শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English

গরুর চেয়ে মাংসের দাম বেশী হবে , তবে …

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০১৮
  • ১৫১৪ জন সংবাদটি পড়ছেন

সুলতানুল আরেফীন আদিত্য— কন্টিবিউটিং রিপোর্টার

১….
বকশীগন্জে গরুর মাংসের দাম বেশী , এটা নতুন কোন ঘটনা নয় । যেখানে পার্শ্ববর্তী এলাকা শ্রীবর্দী শেরপুর , জামালপুর বা কামালপুরেও ৩৬০ – ৪০০ টাকায় গরুর মাংস সীমাবদ্ধথাকে । আর সেখানে বকশীগন্জের মতো সচেতন শহরে গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকা যা সত্যিই ভাববার বিষয় । এতো গলাকাটা দাম তবুও প্রশাসন নির্বাক , কিন্ত কেন ?যদিও বাঙালীকে “মাছে ভাতে বাঙালী” বলা হয় । তবুও দেখা যায় , বাঙালীদের কোন অনুষ্ঠান , সেটা বিয়ে হোক , বা মজলিশ হোক অথবা সুন্নতে খাৎনা সেখানে গরুর গোশত না হলে যেন অপূর্নয় থাকে । এতেই বুঝা যায় , বাঙালী জাতির গোমাংস প্রীতি । তাহলে বকশীগন্জে মধ্যবিত্তের চেয়ে নিম্মবিত্তের সংখ্যা নেহায়াত কম , না । তাহলে নিম্মবিত্তকে কেন ঠকাচ্ছেন বকশীগন্জের গরুর মাংস ব্যাবসায়ীরা ।
২……
সাত সকালে ঘুম ভাঙল পাশের বাসার এক পিচ্চির
কান্নাকাটি শুনে । দরজা খুলে এগিয়ে দেখলাম , বাচ্চাটা তখনো কাঁদছে । আমি বাচ্চার মাকে বললাম , কি ব্যাপার , ও কাঁদছে কেন ? মহিলা প্রতিবেশী, সম্পর্কে ভাবী হয় । ভাবী বললেন , আর বইলেন না , দুইদিন যাবত বায়না ধরছে গোশত খাবে । আপনের ভাই রিকশা চালাই জানেন ই তো । দিনে দুইশো তিনশো টাকা খ্যাপ মারে । এহনের যে বাজার গরুর গোশত পাঁচশো টাকা করে কেমনে জুটামো কন তো ? পরে কাল রাতে ব্রয়লার মুরগী কিনছে , পোলা খাইনা । কি আর কমু আমরা গরীব মানুষ । গুছ কিনি খাওয়ার সাদ্যি থাকলে শিন ।
আমি চলে আসলাম , দাঁত ব্রাশ করতে করতে রোদে
বসলাম । সকালের রোদ শীত কালেই ভাল লাগে ।
গ্রীষ্মকালে না ।

৩…..
রফিক ফাউন্ডেশন এর এবারের শীতবস্ত্র বিতরনের
দায়িত্ব পাওয়ায় ,আমার গরীব দুখী নিম্মবিত্ত ফ্যামিলির হালচাল খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল ।
যে কারনে নিম্মবিত্ত ফ্যামিলির ভিতরের খবর খুব
কাছ থেকে দেখতে পেরেছি । সেদিন কম্বল বিতরনের লিষ্ট করতে গিয়েছিলাম , মেরুরচর গ্রামে । সে বাড়ীতে এক নিম্মবিত্ত পরিবারের এক মহিলা আমাকে দেখে
ভীষণ খুশি । কি মনে করে আসলেন । আমি বললাম , কিছুনা আপনাদের দেখতে আসছি ও ছবি তুলতে । গরীবের ছবি তুলে আপনারা কি করবেন ? আমি বললাম , আপনার জন্য কম্বলের ব্যবস্থা করছি ।
তিনি ভীষন খুশি । বলল , কবে দিবেন ? সোমবার
রাতেই পাবেন । আমি নিজে এসে দিয়ে যাব । কাউকে বলার দরকার নেই । আমি চলে আসলাম আরও কিছু লিষ্ট করতে । সোমবার যথারীতি সেই মহিলার বাসায় গেলাম কম্বল দিতে । মহিলা বলল , ভাইজান আমার একটা আব্দার আছে ? আমি একটু অবাক হয়ে , আবার কিসের আব্দার ? আজ গরীবের ,বাড়ীতে একমুড খেয়ে যাবেন ।আমি বললাম , আজ না । মহিলা বললেন , না খাইলে মনে করমু গরীবের বাসা দেহি ঘেন্না করেন । আরে কি যে বলেন না । আমি খেতে বসছি । সাধারনত ব্রয়লার মুরগী খাইনা তারপরেও অনেকটা আগ্রহ নিয়ে খাচ্ছি ।মহিলা খাবার দিতে দিতে বললেন , খুব হাউশ আছিল । আপনেরে গরুর গোছ দিয়ে খিলেমু গরুর গুছ যে মঙা আমরা কিনবের পামু , কন তো ? আমি বললাম , আমিই একদিন গরুর গোশত আনমু আপনি রান্না করে খাওয়াবেন , কেমন ।আমি কম্বল বিতরন ফুরফুরে মেজাজে বের হয়ে আসলাম ।

৪…
আমি সাধারনত গরুর গোশত ভুনা বা তরকারী দিয়ে যতোটা তৃপ্তিসহকারে ভাত খেতে পারি । মাছ দিয়েও ততটা না । এখন প্রশ্ন হলো , আমার মতো নিম্মবিত্ত ফ্যামিলিতেও অনেকে আছে যারা মাংস পছন্দ করেন । কিন্ত টাকার অভাব বা দাম বেশী হওয়ায় কিনে খেতে পারেনা । কেও কেও আছেন , কুরবানীতেই যা খায় । সারাবছর আর নাম গন্ধ নেই । তো যাইহোক মূল কথায় আসি , বকশীগন্জেই কেন গরুর গোশতের দাম বেশী । আজ বেশ কয়েকটা গরুর ব্যবসায়ীর সাথে কথা বললাম , একজনরে বললাম , আপনারা গরুর গোশতের দাম
বেশী নিচ্ছেন কেন ? কি আর কমু যা দিয়ে কিনি তাই ওঠেনা । আমি বললাম , পাথরের চর , কামালপুর ,
জামালপুর সহ সব জায়গাতেই ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা করে আপনারা নিচ্ছেন ৫০০ টাকা করে তাও ওঠেনা ।
তিনি বললেন , ওরা তো চোরাই গরু জবাই করে বর্ডার থেকে আসে । ঠ্যাং ভাঙা ল্যাঙুর নাই । আপনার কথা ঠিক আছে মানলাম , পাথরের চর বর্ডারের কাছে ওটা মানলাম । কিন্ত শেরপুর জামালপুর ঢাকা ওখানেও তো কম । ব্যবসায়ী চুপ করে আছে । আমি আজ যে গরু জবাই করছেন , কত দিয়ে কিনছেন ?
— ৪৮ হাজার টাকা ।
—কয় মণ গোশত হইছে ?
— সোয়া তিন মণ ।
— তারমানে , ১৩৫ কেজি ।
— কত করে বিক্রি করছেন ?
— ৪৮০ টাকা করে ।
— ৪৮০ করে হলে ১৩৫ কেজির দাম আসে ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা । গরুর চামড়া, বুড়ি বাদ ই দিলাম । তিনি বলেন অনেকেই কম দেই ।
— কত আর কম দেন । ১০-২০ টাকার নিচে না’তো । তিনি চুপ করে আছেন । এখন কথা হলো , একটা গরুতে যদি ১৫ হাজার টাকার ওপরে লাভ করে । তাহলে সাধারন মানুষের ওপর কতটা চাপ পড়ে । যেখানে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ১০ থেকে ১২ পার্সেন্ট লাভ করতে পারে তাই বলে এতো । গরীবের গলাকাটা ছাড়া আর কিছুই না ।
এখন বকশীগন্জের প্রশাসনিক কর্মকর্তা , উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সবাই কে আমি অনুরোধ করবো ।
এ ব্যাপারে যেন খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয় ।
আমি আপনার জন্য হয়তো এটা জটিল কোন বিষয় না ।
অন্তত নিম্মবিত্ত ফ্যামিলির দিকে তাকিয়ে যেন এর যেন একটা ফায়সালা গ্রহন করা হয় ।

গরুর চেয়ে মাংসের দাম বেশী হবে , তবে এটা যেন সবার অনুকূলে থাকে ।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102