সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

উৎসব মুখর হয়ে উঠেছে বকসিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
  • ৮৪৭ জন সংবাদটি পড়ছেন

বিশেষ প্রতিনিধি : উৎসব মুখর পরিবেশে জমে উঠেছে বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন । রিকসা, অটোবাইক ও ঘোড়া গাড়ীতে মাইকে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারনায় সরগরম নির্বাচনী এলাকার সর্বত্র। রাস্তাঘাটে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোস্টার। স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার ও হোটেল-রেস্তুরায় নির্বাচনী আলোচনায় শোরগোল। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে প্রার্থীরা ভোট প্রার্থনায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন। দিন রাত দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ভোটারদের। সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ভোটাররা প্রার্থীদের অতিত বর্তমান নিয়ে করছে চুলচেরা বিশ্লে­ষন। কে হবে বকসীগঞ্জ পৌরসভার প্রথম মেয়র? এই নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনার যেন শেষ নেই ভোটারদের। তবে সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মনে রয়েছে শংকা। আমার ভোট আমি দিতে পারবো তো ? প্রশ্ন করেছে বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার ভোটাররা। সরেজমিনে বকসীগঞ্জ পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ড বুধবার ঘুরে ভোটারদের সাথে কথা বলে এমনই নির্বাচনী চিত্র পাওয়া গেছে।
২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বকসীগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচন। ৬ জন প্রার্থী মেয়র পদে, ২১ জন মহিলা প্রার্থী ৩টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ও ৫৮ জন ৯টি কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে নির্বাচন কমিশন সুত্রে জানা যায়।
আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী শাহিনা বেগম নৌকা প্রতিক, বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী ফকরুজ্জামান মতিন ধানের শীষ প্রতিক, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম সওদাগর জগ প্রতিক, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালুকদার বাহাদুর নারিকেল গাছ, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এম নুরুজ্জামান মোবাইল প্রতিক ও কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সোলায়মান হক কম্পিউটার প্রতিক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
দলের ৩ বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকায় আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী শাহিনা বেগম রয়েছেন বেকায়দায়। আওয়ামীলীগের ভোট অংকে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে না পারলে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক আশংকার কথা জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামীলীগের তৃনমুল নেতাকর্মীরা। এদিকে বিএনপি’র একক প্রার্থী থাকায় ফকরুজ্জামান মতিন রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম এগিয়ে চলেছেন সমান গতিতে । বর্তমানে নজরুল ইসলাম সওদাগরও শক্ত প্রতিদ্বন্দিতা গড়ে তুলেছেন।
তবে, যার যার অবস্থান থেকে নিজস্ব কৌশলে জয়ের আশা নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সকল প্রার্থীই।
বকশীগঞ্জ বাজারে কথা হয় মালিরচর নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ আলমের সাথে। তিনি অপেক্ষাকৃত সৎ যোগ্য ও এলাকার উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে এমন প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের নিজের ভোট নির্বিঘ্নে প্রায়োগ করতে পারলে আগামী নির্বাচনে একজন যোগ্য মানুষই আমাদের প্রথম পৌর পিতা হবেন বলে এমনই দাবী করেছেন তিনি। সওদাগর পাড়ার আব্দুর রাজ্জাক হাস্যজ্জল মুখে বলেন, আমি এহন পৌরসভার নাগরিক, প্রথম ভোট দিমু, কাকে দিমু আপনাক কমুনা, কি দল করি তাও জানতে চাইয়েন না, আমার দলের ক্যান্ডিটেটকেই ভোট দিমু বলে দ্রুত সামনে থেকে চলে গেলেন।
পুরাতন বাসষ্ট্যান্ডে চা স্টলে একদল ভোটার নির্বাচনী আলোচনায় মশগুল। ধোয়া উড়ানো চায়ে চুমুকের ফাঁকে ফাঁকে একেক প্রার্থীর পক্ষে একক জন নানা যুক্তি তর্ক বির্তকে ছড়াচ্ছে নির্বাচনী উত্তাপ। ক্ষনে ক্ষনে দলমত নির্বিশেষে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে একমত হচ্ছে।
পাখিমারা রোডে চলার পথে হাতে ক্যামেরা দেখে এগিয়ে আসেন সিমার পাড়ার আব্দুল করিম। আপনারা নির্বাচনের রির্পোট করতে এসেছেন প্রশ্ন ছুড়লে মাথা নাড়াতেই তিনি বলেন, প্রচার প্রচারনা কথাবার্তা যাই শুনেন, কোন কথায় আমাদের মন গলবেনা, সৎ চরিত্র ও সুখে দু:খ্যে বিপদে আপদে যারে কাছে পাই তারেই ভোট দিবো। চর কাউনিয়ার আলহাজ আবুল কালাম বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর কাছে পাবো না এমন প্রার্থীকে ভোট দিব না। যাকে সব সময় কাছে পাই তাকেই ভোট দিব। মার্কা নয় ব্যক্তি চয়েছে সিল মারবো। নির্বাচনী এলাকা ঘুরে এমনই ভোটারদের ভাবনা জানা গেল।
বিএনপি’র প্রার্থী ফকরুজ্জামান মতিন ছাত্র রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে বকশীগঞ্জ সরকারী কেয়ামত উল্লাহ কলেজে ভিপি নির্বাচিত হন। পরে বকশীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে উপজেলা বিএনপি’র আহবায়কের দ্বায়িত্ব পালন করছেন।
মেষের চরে বাড়ী বাড়ী গনসংযোগ কালে কথা হয় ধানের শীষ প্রতিকে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী ফকরুজ্জামান মতিনের সাথে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্র রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধি থেকে বকশীগঞ্জ পৌরবাসীকে নিয়ে কাজ করছি। পৌরসভায় সুযোগ পেলে পৌর এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ডাস্টবিনসহ সকল নাগরিক সুবিধা পৌরবাসীদের ঘরে ঘরে পৌছে দেয়ার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। পৌরবাসীর ব্যাপক সাড়া পেয়েছি, নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ ও ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। সরকারী দলের প্রার্থীর লোকজন নির্বাচনের আচরন বিধি লংঘন ও আমার কর্মী সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী(সতন্ত্র) নজরুল ইসলাম সওদাগরের ছাত্র রাজনীতির বর্ণাঢ্য অতিত রয়েছে। নের্তৃত্ব দিয়েছেন ব্যবসায়ী সংগঠন শিল্প ও বনিক সমিতিতে। পৌর যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভোট প্রার্থনার আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী(সতন্ত্র) নজরুল ইসলাম সওদাগর আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন আচরন বিধি লংঘন এবং প্রার্থীর লোকজন তাঁর সমর্থকদের হুমকি ধামকি ভয়ভিতি দেখাচ্ছে অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, আমি বকশীগঞ্জের সন্তান, এই এলাকার মাটি মানুষের সাথে বড় হয়েছি। হুমকি ধমকি দিয়ে আমি ও আমার কর্মীদের মনোবল ভাঙ্গতে পারবেনা। ১০ ভোট পেলেও পার আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীর এই অহমিকার জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিবে বকশীগঞ্জ পৌরবাসী। আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী বলে জানালেন তিনি।

উপজেলা মহিলালীগের সভানেত্রী আওয়ামীলীগের প্রার্থী শাহিনা বেগম নির্বাচন টার্গেটে এলাকায় সাহায্য ও সহযোগীতা করে লাইম লাইটে চলে আসেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকসহ ত্যাগী নেতাদের টপকিয়ে মনোনয়ন বাগিয়ে নেন।
বুধবার দুপুরে নিজ বাড়ীর সামনে নৌকা প্রতিকে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী শাহিনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার হাতে নৌকা প্রতিক তুলে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নে চারদিকে নৌকা মার্কার জোয়ার বইছে। নারী ভোটারা আমাকে সমর্থন ও সাহস যোগাচ্ছে। ইনশাল্ল­াহ জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। অন্য প্রার্থীরা আপনার বিরুদ্ধে নির্বাচন আচরন বিধি লংঘন, ভয়ভিতি, নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে আমার ঈর্শান্বিত হয়ে অপপ্রচার চলাচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

বকশীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আচরন বিধি লংঘন এবং অবাধ ও সুষ্ঠ সম্পন্ন নিয়ে ভোটারদের শংকার বিষয়ে জামালপুরের জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং অফিসার আহমেদ কবির সাংবাদিকদের বলেন, যেসব প্রার্থীরা আচরন বিধি লংঘন করেছেন তাদেরকে সর্তক করে দেয়া হয়েছে, তারপরও আচরন বিধি লংঘন হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাঠে মোবাইল টিম কাজ করছে। ভয়ভীতি প্রর্দশনের সুযোগ নেই। কোথাও এমন পরিস্থিতি এবং লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়িত্বরতদের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া আছে। আমি আশা রাখছি সুষ্ঠ ও শান্তিপুর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ৩০ হাজার ৫’শ ৯৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৭৭ জন এবং মহিলা ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৫২১জন। ১২টি কেন্দ্রে এই ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।
ইতিমধ্যে সুষ্ঠুমত ভোট গ্রহন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102