বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :

বকশীগঞ্জে পৌর নির্বাচনে স্থগিত হওয়া কেন্দ্রে ভোট গ্রহনে বাধা নেই ॥ আওয়ামীলীগ প্রার্থীর রিট খারিজ

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২০ মে, ২০১৮
  • ১৫৭৮ জন সংবাদটি পড়ছেন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে স্থগিত হওয়া কেন্দ্রে ভোটগ্রহনে আর কোন বাধা নেই। আওয়ামীলীগের প্রার্থী শাহিনা বেগমের দায়েরকৃত রিটটি খারিজ করেছে হাইকোর্টের আপিলত ডিভিশন।



২০ মে রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহামুদ হোসেনের নেতৃত্বে হাইকোর্ট ডিভিশনের আপিলত বিভাগ এই রিটটি খারিজ করে দেয়। আপিলত ডিভিশনের ব্রেঞ্চের অন্যান্য বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি মোঃ ঈমান আলী, বিচারপতি হাসান ফিরোজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মীর্জা হোসাইন হায়দার।
এর আগে আওয়ামীলীগ প্রার্থী শাহিনা বেগম কর্তৃক হাইকোর্টে একটি রিটের প্রেক্ষিতে নির্বাচনে মাত্র ১দিন আগে ২৯ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত স্থগিত হওয়ার মালিরচর হাজীপাড়া কেন্দ্রে নির্বাচন ৯০দিনের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্টের একটি ব্রেঞ্চ। পরে সেই স্থগিতাদেশ বাতিলের দাবী করে অগ্রগামী মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম সওদাগর অপর একটি রীট করলে গত ৪ মার্চ নির্ধারিত ব্রেঞ্চ পুর্নাঙ্গ আদেশের জন্য ১৭ মে নির্ধারণ করে। ১৭ মে তারিখে শাহিনা বেগমের আইনজীবি সময়ের আবেদন করলে আদালত ২০ মে রবিবার পুনঃ তারিখ নির্ধারণ করে।
রিটটি খারিজের খবর বকশীগঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে বর্তমানে বকশীগঞ্জের আকাশে বাতাসে আনন্দের জোয়ার বইছে। আনন্দ উল্লাসিত মানুষ নজরুল নজরুল বলে শ্লোগান দিতে থাকে।



প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সাল থেকে বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নকে পৌরসভায় রূপান্তরের দাবী করে আসছিল বকশীগঞ্জের মানুষ। পরে স্থানীয় জনগন ও তৎকলীন তথ্য ও সাংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এমপির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৩ সালে বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নকে ভেঙ্গে পৌরসভায় রূপান্তর হয়।
পরে দীর্ঘ ৫ বছর সীমান্ত জটিলতায় বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন ঝুলে ছিল। এরপর সমস্ত জটিলতা নিরসন করে গত বছর ২৮ ডিসেম্বর প্রথম বারের মত স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার একটি অবাধ ও নিরেপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ১২টি কেন্দ্রেরে মধ্যে ১১টি কেন্দ্রেই সুষ্ঠুভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু মালিরচর হাজীপাড়া কেন্দ্রে জোরপুর্বক ব্যালট পেপার ছিনতাই করে সিল মারার কারণে নির্বাচন স্থগিত করে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার।



সন্ধ্যায় উপজেলা সম্মেলনে কক্ষে নির্বাচনে দায়িত্বরত বিভিন্ন পর্যবেক্ষক ও সংবাদকর্মীদের সামনেই বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশিত হয়। ১১টি কেন্দ্রের ফলাফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম সওদাগর জগ প্রতীক নিয়ে ৮৫৯৯ ভোট পান। তার নিকটত প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী ফখরুজ্জামান মতিন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৭ হাজার ৭০৫ । আওয়ামীলীগের প্রার্থী শাহিনা বেগম নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট পান ৫হাজার ১৬০ ভোট পেয়ে ৩য় স্থান অর্জন করেন।
স্থগিত হওয়া মালিরচর হাজীপাড়া কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ১২৮জন। যারা সবাই মহিলা।
অপর তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালুকদার বাহাদুর নারিকেল গাছ নিয়ে ৮৩৩, নুরুজ্জামান মোবাইল প্রতীক নিয়ে ৪৯৬ ও সোলায়মান হক কম্পিউটার প্রতীক নিয়ে ১৩১ ভোট পান।
নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ হাজার ৫৯১ জন। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৩৭৮জন ভোটার তাদের ভোটাধীকার প্রয়োগ করেন। যা মোট ভোটারের ৭৬.৪২ভাগ।
পরে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরেপেক্ষ নির্বাচনে এজেন্ট বের করে জোড়পুর্বক সীল মারার অভিযোগ এনে পুনঃ নির্বাচনে দাবীতে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থী উভয়ে ডজন খানেকবার উচ্চ আদালতে রিট করে।
বিএনপির প্রার্থী রিটগুলি তাৎক্ষনিক খারিজ করলেও আওয়ামীলীগ প্রার্থী শাহিনা বেগমের রীটটি গ্রহন করে তদন্তের নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত ৫১৯/২০১৮।
পরে উচ্চ আদালতের রীটের প্রেক্ষিতে ও নির্দেশনা পেয়ে সপ্তাহব্যাপী জামালপুরের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ও বিশাল তদন্ত সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মোঃ ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশন।
তদন্তে নির্বাচনে দায়িত্বরত প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর মনোনিত এজেন্ট মিলে মোট ৫৯৭ জন স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।
নির্বাচনে দায়িত্বরত বিভিন্ন পর্যবেক্ষক ও প্রশাসনের কমকর্তাদের মধ্যে শতভাগই নির্বাচনের সুষ্ঠেুর পক্ষে ও প্রার্থীর এজেন্টের মধ্যে প্রায় ৭০ভাগই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরেপেক্ষ হয়েছে বলে তাদের মতামত প্রকাশ করে স্বাক্ষী প্রদান করেন।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102