সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

ইসলামপুরে কর্মসৃজনের শ্রমিকদের টাকা দিতে পারছে না ফার্মাস ব্যাংক, বিপাকে প্রশাসন

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮
  • ৮১১ জন সংবাদটি পড়ছেন

সাহিদুর রহমান, ইসলামপুর ॥ জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের শ্রমিকদের কাজের টাকা প্রায় তিনমাসেও উত্তোলন করা যায়নি ফারমার্স ব্যাংকের ইসলামপুর বাজার শাখা থেকে। ফলে কাজের বিনিময়ে কর্মসূচির অতিদরিদ্র শ্রমিকদের বকেয়া রয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের সভাপতিরা।

জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ের কাজ তিনমাস আগে শেষ হলেও এখনও উপজেলার নোয়ারপাড়া ও সাপধরী ইউনিয়নের শ্রমিকেরা তাদের মজুরির টাকা পায়নি। এদিকে গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়েছে কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। এখনও ৬৩১ জন অতিদরিদ্র শ্রমিকের মজুরির টাকাও না পেয়ে পরিবারজন চরম কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর ২০০ টাকা মাথাপিছু হাজিরা মজুরিতে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের কর্মসংস্থান কর্মসূচির কাজ শুরু হয়। নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ৩৭৪ জন শ্রমিক নয়টি প্রকল্পে কাজ করলেও তাদের মজুরির ২৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ফারমার্স ব্যাংকের ইসলামপুর বাজার শাখা থেকে উত্তোলন করা যাচ্ছে না।

ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রকল্প সভাপতি ওমর ফারুক জানান, শ্রমিকদের মজুরির টাকা না দিতে পারায় চরম বিপাকে রয়েছেন তিনি। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রকল্প সভাপতি ইব্রাহীম খলিল জানান, শ্রমিকদের মজুরির টাকা না দিতে পারায় শ্রমিকেরা যেমন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তেমনই চরম বিপাকে রয়েছেন প্রকল্পের সভাপতিরাও। ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রকল্প সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, ৩৪ জন শ্রমিক কাজ করলেও তাদের মজুরির ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা না দিতে পারায় তিনি চরম বিপাকে রয়েছেন।

শ্রমিক সরদার আজহার কামার, শ্রমিক আয়শা খাতুন, আন্না বেগম, আছমা খাতুন যৌথভাবে জানান, তারা মজুরির টাকা না পাওয়ায় মানবেতর দিনাতিপাত করছে। নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা জানান, একাধিকবার শ্রমিকদের টাকা উত্তোলনের বিষয়ে গেলেও ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক সাড়া দিচ্ছে না। বিপরীতে নানাবিধ তালবাহনা করছে। তিনি আরও জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কর্মসংস্থান কর্মসূচির শ্রমিকদের ১৪ দিনের কাজের মজুরি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা এখনও দেয়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, তার ইউনিয়নে তিনটি প্রকল্পে ২০০ টাকা মাথাপিছু মজুরি হারে ২৫৭ জন শ্রমিক কাজ করলেও এখনও ব্যাংকের শাখা কর্তৃপক্ষ টাকা দিচ্ছে না। শ্রমিকদের মজুরি দীর্ঘ দিনে না দিতে পারায় বিপাকে রয়েছেন তিনি। শ্রমিকদের মজুরির টাকা না দিতে পারায় শ্রমিকেরা যেমন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তেমনই চরম বিপাকে রয়েছেন প্রকল্পের সভাপতিরাও। এ ছাড়া তাদের সরদার মজুরি এবং কাজের বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য (নন ওয়েজ) টাকাও বকেয়া রয়েছে গেছে। উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদি হাসান টিটু জানান, ব্যাংকে টাকা না থাকায় শ্রমিকদের মজুরির টাকা দিচ্ছে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকের শাখার ব্যবস্থাপক জামিল আহাম্মেদের সাথে কথা বলতে ব্যাংকে গেলে তাকে পাওয়া যায় নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, শ্রমিকদের মজুরির টাকা দিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি শিগগির বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102