বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :
বকশীগঞ্জে অবৈধ ৪ ড্রেজারে আগুন, পাইপ ধ্বংস জামালপুরে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করলেন ৪৫ জন বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবে অতিরিক্ত সচিব শাওলী সুমনের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল বক‌শীগঞ্জ উপ‌জেলা বিএন‌পি`র আহ্বায়ক ক‌মি‌টির প‌রি‌চি‌তি সভা বকশীগঞ্জ ২ হাজার ভারতীয় জাল রুপিসহ আটক ৭ বকশীগঞ্জে শিশু হত্যা, পিতার মৃত্যুদণ্ড বকশীগঞ্জ বিএনপির সংবাদ সম্মেলন, কমিটির আত্ম প্রকাশ শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকারে বশেফমুবিপ্রবি’র বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন দলকে সুসংগঠিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্চ… মানিক সওদাগর আরব সাগরে ভেঙে পড়লো ভারতীয় যুদ্ধবিমান, পাইলটের মৃত্যু

পৌর নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় এমপিরা কাঠগড়ায়

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী, ২০১৮
  • ৭৪২ জন সংবাদটি পড়ছেন

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যে ২১ জন এমপি পৌর নির্বাচনে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের নানা কৌশলে সমর্থন করেছেন তাদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা মনোনয়ন পাচ্ছেন না। দলের মনোনয়ন না পেয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করে যে ১৯ জন নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরও ক্ষমা করা হবে না। আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারক নেতা এ তথ্য সমকালকে নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশদ আলোচনা হয়েছে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা পৌরসভা নির্বাচনের আদ্যোপান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ওবায়দুল কাদের পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের প্রচার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক সমকালকে বলেছেন, বেশ কয়েকজন দলীয় এমপির বিরুদ্ধে পৌরসভা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন করার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। তিনি এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ
ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে আরও বেশ কয়েকটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচিত হতেন। এ জন্য তারা স্থানীয় এমপিদের দুষছেন। তাদের দৃষ্টিতে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া এমপিরা কৌশলে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। আচরণবিধি অনুযায়ী তারা নির্বাচনী এলাকায় না গেলেও পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করায় দলীয় প্রার্থীরা বিপাকে পড়েছিলেন। জানা গেছে,
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের সমর্থনকারী এমপিদের ভবিষ্যতে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে বৈঠকে সুনির্দিষ্টভাবে তিন এমপিকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা হচ্ছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রমেশ চন্দ্র সেন, নড়াইল-১ আসনের কবিরুল হক মুক্তি এবং বরগুনা-১ আসনের অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। এই তিন এমপি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন বলে নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
পৌরসভা নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের সমর্থনকারী কয়েকজন এমপিকে তিরস্কার করেছিলেন। নির্বাচনের একদিন আগে বিমানবাহিনীর শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ উপলক্ষে যশোরে গিয়েও অভিযুক্ত এক এমপিকে সতর্কও করেছিলেন তিনি। এ অবস্থায় দু’একজন এমপি সরে এলেও অন্যরা শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের সঙ্গেই ছিলেন।
আগামী ৯ জানুয়ারি শনিবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ ব্যাপারে বিশদ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের সমকালকে জানিয়েছেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যারা কাজ করেছেন তাদের আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার মনোভাবই ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ সমকালকে বলেছেন, দলের শৃঙ্খলা ভেঙে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন যারা দিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব খুবই কঠিন।
একুশ এমপি
ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে একটি রিপোর্ট তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন সাত সাংগঠনিক সম্পাদক। তাদের দুজন সমকালকে বলেছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে স্থানীয় পর্যায়ে দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এমপিদের একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম-৬ আসনের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এমপি অধ্যাপক ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী, বগুড়া-৫ আসনের হাবিবুর রহমান, পাবনা-৩ আসনের মকবুল হোসেন, যশোর-৩ আসনের কাজী নাবিল আহমেদ, চাঁদপুর-৪ আসনের ড. শামসুল হক ভূঁইয়া, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রমেশ চন্দ্র সেন, নড়াইল-১ আসনের কবিরুল হক মুক্তি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের গোলাম রাব্বানী, কুষ্টিয়া-৪ আসনের আবদুর রউফ, দিনাজপুর-১ আসনের মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর-৬ আসনের শিবলী সাদিক, গাইবান্ধা-৪ আসনের আবুল কালাম আজাদ, বরগুনা-১ আসনের অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের মুহিবুর রহমান মানিক, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের আলী আজগার টগর, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের হাসিবুর রহমান স্বপন, মানিকগঞ্জ-১ আসনের এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও মৌলভীবাজার-২ আসনের আবদুল মতিন।
পৌর নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের আগেই দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ জন নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় এমপিদের সমর্থন নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন দিনাজপুরের বিরামপুরে লিয়াকত আলী সরকার, বগুড়ার ধুনটে এজিএম বাদশাহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এআরএম আজরী মোহাম্মদ কারিবুল হক, পাবনার চাটমোহরে মির্জা রেজাউল করিম দুলাল, চুয়াডাঙ্গা সদরে ওবায়দুর রহমান চৌধুরী, জীবননগরে জাহাঙ্গীর আলম, নড়াইলের কালিয়ায় ফকির মুশফিকুর রহমান, মানিকগঞ্জ সদরে গাজী কামরুল হুদা সেলিম, বরগুনা সদরে শাহাদাত হোসেন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সাদেকুর রহমান ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় শফি আলম ইউনুছ। এ ছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মেহেরপুরের গাংনীতে আশরাফুল ইসলাম, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আবদুস ছাত্তার, ত্রিশালে এবিএম আনিছুজ্জামান, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে আবদুল কাইয়ুম, নেত্রকোনার মদনে আবদুল হান্নান শামীম, ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মোজাফফর হোসেন বাবলু মিয়া, সিলেটের কানাইঘাটে নিজাম উদ্দিন ও গোলাপগঞ্জে সিরাজুল জব্বার চৌধুরী।
বিদ্রোহী এই মেয়রদের দলে ফিরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে। নেতারা তাদের দলে না নেওয়ার বিষয়ে মতামত দিয়ে বলেছেন, সামনে আরও ১৮৩টি পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন রয়েছে। তাই বিদ্রোহী মেয়রদের দলে ফিরিয়ে নিলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাহবুবউল আলম হানিফ জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থেই বিদ্রোহীদের ক্ষমা করার সুযোগ নেই। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102