বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English

বকশীগঞ্জ পৌর নির্বাচন । ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণ স্থগিত

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ মার্চ, ২০১৮
  • ৮৭১ জন সংবাদটি পড়ছেন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর নির্বাচন স্থগিত ঘোষনা করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে ২৯ মার্চ মালিরচর হাজীপাড়া কেন্দ্রে আর ভোট গ্রহন হচ্ছে না। ২৮ মার্চ বিকাল ৩টার দিকে  আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী শাহিনা বেগমের রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের ১০নং ব্রেঞ্চের বিচারপতি তরিকুল হাকিম ও বিচারপতি মোঃ ফারুক আগামী ৩ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিলে নির্বাচন এ সিদ্ধান্ত উপণিত হয়। গত ৪দিনে বিএনপির প্রার্থী ফখরুজ্জামান মতিন ও আওয়ামীলীগের প্রার্থী শাহিনা বেগম মোট ৫টি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ব্রেঞ্চ পরিবর্তণ করা হয় ৪টি।

এর আগে গত ২৪ মার্চ বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিমের সম্বন্বয়ে ব্রেঞ্চে রিট করেন পরাজিত ২ প্রার্থী। আদালত তাদের রিট খারিজ করে। পরে ২৫ মার্চ সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ.কে.এম জহিরুল ইসলামের আদালতেও খারিজ করে দেয়।
২৭ মার্চ বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি কে.এম কামরুল কাদের আদালতে রিট দায়ের করলে ২৮ মার্চ দিন শুনানীর দিন ধার্য করে। এদিন ফখরুজ্জামান মতিনের রিটও খারিজ করে আদালত।
এদিকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী শাহিনা বেগম ১০নং কোর্টে বিচার তারিকুল হাকিম ও বিচারপতি মোঃ ফারুক এর সম্বন্বয় ব্রেঞ্চে রিট করলে উক্ত ব্রেঞ্চ ৩ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেন।
রিটে বিবাদী করা হয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সহকারী নির্বাচন কমিশনার, জেলা প্রশাসক জামালপুর, যুগ্ম সচিব ফরহাদ হোসেন, জেলা নির্বাচন অফিসার মঞ্জরুল আলম, টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিসার তাইজুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাচন অফিসার সঞ্জিব সরকার ও অগ্রগামী মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলামকে।

গত ১৪ মার্চ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তনুযায়ী ২৯মার্চ ভোট গ্রহনের তারিখ নির্ধারিত ছিল।

উচ্চ আদালত কর্তৃক বকশীগঞ্জ পৌর নির্বাচনের স্থগিতাদেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারন মানুষে প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে। তারা জানান, সুষ্ঠু ও নিরেপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার পরেও শুধু মাত্র ক্ষমতার অপব্যবহার করে দিনের পর দিন নির্বাচনকে বাধা প্রদাণ করা হচ্ছে হচ্ছে। এতে বকশীগঞ্জ পৌরসভা উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ আওয়ামীলীগের এই প্রার্থী নির্বাচনে ৩য় স্থান লাভ করে। বাকী সমস্ত ভোট তাকে দিলেও সে নির্বাচিত হওয়াতো দুরের কথা ২য় স্থানও পাবেন না।স্থানীয় বেশ কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামীলীগের এক সদস্য জানান, এতে করে দলের ভাবমুর্তি চরমভাবে ক্ষতি হচ্ছে।

প্রসঙ্গত,  আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে জগ প্রতীক নিয়ে নজরুল ইসলাম সওদাগর ৮৯৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।তার নিকতম প্রতিদ্বন্দ্বি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান মতিন।
নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী শাহিনা বেগম প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৫ হাজার ১৬০। আর নির্বাচনের এগিয়ে থাকা নজরুল ইসলাম সওদাগরের ভোট সংখ্যা ৮ হাজার ৫৯৯ টি। এদের দুজনের মধ্যে ভোটের পার্থক্য হচ্ছে ৩ হাজার ৪৩৯টি।
নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ফখরুজ্জামান মতিনের ভোটের সংখ্যা ৭ হাজার ৭০৫টি। ভোটের হিসাবে নির্বাচনে সমস্ত ভোট আওয়ামীলীগের প্রার্থী পেলেও ৩য় স্থানের হেরফের হচ্ছে না এই নির্বাচনে।
মালিরচর হাজীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেটি আওয়ামীলীগ প্রার্থীর নিজস্ব কেন্দ্র। এই কেন্দ্রেই নিজের ভোট দিয়ে থাকেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী শাহিনা বেগম। এ কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৫২৮জন।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102