মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :
বকশীগঞ্জে মডেল মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন যে কারণে স্থগিত হল বকশীগঞ্জে আ’লীগের বর্ধিতসভা জামালপুর পৌরসভা নির্বাচনঃ প্রার্থী হিসাবে অধ্যাপক সুরুজ্জামানের পরিচিতি ভাষা সৈনিক এডভোকেট আশরাফ হোসেনের ইন্তেকাল বকশীগঞ্জে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা না থাকায় দুর্ভোগ চরমে বকশীগঞ্জে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি রুখতে বাজার মনিটরিংয়ে ইউএনও জনগনকে থানায় যেতে হবে না, পুলিশ যাবে জনগনের কাছে.. সীমা রানী সরকার জামালপুর জেলা আ’লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা বকশীগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর, জেলা আ’লীগের ৩ সদস্যের তদন্ত টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নুর মোহাম্মদের পদত্যাগ পত্র গ্রহন করে নাই জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগ

বকশীগঞ্জে অভাবের তাড়নায় গর্ভের সন্তান বিক্রি

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৮
  • ৭৮৭ জন সংবাদটি পড়ছেন

গোলাম রাব্বানী নাদিমঃ জামালপুরের বকশীগঞ্জে অভাবের তাড়নায় নিজের গর্ভের সন্তান বিক্রি করেছে এক মা। বকশীগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা শোনেই ছুটে যান ইউএনও দেওয়ান তাজুল ইসলাম। প্রদান করেন নগদ অর্থও।


সারা দেশে যখন উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে দেশ ঠিক এ সময় এধরনের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের রবিয়ারচর গ্রামের দম্পত্তি জাহাঙ্গীর ও রাবিয়া। ১৭ বছর দাম্পত্য জীবনে ৪টি সন্তানের লাভ করেন তারা। ভুমিহীন এই দম্পত্তির সন্তান বৃদ্ধি পাওয়া সাথে সাথে অভাবও সমান তালে বৃদ্ধি পায়।
মাস তিনেক আগে স্থানীয় এনজিও আশা ও গ্রামীন ব্যাংকের নিকট থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নেন তারা। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে স্ত্রী সন্তান রেখে পালিয়ে যায় জাহাঙ্গীর।
ঋণের টাকার হাতে থেকে বাঁচতে স্বামীর বাড়ী থেকে পালিয়ে এসে পৌর এলাকায় পশ্চিমপাড়ায় বাবার বাড়ীতে আশ্রয় নেন রাবেয়া। অন্ধ বাবা আঙ্গুরও অভাবী, অন্য দুই মেয়ে ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকুরী করে। স্বামী অগোচরে কিছু কিছু করে টাকা পাঠায় তারা। এভাবে চলে আঙ্গুরের সংসার। যে মাসে টাকা পাঠায় না, সে মাসে অনাহারে থাকতে হয় তাদের। এ মধ্যে ৪ সন্তানসহ রাবিয়া বাবার সংসারে দিনে এক বেলা খেয়ে চলে আসলেও, এনজিও তাদের পিছু ছাড়েনি।



ঋণ থেকে বাঁচতে নিজের গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে বাধ্য হন রাবিয়া। ৭ মাসের অন্তঃসত্বা রাবিয়া নিজের নিঃসন্তান বোন দিলারী বেগমের নিকট ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তার অনাগত সন্তান। ইত্যিমধ্যেই ৫ হাজার টাকাও নিয়েছেন তিনি। বাকী টাকা সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর দেওয়া কথা ছিল।
এ বিষয়ে রাবেয়া বলেন, দুনিয়ার সব থেকে কঠিন কাজ হলো নিজের সন্তান বিক্রি করা। কিন্তু কি করব, উপায় নেই। স্বামীও নিরুদ্দেশ হওয়ায় ছেলে মেয়েদের ৩ বেলা খাবার দিতে পারি না। এদিকে প্রতিদিন এনজিও থেকে লোক এসে জেলের ভয় দেখায়, বাধ্য হয়েই সন্তান বিক্রি করেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, অভাবের তাড়নায় অনাগত সন্তান বিক্রির ঘটনা মর্মান্তিক। ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষনিভাবে রাবিয়ার সাথে যোগাযোগ করে তার বাসায় গিয়েছি। রাবেয়া সন্তান বিক্রির বিষয়টি আমাকে জানায়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে তাৎক্ষনিক ১৫ হাজার টাকা অর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে মাতৃত্বভাতা, গর্ভকালীন ভাতাসহ সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102