Blog Image

বকশীগঞ্জ পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিপর্যয় -১

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বকশীগঞ্জে পৌর নির্বাচনে বিপর্যয় হয়েছে আওয়ামীলীগের, ডুবেছে নৌকা। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন, কেন্দ্রিয় আওয়ামীলীগের গভীর পর্যবেক্ষন, কেন্দ্রীয় মহিলালীগের স্বরূপ উপস্থিতি, জেলা আওয়ামীলীগের প্রচারনা, উপজেলা আওয়ামীলীগের চেষ্টা সকল কিছুই ব্যর্থ হয়ে অবশেষ নৌকা ডুবেছে মাঝ নদীতে।
এত বিশাল ব্যাবধানে নৌকার বিপর্যয় কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে বিভিন্ন রকম তথ্য উপাত্ত।
সকালে আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে সামনে দেখা যায় একে বারেই ফাঁকা। শুধু উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আবু জাফর, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক মেজবা উদ্দিন জুলফিকার. আওয়ামীলীগের সদস্য মনিরুজ্জামান মনির ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মীর্জা স¤্রাটকে।
পৌছার পর পরিবেশ দেখে বোঝা গেল, তার নির্বাচন নিয়ে কিছু বলছেন।
কৌশল বিনিময়ে পর পরাজয়ে কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে আবু জাফর প্রথম বাক্যেই বলেই ফেললেন, প্রার্থী মনোনয়ন সঠিক ছিল না। এর পর তিনি যোগ করলেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্বন্বয়ের অভাব। এর পর দলীয় কার্যালয়ে সামনে এলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল বিজয়। বিজয়কে দলীয় কার্যালয়ে সামনে রেখেই দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে গেলেন আবু জাফর।
পরে দলীয় কার্যালয় থেকে মালীবাগ মোড়ে আসার সময় দেখা গেল আওয়ামীলীগের কিছু নেতা কর্মীর জটলা। সবার মুখেই মুখে পৌর নির্বাচনের ফলাফল।
এ ধরনের ফলাফল কোনভাবেই মানতে চাইছে না তারা। এমন হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, আওয়ামীলীগের এই প্রার্থী ভোট পেয়েছে ৫ হাজারও বেশি। প্রার্থী হিসাবে অনেক ভোট পেয়েছে কিন্তু নৌকার হিসাবে অনেকটাই কম। তবে দুঃখ করে বলেন, কমপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে থাকলে ভাল লাগতো।
পাশেই পানের দোকান, নির্বাচনের আগে গলায় নৌকা মার্কার প্রার্থীর ব্যাচ পড়ে ছিল। কিন্তু যাওয়ার সাথে সাথে জগ জগ করে চিৎকার দিয়ে উঠলেন।
কি অবস্থা জানতে চাইলে বললেন, আমি আওয়ামীলীগের নেতা না, তবে নৌকায় ভোট দেই। কিন্তু এবার কেন্দ্রে গিয়ে সিদ্ধান্তের পরিবর্তণ করতে হয়েছে। অবশেষে জগ মার্কাতেই ভোটটা দিয়েছি।
কেন সিদ্ধান্তের পরিবর্তণ করলেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ভাই আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী একজন মহিলা, এছাড়া তিনি এলাকায় বসবাস করেন না। মাসের বেশির ভাগ সময়ই ঢাকা থাকেন। আমাদের একজন স্থানীয় লোকের দরকার ছিল, সে কারণেই জগ মার্কায় ভোটটা দিয়েছি। আমার ৫ বছর দেখব, যদি তিনি বকশীগঞ্জ থাকেন তবে আগামীতে হয়তো সিদ্ধান্তের পরিবর্তণ হতে পারে।
এর কথা শেষ করতে না করতেই আরেক একটি সিগারেট কিনতে আসলেন, পানের দোকানদারের সাথে কথা শেষ না হতেই তিনি বলতে লাগলেন, ওই মিয়া, আমাগের ভোট আমরা দিছি, যারে মনে চাইছে তারে দিছি।
মনটা কেন আওয়ামীলীগের প্রার্থীর দিকে ভিড়লো না, জানতে চাইলে তিনিও জানান, আমাগের তো পছন্দ অপছন্দ আছে, যারে তারে নাও দিব, আর ওই নাওতে আমরা উঠব? বিজয় ভাই, বাবুল ভাইকে নাও দিলে এমন বিপর্যয় হত না। ওরা ঠিকই পার হতো।
সেখান থেকে ফেরার পথে মধ্য বাজার এলাকায় কয়েকজন লোক কথা বলছেন, আস্তে আস্তে পাশেই দাড়িয়ে থেকে কথা গুলো শোনলাম। এদের মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু পরিবারের সদস্য। এদেরও মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। সবার মুখে জগের জয়োধ্বনি।
হিন্দু পরিবারের সদস্যরা সব সময় আওয়ামীলীগের সাথে সর্ম্পক থাকে, তারা সবসময়ই নৌকাতেই ভোট দেন। কিন্তু এবার কোন ব্যতিক্রম হয়েছে কি না, কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে হিন্দু ভোটারদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা ছিল। সেখানে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিন্দু পরিবারদের সদস্যদের হিন্দু ভোটার ও সংখ্যালঘু বলে সম্বোধন করেন। এতে অনেক পরিবারের সদস্যরা মনে কষ্ট পান। সে কারণে অনেক হিন্দু পরিবারের সদস্যরা এই নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়নি। পৌর এলাকায় হিন্দু পরিবারের পরিবারের ভোট সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ।
এদিকে পৌরসভা এলাকায় ঢাকাইয়া একটি বড় ফ্যাক্টর। তাদেরও ভোট সংখ্যা প্রায় ২ হাজার।
অন্ততুষ্টিতে বলিয়ান হয়েও ঢাকাইয়া পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেনি আওয়ামীলীগ। ঢাকাইয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তাদের একতা। একজনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর তারা নির্বাচনে ভোট দেন সবাই। কিন্তু এবারের পৌরসভা নির্বাচনে অনেকটাই উল্টোপাল্টা হয়ে গেছে।

২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচন নজরুল ইসলাম সওদাগর আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে জগ মার্কা প্রতিক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৮ হাজার ৫৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ফখরুজ্জামান মতিন পেয়েছেন ৭ হাজার ৭০৫ ভোট।
এছাড়া তৃতীয় স্থানে রয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী শাহিনা বেগম। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা- ৫হাজার ১৬০ টি।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বাহাদুর নারিকেল গাছ প্রতিকে ৮৩৩, একে এম নুরুজ্জামান মোবাইল ফোন ৪৯৬ ও সোলায়মান হক কম্পিউটার প্রতিকে ভোট পেয়েছেন ১৩১টি।
এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ হাজার ৫৯১টি।
মোটকেন্দ্রের সংখ্যা-১২টি। মালিরচর হাজিপারা কেন্দ্রটি স্থগিত হওয়ায় বেসরকারীভাবে নির্বাচিত ঘোষনা করা করেনি নির্বাচন কমিশন। স্থগিত হওয়া কেন্দ্রের ভোট সংখ্যা ১৫২৮টি।

আরও আসছে —-

 

নিউজটি শেয়ার করুন..

[custom_share_link]

এ ধরনের আরও খবর