সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ১১:৩৩ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

দেওয়ানগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়ম-দুর্নীতি 

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৩ মার্চ, ২০১৮
  • ১১২২ জন সংবাদটি পড়ছেন

জামালপুরঃ জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।


স্কুলে বিস্কুট বিতরণ কর্মসূচির পরিবহন খরচ আত্মসাত করতে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের মাথায় তুলে দেয়া হচ্ছে বিস্কুটের কার্টুন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত বিস্কুট বাইরে বিক্রি করারও ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।পাররামরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী জুয়েল জানান, ২০১১ সাল থেকে দেওয়ানগঞ্জের ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে বিস্কুট বিতরণ করে আসছে বেসরকারি সংস্থা ‘ড্যাফ’ বাংলাদেশ। 
বরাদ্দকৃত বিস্কুট ওই সংস্থার স্থানীয় গুদাম থেকে বিদ্যালয়গুলোতে পৌছানোর জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করার কথা রয়েছে। বিদ্যালয়ে বিস্কুট পৌছাতে টনপ্রতি পরিবহন খরচ ধরা আছে ১ হাজার ৮শ ৫০ টাকা। সংস্থাটি সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে আর. আর, এন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ভূয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে বিস্কুট পৌছানোর কাজ করছে। এতে তাদের পরিবহন খরচ বাবদ টনপ্রতি খরচ হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। তার পরেও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে বিস্কুট বিতরণের কর্মসূচি বাতিলের হুমকি দিয়ে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হচ্ছে বিস্কুট পরিবহনের কাজে। দুর্গম এলাকার শিশু শিক্ষার্থীদের মাথায় তুলে দেয়া হচ্ছে বিস্কুটের কার্টুন। এসব বিস্কুটের কার্টুন শিক্ষার্থীরা মাথায় নিয়ে ৩/৪ কিলোমিটার পথ হেটে স্কুলে নিচ্ছে। কোন কোন সময় বিস্কুটের কার্টুন মাথায় নিচ্ছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। প্রতিবছর ‘ড্যাফ’ বাংলাদেশ নামের সংস্থাটি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ৭০০ মেট্রিক টন বিস্কুট বিতরণ করে। বিস্কুট বিতরণে প্রতিবছর সংস্থাটি সরকারের কাছ থেকে ১২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
ভূয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিস্কুট পরিবহন বাবদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ করে এ খাত থেকে অন্তত ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেওয়ানগঞ্জের দুর্গম এলাকার একজন প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, ড্যাফ বাংলাদেশ নামের সংস্থার স্থানীয় অফিসের কর্মকর্তারা তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন বিস্কুট নিজেরা নিতে না পারলে তাদের বিদ্যালয়ে বিস্কুট সরবরাহ বন্ধ করা হবে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা শিক্ষার্থীদের এ কাজে ব্যবহার করছে। এ নিয়ে কোথাও অভিযোগ করা হলে বিস্কুট বিতরণ বন্ধ করা হবে।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত বিস্কুট বাইরে বিক্রি করার ঘটনাও আছে এ উপজেলায়। এ অভিযোগে ড্যাপ-বাংলাদেশ নামের সংস্থাটির দুজন কর্মচারীকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

ড্যাফ-বাংলাদেশ স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দেওয়ানগঞ্জের মনিটরিং এন্ড রিপোর্টিং অফিসার রায়হান আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ২০১১ সাল থেকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার ১৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে। বিস্কুট গুদাম থেকে বিদ্যালয়ে পৌছাতে এক সময় অনিয়ম হলেও গত ৫/৬ মাস আগে তিনি দেওয়ানগঞ্জে যোগদান করার পর তা বন্ধ হয়েছে। বিস্কুট বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে সংস্থার দুজন কর্মীকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ঠিকাদার নিয়োগ করে বিদ্যালয়গুলোতে সঠিকভাবে বিস্কুট পৌছানোরও দাবি করেন তিনি।

দেওয়ানগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তুফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির বিস্কুট পরিবহনে অনিয়ম সম্পর্কে তার কাছে কোন অভিযোগ নাই। তবে তিনি খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন।

এ ব্যাপারে জামালপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শিশুদের দিয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির বিস্কুট পরিবহন বন্ধ করতে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমন প্রত্যাশা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102