শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

বকশীগঞ্জ পৌর নির্বাচন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট ॥ মিথ্যা মামলায় ক্ষুব্দ পৌরবাসী

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
  • ৮০৮ জন সংবাদটি পড়ছেন

বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরেপেক্ষ হয়নি, নির্বাচন বাতিল ও নির্বাচনে সকল কেন্দ্রে পুণঃ ভোট গ্রহন দাবী করে উচ্চ আদালত হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছে পৌরসভা নির্বাচনে ৩ নম্বরে থাকা এক পরাজিত মেয়র প্রার্থী। পিটিশন নং ৫১৯/২০১৮।



পিটিশনে দায়ের পর মহামন্য হাইকোর্ট নির্বাচন বাতিল না করে তদন্তপুর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম মোয়াজ্জেম হোসেন ও বিচারপতি সুহায়ার্দী সম্বন্বয়ের ২ সদস্যের একটি ব্রেঞ্চ এ আদেশ দেন।
হাইকোর্টের আদেশের কপি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অফিসে এসেছে বলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুর আলম নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সুষ্ঠু ও নিরেপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেও মিথ্যা অভিযোগে নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র কাজে লিপ্ত থাকায় ফুসে উঠেছে বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার মানুষ। তারা এ ধরনের কর্মকান্ড বন্ধ করে, বকশীগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে বাধা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
বকশীগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা ইব্রাহিম জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কয়েকটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন একটি। এ নির্বাচনের মত সুষ্ঠু নির্বাচন আমার জীবনেও দেখিনি।
মেষেরচর এলাকার বাসিন্দা আবু তালেব জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। প্রশাসনসহ সকল কর্মকর্তাদের নিরেপেক্ষ ভুমিকার কারণে এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরেপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব হয়েছে।
বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়া জানান, নির্বাচনে বিশাল পরাজয় মেনে নিতে না পারায় ক্ষুব্দ হয়ে মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইলে বকশীগঞ্জ পৌরবাসী কোনদিনই মেনে নিবে না।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে পৌরসভা গঠিত হলেও দীর্ঘ ৪বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জগ মার্কা প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম সওদাগর ৮ হাজার ৫৯৯ ভোট বেসরকারিভাবে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফখরুজ্জামান মতিন পেয়েছেন ৭ হাজার ৭০৫ ভোট।

এছাড়া, পাঁচ হাজার ১৬০ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহিনা বেগম। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বাহাদুর নারিকেল গাছ প্রতীকে ৮৩৩, একে এম নুরুজ্জামান মোবাইল ফোন ৪৯৬ ও সোলায়মান হক কম্পিউটার প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৩১টি।

বকশীগঞ্জ পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ হাজার ৫৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১৫ হাজার ৭০ জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৫২১জন। নয়টি ওয়ার্ডে মেয়র পদে ছয় জন, মহিলা কাউন্সিলর পদে ২১ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচনে ১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টিতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। কিন্তু নির্বাচনের দিন বেলা ২টার দিকে মালিরচর হাজিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে জোর করে সীল মারার চেষ্টা করলে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৫২৮জন, যারা সবাই মহিলা।

পরে পিটিশন দাখিলকারী ওই পরাজিত মেয়র প্রার্থীকে মোবাইলে ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুর আলম জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এর বেশি তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102