বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English

এক অসাধারন গল্পের মহানায়ক বিদ্রোহী নজরুল

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • ১৪২০ জন সংবাদটি পড়ছেন

গোলাম রাব্বানী নাদিম ॥ নজরুল, নজরুল ভাই, নজরুল সওদাগর, নজরুল ইসলাম সওদাগর, সওদাগর যে ভাবেই ডাক দিন, এর একটিই প্রতিশব্দ মেয়র নজরুল।
একটি অসাধারন গল্পের পরিসমাপ্তি দেখলাম গত ২৮ ডিসেম্বর। এ যেন রূপকথার প্রতিবিম্ব। কাহিনী রূপকথার কাহিনীকেও হার মানায়। বুকে নৌকার মার্কার প্লে-কার্ড, মুখে নৌকা আর অন্তরে জগ।
প্রথম যে দিন কথা হয়, একঝাক টিভি সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনেই সাহসী উচ্চারণ ‘‘ আপনাদের দোয়া ও জনগনের ভালবাসা থাকলে আমিই বকশীগঞ্জের প্রথম মেয়র হব ইনশাল্লাহ’’ এতে নিশ্চিত উচ্চারণ কিভাবে করলেন তিনি? প্রশ্ল ছিল তৎক্ষনিক। কিন্তু উত্তরটাও দিতে এক সেকেন্ড দেরী করলেন না, বললেন, জনগনের ভালবাসা আছে আমার সাথে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
তার কথার প্রমাণ হতে ২০ মিনিটও দেরি হয়নি। বাসস্ট্যান্ড মোড় থেকে মধ্যবাজার এলাকায় পানের দোকানে বাজতে লাগলো নজরুলের গান।
খাইরুণ সুন্দরী ছবির একটি গানের সুরে বাজছে সেই গান ‘‘ নজরুল ভাই তোমার তুলনা যে নাই, বকশীগঞ্জ বাসী মেয়য় হিসাবে তোমাকেই চায়’’
দোকানদারের নিকট জানতে চাওয়া হল নজরুল সর্ম্পকে। দোকানদার এদিক ওদিক তাকিয়ে বলেই ফেললেন, নজরুল ভাই একা নয়, আমরা প্রত্যেকেই একজন করে নজরুল।
কিছু দুর যেতে না যেতেই আবারও নজরুলের সাথে দেখা, এবার তিনি সাংবাদিকদের সাথে বললেন, জনগণের শক্তিই বড় শক্তি আর এই শক্তি আমার আছে। বকশীগঞ্জের মানুষ সাথে রয়েছে।
যদি একটি পিছনের দিকে তাকানো যায়, তাহলে দেখা যায় নজরুল রাজনৈতিক জীবন ছিল অনেকটাই জনকল্যাণ মুখী।
বিএনপির সময় আলোচিত ছিল নজরুল। সে সময় নেতাকর্মীদের ছায়া দিত এই নজরুলই। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সবসময় সুসর্ম্পক বজায় রেখে মানুষের সেবা করে গেছে নিস্বার্থ ভাবে।
বিএনপি ক্ষমতা থেকে চলেগেলে নজরুল ইসলামের প্রতি বৈষম্য খড়গ নেমে আসে। বিএনপির কোন কমিটিতে রাখা হয়নি নজরুল সওদাগরসহ সওদাগর বাড়ীর পরিবারের সদস্যদের।
এরপর বিএনপি রাজনীতিতে বারবার ঢোকার চেষ্টা করেও ঠাই হয়নি নজরুলের।
পরে নজরুল , স্থানীয় এমপির হাত ধরে আওয়ামীলীগেও ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামীলীগও তাকে মেনে নেয়নি।
এর মধ্যে নজরুলের সাথে যুবদলের মনিরের সাথে হাতাতির ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে যুবলীগের সাথে যুবদলের সংর্ঘষ। তাৎক্ষনিক উপজেলা আওয়ামীলীগ প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয় নজরুল সওদাগর আওয়ামীলীগের কেউ নয়। কিন্তু ৩ ঘন্টা পার না হতেই পৌরযুবলীগের আহ্বায়ক করে একটি কমিটি প্রকাশ করে স্থানীয় উপজেলা যুবলীগ।
এভাবেই চলতে থাকে, আসে সেই মহন্দ্রক্ষণ, বকশীগঞ্জ পৌরসভার তপছিল ঘোষনা হয় ১২ নভেম্বর। দলীয় মনোনয়নের আশায় আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন কিনেন কিন্তু ২৫ নভেম্বর আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড দলীয় প্রার্থী হিসাবে শাহিনা বেগমকে মনোনয়ন দেয়।
নির্বাচনে অংশ নিবেন কি না, দুদুল্যমান থাকা নজরুল পরে স্থানীয় জনসাধারণের চাপে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হন।
এর পর সবই এখন ইতিহাস।
জেলা আওয়ামীলীগের হুমকি ধুমকি, গ্রেফতার আতংক, হাওয়া হয়ে যাওয়া সবকিছুতেই তোয়াক্কা না করে স্থানীয় ভোটারদের সাথে নিয়ে এগুতে থাকেন নজরুল।
পরে ২৮ ডিসেম্বর চুড়ান্ত খেলায় বিএনপি ও আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের টপকে তিনিই মেয়র হতে যাচ্ছেন।
এভাবেই একটি অসাধারন গল্পের মহানায়ক হচ্ছেন নজরুল ইসলাম সওদাগর।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102