ফার্স্ট থিংগস ফার্স্ট

কম্পিউটার বুট করতে গিয়ে যদি দেখেন যে কম্পিউটার বুট হচ্ছেনা তবে প্রথমেই আপনার যা করা উচিৎ তা হচ্ছে মনে করে দেখা যে শেষবার আপনি আপনার কম্পিউটারটিতে কি পরিবর্তন করেছিলেন, হতে পারে আপনি কোন ড্রাইভার ইন্সটল বা আনইন্সটল করেছিলেন বা কোন হার্ডওয়্যার যুক্ত করেছিলেন। অথবা আপনার কম্পিউটারের কেসিং খুলে অন্য কোন পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিলেন। যাই হোক, এরকম আপনার শেষ অ্যাকটিভিটিটি যদি আপনি মনে করতে পারেন তবে অনেক ক্ষেত্রেই ট্রাবল শুট করা সহজ হয়ে থাকে। কেননা, আপনি যদি শেষবার কোন হার্ডওয়্যার ইন্সটল করে থাকেন তবে সেই হার্ডওয়্যারটি রিমুভ করেও সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে!

কম্পিউটারের পাওয়ার অন হচ্ছেনা

আপনার কম্পিউটারটি যদি একেবারেই চালু না হতে চায় তবে প্রথমেই আপনাকে যা চেক করতে হবে তা হচ্ছে আপনার কম্পিউটারটির পাওয়ার ক্যাবল চেক করে দেখা। এটি যদি একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার হয়ে থাকে তবে প্রথমে আপনি দেখুন পাওয়ার আউটলেটে শেষ প্রান্ত প্লাগইন আছে কিনা, এরপরও সমস্যার সমাধান না হলে দেখতে পারেন সেই ক্যাবলটিই পাওয়ার সাপ্লাই-এর সাথে যোগ করা হয়েছে কি না। যদি এগুলো সব কিছুই ঠিক থাকে তবে কেসিং খুলে দেখুন মাদারবোর্ডের সাথে পাওয়ার কর্ডের কোন সমস্যা হয়েছে কিনা। আর যদি এরপরও বুট প্রবলেম ঠিক না হয় তবে সম্ভবত আপনার পাওয়ার সাপ্লাইটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অনেক সময় এমনও হতে পারে যে আপনার কম্পিউটারটি ঠিকই চালু হচ্ছে, কিন্তু আপনার মনিটরটি নষ্ট হবার কারণে আপনি বুঝতে পারছেন না। এক্ষেত্রে মনিটরের ভিজিএ এবং অ্যাডাপ্টার চেক করে দেখুন। 1

‘No Bootable Device’ এরর

ধরলাম আপনার কম্পিউটারটির পাওয়ার অন হচ্ছে, কিন্তু বুটের সময় আপনাকে ‘No Bootable Device’ বা অন্য কোন ধরণের ‘Disk error’ মেসেজ প্রদর্শন করছে তাহলে বুঝতে হবে যে আপনি আপনার হার্ড ড্রাইভের যে ড্রাইভটিতে অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করেছিলেন সেখান থেকে আপনার কম্পিউটারের সিস্টেম তা রিড করতে সক্ষম হচ্ছেনা। এক্ষেত্রে Bios বা UEFI ফার্মওয়্যারে ঢুকে আপনার কম্পিউটারের বুট অর্ডার সেটিংসটি চেক করুন, দেখুন বুট অর্ডারে হার্ড ডিস্ক রাখা আছে কি না। হার্ড ডিস্ক থেকেই যেন অপারেটিং সিস্টেম বুট করা হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করুন। উপরের কাজটি করার পরও যদি দেখেন যে আপনার কম্পিউটারটি একই বার্তা প্রদর্শন করছে তবে সম্ভবত আপনার কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভটিতেই কোন সমস্যা হয়েছে। যদি ফাইল মিস হয়ে থাকে তবে আপনি উইন্ডোজের একটি ইন্সটলেশন মিডিয়া কম্পিউটারে ইনসার্ট করে স্টার্ট আপ রিপেয়ার অপারেশন করে দেখতে পারেন, এর ফলে উইন্ডোজের মিসিং ফাইলগুলো পুনরায় হার্ডড্রাইভে রিকভার করা সম্ভব হবে। এছাড়াও আপনি ম্যানুয়ালি উইন্ডোজের বুট লোডার প্রবলেম ফিক্স করার চেষ্টা করেও দেখতে পারেন। 2

বুটের সময় উইন্ডোজ ফ্রিজ হয়ে যায় বা ক্র্যাশ করে

ধরে নিচ্ছি আপনার কম্পিউটার এবার বুটও হচ্ছে, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এটি বুটিং প্রসেসের সময় হয় ফ্রিজ হয়ে যাচ্ছে নয়তো ক্র্যাশ করছে। এই সমস্যাটি হতে পারে সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারজনিত কারণে। যদি এটি একটি সফটওয়্যার জনিত সমস্যা হয়ে থাকে তবে আপনি খুব সহজেই স্টার্ট-আপ রিপেয়ারিং অপারেশনের মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। যদি এই কাজটি আপনি বুট মেন্যু থেকে করতে সক্ষম না হন তবে আপনি একটি উইন্ডোজের ইন্সটলেশন ডিস্ক কম্পিউটারে ইনসার্ট করে অথবা রিকভারি ডিস্ক এর সাহায্যেও এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আর যদি তাতেও কাজ না হয় তবে আমার মতে একটু কষ্ট করে উইন্ডোজের ফ্রেশ কপি ইন্সটল করাটাই আমি প্রিফার করব। যদি আপনি স্টার্ট-আপ রিপেয়ার অথবা উইন্ডোজ ইন্সটলেশনের সময়ও সমস্যার সম্মুখীন হন তবে সম্ভবত আপনার এই সমস্যাটি হচ্ছেই হার্ডওয়ারের কারণে। বেশিরভাগ সময় এই সমস্যাগুলোর সাথে হার্ড ডিস্ক জড়িত থাকে। 4

ব্লু-স্ক্রিন প্রবলেম

উইন্ডোজের ব্লু-স্ক্রিন সমস্যা একটি বলতে গেলে খুবই কমন একটি সমস্যা। এই সমস্যাটির পেছনেও সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার জনিত সমস্যা কাজ করে থাকে। হতে পারে বাগি অথবা ম্যালওয়্যার যুক্ত কোন ড্রাইভার এই সমস্যাটি সৃষ্টি করছে। এটি পরীক্ষা করার জন্য আপনার কম্পিউটারটি প্রথমে আপনি সেফ মোডে চালু করুন। সেফ মোডে উইন্ডোজ কোন প্রকার টিপিকাল হার্ডওয়্যারের ড্রাইভার লোড করেনা অথবা স্টার্ট-আপের সময় স্বয়ংক্রিয় ভাবে চালু হয় এমনও সব প্রোগ্রামও লোড করেনা। যদি দেখেন যে সেফ মোডে আপনার কম্পিউটারটি স্ট্যাবল তাহলে রিসেন্টলি ইন্সটল করা অ্যাপলিকেশনগুলো আন-ইন্সটল করে ফেলুন। এরপর একটি সিস্টেম রিস্টোর পার্ফর্ম করুন এবং ম্যালওয়��র চেক করে দেখুন। যদি সব কিছু ঠিক থাকে তবে আশা করি এবার কম্পিউটার চালু করলে আপনার সমস্যা দূর হয়ে যাবে। যদি এরপরও সমস্যা থেকে যায় তবে উইন্ডোজের ফ্রেশ কপি ইন্সটল করে দেখতে পারেন। 6

শেষ কথাঃ

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমটিতে বেশির ভাগ সমস্যাই (সফটওয়্যার জনিত) সিস্টেম রিস্টোর বা রিকভারি করে সমাধান করা যায়। আর যদি কোন ভাবেই সমস্যার সমাধান না হয় তবে উইন্ডোজের ফ্রেশ কপি ইন্সটলেশন করলেই হয়। আর যদি এভাবে সমস্যার সমাধান না হয়ে থাকে তবে আপনার সমস্যাটি অবশ্যই হার্ডওয়্যার জনিত এবং এর জন্য আপনার সার্ভিস সেন্টারে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।