙ্গন ধরান বাংলাদেশের অকেশনাল অফ-স্পিনার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। লেগ বিফোরে ফাঁদে পড়ার আগে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭৩ বলে ৭৫ রান করেন টেইলর। তৃতীয় উইকেটে টেইলর-উইলিয়ামস ১০৫ বলে ৭৭ রান দেন দলকে।

টেইলর ফিরে গেলেও উইলিয়ামস ও সিকান্দার রাজার ব্যাটে চড়ে বড় স্কোর গড়ার ভিত গড়তে থাকে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু বেশি দূর এক সাথে যেতে পারেননি উইলিয়ামস ও রাজা। তাদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম উইকেট শিকার করা সাইফউদ্দিন। ২টি চারে ৭৬ বলে ৪৭ রান উইলিয়ামসকে থামান সাইফ উদ্দিন।

এরপর পিটার মুরকে নিয়ে দলের স্কোর বড় করছিলেন রাজা। হাফ-সেঞ্চুরির স্বপ্নও দেখতে শুরু করেন রাজা। তবে রাজার স্বপ্নে পানি ঢেলে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। উইকেটের পেছনে রাজাকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন ম্যাশ। তাই হাফ-সেঞ্চুরি থেকে ১ রান দূরে, অর্থাৎ ৪৯ রানে থামেন রাজা। তার ৬১ বলের ইনিংসে ৩টি চার ও ২টি ছক্কা ছিলো।

রাজার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি মুরও। নামের পাশে ১৭ রান রেখে প্যাভিলিয়নে ফিরেন তিনি। এরপর আর কোন ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে না পারায় আড়াইশ রানও করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪৬ রান করে সফরকারীরা। বাংলাদেশের সাইফ উদ্দিন ৪৫ রানে ৩ উইকেট নেন। মাশরাফি, মিরাজ, মাহমুদুল্লাহ, মুস্তাফিজ নেন একটি করে উইকেট।

জয়ের জন্য ২৪৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে ধাক্কা খেলেছিলো বাংলাদেশ। শুন্য হাতে এলবিডব্লু হয়েছিলেন লিটন দাস। এরপর আম্পায়ারের আউটের রিভিউ নেন তিনি। রিভিউ নিয়ে এ যাত্রায় বেঁচে যান লিটন। তবে দ্বিতীয় ওভারেই ২টি বাউন্ডারি মেরে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দেন লিটন। সময় গড়ানোর সাথে সাথে স্বাচ্ছেন্দ্যেই স্কোর বোর্ডে রান জড়ো করতে থাকেন তিনি। তাকে ভালোই সঙ্গ দেন আরেক ওপেনার ইমরুল। তাই ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৫০ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

জুটিতে দ্বিতীয় ফিফটি তুলতে আরও কম বল মোকাবেলা করেছেন লিটন ও ইমরুল। পরের ৩৪ বলে ৫০ রান যোগ করেন তারা। তাই ১৬ দশমিক ৪ বলে শতরান পায় বাংলাদেশ। এসময় ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন লিটন। কিছুক্ষণ বাদে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৬তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন আগের ওয়ানডেতে শতক হাকাঁনো ইমরুলও। তাই দু’জনের হাফ-সেঞ্চুরিতে জয়ের পথ সহজই হচ্ছিলো বাংলাদেশের। তবে ২৪তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৪৮ রানে বিচ্ছিন্ন হন লিটন ও ইমরুল। জিম্বাবুয়ের অফ-স্পিনার রাজার বলে ফিরেন লিটন। ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭৭ বলে ৮৩ রান করেন লিটন।

লিটনের বিদায়ের উইকেটে আসেন আগের ম্যাচে অভিষেক হওয়া ফজলে মাহমুদ। আগের ওয়ানডেতে ৪ বল খেলে শুন্য হাতে ফিরেন তিনি। এবার এক বল বেশি খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি ফজলে। তাই নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ইনিংসেও শুন্য হাতে ফিরলেন ফজলে। এতেই বিষাদময় এক রেকর্ডের স্বাদ পেতে হলো রাব্বিকে। ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের প্রথম দুই ইনিংসে শুন্য রানে আউট হয়েছিলেন ভারতের শচীন টেন্ডুলকার, নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন ও শ্রীলংকার সাদিরা সামারাবিক্রমা। লিটনকে শিকার করা রাজার বলে স্টাম্পড হন রাব্বি।

১৫২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে জুটি বাধেন ইমরুল ও উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। দু’জনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় লক্ষ্যে কাছাকাছি এগিয়ে যাচ্ছিলো বাংলাদেশ। সেই সাথে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ সেঞ্চুরির স্বাদের স্বপ্ন দেখছিলেন ইমরুল। কিন্তু নাভার্স নাইন্টিতে থামতে হয় ইমরুলকে। এবারও শিকারী রাজা। ৭টি চারে ১১১ বলে ৯০ রান করেন ইমরুল। মুশফিকুর-ইমরুল ৭০ বলে ৫৯ রান যোগ করেন।

ইমরুল যখন ফিরেন তখন জয় থেকে ৩৬ রান দূরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। এই রান করতে বেগ পেতে হয়নি দুই ব্যাটসম্যান মুশফিক ও মোহাম্মদ মিথুনকে। চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩৯ রান যোগ করেন তারা। ফলে ৩৫ বল বাকী রেখেই জয় নিয়ে সিরিজ পকেটে ভরে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। মুশফিক ৫২ বলে অপরাজিত ৪০ রান করেন। ছয় মেরে দলের নিশ্চিত করা মিথুন ২১ বলে অপরাজিত ২৪ রান করেন। জিম্বাবুয়ের রাজা ৪৩ রানে ৩ উইকেট নেন।

একই ভেন্যুতে ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে।

স্কোর কার্ড :
জিম্বাবুয়ে ইনিংস :
মাসাকাদজা ক মুশফিক ব সাইফ উদ্দিন ১৪
ঝুয়াও ক রাব্বি ব মিরাজ ২০
টেইলর এলবিডব্লু ব মাহমুদুল্লাহ ৭৫
উইলিয়ামস ক মুশফিক ব সাইফ উদ্দিন ৪৭
রাজা বোল্ড ক মুশফিক ব মাশরাফি ৪৯
মুর ক মিরাজ ব মুস্তাফিজ ১৭
চিগুম্বুরা ক নাজমুল ব সাইফ উদ্দিন ৩
মাভুতা অপরাজিত ৯
তিরিপানো অপরাজিত ৩
অতিরিক্ত (বা-৫, লে বা-৩, ও-১) ৯
মোট : (৭ উইকেট, ৫০ ওভার) ২৪৬
উইকেট পতন : ১/১৮ (মাসাকাদজা), ২/৭০ (ঝুয়াও), ৩/১৪৭ (টেইলর), ৪/১৮৮ (উইলিয়ামস), ৫/২২৯ (রাজা), ৬/২২৯ (মুর), ৭/২৩৪ (চিগুম্বুরা)।
বাংলাদেশ বোলিং :
মাশরাফি : ১০-০-৪৯-১,
মুস্তাফিজুর : ১০-০-৩৫-১,
সাইফউদ্দিন : ১০-১-৪৫-৩,
মিরাজ : ৭-০-৪৫-১ (ও-১),
নাজমুল : ১০-০-৪৩-০,
মাহমুুদুল্লাহ : ৩-০-২১-১।
বাংলাদেশ ইনিংস :
লিটন দাস ক তিরিপানো ব রাজা ৮৩
ইমরুল ক চিগুম্বুরা ব রাজা ৯০
ফজলে স্টাম্প টেইলর ব রাজা ৮০
মুশফিক অপরাজিত ৪০
মিথুন অপরাজিত ২৪
অতিরিক্ত (লে বা-১, নো-১, ও-১১) ১৩
মোট : (৩ উইকেট, ৪৪.১ ওভার) ২৫০
উইকেট পতন : ১/১৪৮ (লিটন), ২/১৫২ (ফজলে), ৩/২১১ (ইমরুল)।
জিম্বাবুয়ে বোলিং :
জার্ভিস : ৯-০-৩১-০ (ও-২),
চাতারা : ৭-০-৪৮-০ (ও-১),
তিরিপানো : ৫-০-২২-০,
মাভুতা : ৭-০-৫৬-০ (ও-৬),
উইলিয়ামস : ৬-০-৪৩-০ (নো-১),
রাজা : ১০-১-৪৩-৩ (ও-১),
ঝুয়াও : ০.১-০-৬-০।
ফল : বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিলো বাংলাদেশ।
ম্যাচ সেরা : সাইফ উদ্দিন (বাংলাদেশ)।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102