বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৪২ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

জামালপুর-০১ আসনের এম এ সাত্তার, জাপার একশ’ জনের তালিকা চূড়ান্ত

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৮
  • ১৫৬৪ জন সংবাদটি পড়ছেন

জোটগত নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পাশাপাশি একক নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিয়েছে তার দল। সে জন্যেও আলাদা আরেকটি তালিকা চূড়ান্ত করে রেখেছেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি।এছাড়া জামালপুর-০১ আসনে এম এ সাত্তারকেও চুড়ান্ত করেছে জাতীয় পাটি।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিলেট ১ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন এরশাদ নিজেই। পাশাপাশি ঢাকা ও রংপুরে একটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন তিনি।


অন্যদিকে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ নিজ জেলা ময়মনসিংহের একটি আসনে প্রার্থী হবেন। এছাড়া এরশাদ তার ছোট ভাই সাবেক মন্ত্রী দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে প্রার্থী করছেন লালমনিরহাট-৩ আসনে। পরিবারবদ্ধ রাজনীতিতে লালমনিরহাটের একটি আসন থেকে এরশাদ তার ভাতিজা মেজর অবসরপ্রাপ্ত খালেদ আখতারকেও প্রার্থী করছেন। প্রথমবারের মতো তাকে প্রার্থী করা হচ্ছে।

এরশাদের করা প্রায় একশ জনের প্রার্থী তালিকায় ৭ থেকে ৮টি আসন ছেড়ে দেয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জোটের শরিকদলের জন্য। জাপা জোট নেতা ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ ৪ জনের নামে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে ৪টি আসনের তালিকা করা হয়েছে। এছাড়া ইসলামী মহাজোট ও বিএনএসহ অন্যদের জন্য বাকী আসনগুলো বরাদ্দ রয়েছে।

এবার প্রার্থী চূড়ান্তে এরশাদ মনোযোগ দিয়েছেন তরুণ নেতাদের দিকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেছে নেয়া হয়েছে তরুণ ও সাবেক ছাত্রনেতাদের। তবে তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন এরশাদ ও রওশন ঘনিষ্ঠ শীর্ষ অনেক নেতা। বাদ পড়েছেন কিছু সাবেক ও বর্তমান ছাত্র নেতাও।


তালিকা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে নিশ্চিত ও মহাজোট থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া আসন ছাড়া অন্য আসনগুলো চূড়ান্ত করেননি এরশাদ। এক্ষেত্রে এরশাদ নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রার্থীকেও বাদ দিয়েছেন কোথাও কোথাও। ছাড় দিয়েছেন আসনের সংখ্যা বেশি রাখতে। মহাজোটের বড় দল আওয়ামী লীগ যেন তালিকায় কলম চালাতে না পারে সে দিকে বেশি নজর জাপা চেয়ারম্যানের।

তালিকা অনুযায়ী ঢাকা-১ আসনে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, ঢাকা-৪ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৬ কাজী ফিরোজ রশীদ এবং ঢাকা-১৭ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন।

গাজীপুর-২ আসনে এসএম নেওয়াজউদ্দিন, নরসিংদী-২ আজম খান, নরসিংদী-৪ নেওয়াজ আলী ভূইয়া, মানিকগঞ্জ-২ সৈয়দ আব্দুল মান্নান, মানিকগঞ্জ-৩ দলের তরুণ ও ঢাকা মহানগর নেতা জহিরুল আলম রুবেলকে প্রার্থী করা হচ্ছে।


ময়মনসিংহ-৪ আসনে রওশন এরশাদ, ময়মনসিংহ-৫ সালাউদ্দিন আহমেদ মুক্তি, ময়মনসিংহ-৮ ফখরুল ইমাম, ময়মনসিংহ-১০ ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, কিশোরগঞ্জ-২ সৈয়দ সাদরুল উল্লাহ মাজু, কিশোরগঞ্জ-৩ মজিবুল হক চুন্নু (বর্তমান প্রতিমন্ত্রী), নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে সাইফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-৪ সেলিম ওসমান, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ-২ মো. নোমান মিয়া, টাঙ্গাইল-৫ আসনে পীরজাদা শফিউল্লাহ আল মনির, রাজবাড়ী-১ আসনে অ্যাডভোকেট খন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু, রাজবাড়ী-২ আসনে আবুল হোসেন, ফরিদপুর-৩ আসনে এসএম ইয়াহিয়া, জামালপুর-১ আসনে এম এ সাত্তার, জামালপুর-৪ ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদ, শেরপুর-১ আসনে মো. ইলিয়াস ও নেত্রকোনা-৩ আসনে মো. জসিম উদ্দিন ভূইয়াকে প্রার্থী তালিকায় রাখা হয়েছে। ফরিদপুর, রাজবাড়ি, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জসহ ১৫টি আসনের মধ্যে মাত্র একটি আসন চেয়েছে জাপা।

দ্বীপ আসন চট্টগ্রাম-৩ (সন্দীপ) উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ ছালাম, চট্টগ্রাম-৪ আল্লামা এমএ মান্নান (ইসলামী ফ্রন্ট), চট্টগ্রাম-৫ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (বর্তমান বন ও পরিবেশ মন্ত্রী), চট্টগ্রাম-৯ জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, চট্টগ্রাম-১২ এমএ মতিন (ইসলামী ফ্রন্ট), চট্টগ্রাম-১৬ আসনে সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সবাজার-১ আসনে মৌলভী মো. ইলিয়াস, কক্সবাজার-২ আলহাজ মোহাম্মদ মোহিবুল্লাহ।

নোয়াখালী-১ আসনে আলহাজ আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক (ইসলামী মহাজোট), নোয়াখালী-২ ফজলে এলাহী সোহাগ, নোয়াখালী-৪ মোবারক হোসেন আজাদ, লক্ষীপুর-২ আসনে মোহাম্মদ নোমান, ফেনী-৩ আসনে রিন্টু আনোয়ারের নাম রয়েছে।

কুমিল্লা-২ আসনে আমির হোসেন ভূইয়া, কুমিল্লা-৪ অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, কুমিল্লা-৮ নরুল ইসলাম মিলন, কুমিল্লা-৯ এটিএম আলমগীর, কুমিল্লা-১১ এইচএনএম শফিকুর রহমান, চাঁদপুর-১ আসনে এমদাদুল হক রুমন, চাঁদপুর-২ মো. এমরান হোসেন মিয়া, চাঁদপুর-৫ মাওলানা মো. আবু সুফিয়ান আল কাদেরী (ইসলামী মহাজোট), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে অ্যাডভোকেট ইসলাম উদ্দিন দুলাল (ইসলামী ফ্রন্ট), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ জিয়াউল হক মৃধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া। এদিকে নিজ জেলা বৃহত্তর রংপুরে বেশকিছু পরিবর্তন এনেছেন এরশাদ। রংপুর-১ আসনে মশিউর রহমান রাঙ্গা (বর্তমান পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী) রংপুর-২ অধ্যাপক আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলু, রংপুর-৩ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, রংপুর-৪ মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল, রংপুর-৫ ফকরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, রংপুর-৬ নুরে আলম জাদু, কুড়িগ্রাম-১ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-২ পনিরউদ্দিন আহমেদ, কুড়িগ্রাম-৩ ডা. আক্কাস আলী, কুড়িগ্রাম-৪ অধ্যাপক মো. ইউনুছ আলী, লালমনিরহাট-১ আসনে মেজর অব. খালেদ আখতার, লালমনিরহাট-২ রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-৩ গোলাম মোহাম্মদ কাদের, নীলফামারী-১ আসনে জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, নীলফামারী-২ মো. সাজ্জাদ পারভেজ, নীলফামারী-৪ মো. শওকত চৌধুরী, গাইবান্ধা-১ আসনে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি, গাইবান্ধা-২ আব্দুর রশিদ সরকার, গাইবান্ধা-৩ ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার।

অন্যদিকে রাজশাহীর বেশ কয়েকেটি আসনে আগের মতোই রাখা হয়েছে প্রার্থী। রাজশাহী-৩ আসনে শাহবুদ্দিন বাচ্চু, রাজশাহী-৫ অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন, নওগাঁ-৩ আসনে অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন, নাটোর-২ আসনে মজিবুর রহমান সেন্টু, নাটোর-৪ অধ্যাপক আলাউদ্দিন মৃধা, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, পাবনা-২ আসনে মকুল হোসেন সন্টু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মো. ইসমাইল আজাদ, বগুড়া-২ আসনে শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, বগুড়া-৬ নুরুল ইসলাম ওমর, জয়পুরহাট-১ আসনে আ স ম মোক্তাদির তিতাস, জয়পুরহাট-২ কাজী আবুল কাশেম রিপন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে রেজাউর রাজি স্বপন চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও-৩ মো. হাফিজউদ্দিন, দিনাজপুর-৬ আসনে মো. দেলোয়ার হোসেন।

এরশাদের প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত সিলেটে এসেছে চমক। সিলেট-১ আসনে এরশাদ নিজে প্রার্থী হয়ে আগের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। যেহেতু আসনটির বর্তমান এমপি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মহিত আর নির্বাচন করবেন না, সেহেতু মহাজোটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আসনটি সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া সিলেট-২ আসনে ইয়াহহিয়া চৌধুরী, সিলেট-৩ উসমান আলী চেয়ারম্যান, সিলেট-৪ এটিইউ তাজ রহমান, সিলেট-৫ মো. সেলিম উদ্দিন। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে পীর ফজলুর রমান মিজবাহ, সুনামগঞ্জ-৫ আলহাজ জাহাঙ্গীর আলম, হবিগঞ্জ-১ আসনে আব্দুল মুনিম চৌধুরী বাবু, হবিগঞ্জ-৩ আতিকুর রহমান আতিক।

বিভাগীয় শহর বরিশাল-৩ আসনে সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু, বরিশাল-৬ নাসরিন জাহান রত্না, পটুয়াখালী-১ আসনে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, পিরোজপুর-১ আসনে আলহাজ নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-৩ ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী।

খুলনা-১ আসনে এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সাংবাদিক সুনীল শুভ রায়কে প্রার্থী করা হচ্ছে। খুলনা-৩ আসনে শফিকুল ইসলাম মধু, সাতক্ষীরা-১ আসনে এরশাদের মন্ত্রীসভার সদস্য সৈয়দ দিদার বখত্, বাগেরহাট-৩ আসনে সেকান্দার আলী মনি (বিএনএ), কুষ্টিয়া-১ আসনে শাহরিয়ার জামিল জুয়েল, কুষ্টিয়া-৪ সুমন আশরাফ, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন, যশোর-৪ আসনে লে. কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত সাব্বির আহমেদ, ঝিনাইদহ-২ আসনে নূর উদ্দিন আহম্মেদ এবং মাগুরা-১ আসনে অ্যাডভোকেট হাসান সিরাজ সুজার নাম রয়েছে।

এদিকে জাপা চেয়ারম্যান ও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানের সংকেত পাওয়া নেতাদের মধ্যে বাদ পড়েছেন অনেকে। এতে রয়েছেন অনেক জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী প্রার্থী। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-৫ আসনে এরশাদ ও রওশনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সাবেক ছাত্র ও যুবনেতা মীর আব্দুস সবুর আসুদ অন্যতম।

এছাড়া ঢাকা-সবুজবাগ আসনে অধ্যাপক দোলোয়ার হোসেন, খাগড়াছড়িতে সোলায়মান আলম শেঠ, নারায়নগঞ্জের সোনারগাও আসনে রওশন ঘনিষ্ঠ গোলাম মসীহ (সৌদি আরবের বর্তমান রাষ্ট্রদূত) এবং টাঙ্গাইলের আবুল কাসেম। গোপালগঞ্জের সাইদুর রহমান টেপা, ঢাকা-মোহাম্মদপুর আসনে শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ফয়সল চিশতী, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, উপদেষ্টাদের মধ্যে কাজী মামুন (বি বাড়িয়া), নাজমা আখতার (ফেনী), সোমনাথ দে বাদ পড়েছেন।

ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে জহিরুল ইসলাম জহির (টাঙ্গাইল), নুরুল ইসলাম নুরু, সরদার শাজাহান (পাবনা), আরিফ খান (মানিকগঞ্জ), শামসুল আলম মাস্টার (চট্টগ্রামের পটিয়া), মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম (চট্টগ্রাম), সাবেক ছাত্রনেতা আলমগীর সিকদার লোটন (নারায়নগঞ্জ), নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভিন ওসমান, মহিলা পার্টির সেক্রেটারি অনন্যা হোসেন মৌসুমী (সোনারগাঁ), দলের যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আশরাফ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল), দিদারুল কবির দিদার (চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড), মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক (ঢাকার মিরপুর), স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সেক্রেটারি ও সাবেক ছাত্রনেতা বেলাল হোসেন, ছাত্রসমাজের সাবেক সভাপতি ইফতেখার হাসান আহসান, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান মিরু, প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফকির আশরাফের স্ত্রী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আশরাফসহ (নেত্রকোনা) ত্যাগী অনেক নেতা বাদ পড়েছেন এরশাদের একশ’ আসনের তালিকা থেকে।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102