রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :

বনে মানুষ, লোকালয়ে হাতি

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৭ জুলাই, ২০১৭
  • ১১৬৫ জন সংবাদটি পড়ছেন

গোলাম রাব্বানী নাদিমঃ  ১০টি হাতি যদি বকশীগঞ্জ মধ্য বাজারের বাস করার জন্য এসে বসতি স্থাপন করতে লাগল, এই হাতি গুলি কাউকে ক্ষতি করে না।

এটা কি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব মানুষ মেনে নিবে? না কখনোই মেনে নিবে না। সবাই মিলে এসব হাতিকে তাড়িয়ে দিতে যা যা কিছু দরকার সবই করবে।কিন্তু মানুষ যখন হাতির আবসস্থল বন, সেখানেই বসতি গড়ে তখন হাতি কেন এটা মেনে নিবে এমনটাই প্রশ্ন করলেন কামালপুরের জনৈক এক বৃদ্ধা।

প্রথমে হতভম্ব হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই যখন তার কথা গুলি গভিরভাবে চিন্তা করা হয় তখন মনেহল কথাটি শতভাগ সত্যি।
হাতি থাকবে হাতির জায়গায়, মানুষ থাকবে মানুষের জায়গায়।

মানুষ অতিরিক্ত লোভের বশবতি হয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সেখানে বাস করে। একের পর এক বনভুমি করে উজার। হাতির খাদ্য নষ্ট করছে প্রতিনিয়তই।
হাতি একটি বৃহৎ প্রানী। একটি হাতি প্রতিদিন প্রায় ১৩০ কেজি খাদ্যে গ্রহন করে থাকে। একটি হাতির পালে কমপক্ষে ৩০টি হাতি থাকে। ৩০ হাতির যদি গড়ে ১২০ কেজি পরিমান খাদ্যে তাহলে কত খাদ্যের প্রয়োজন হবে?
কিভাবে এসব খাদ্য আসবে? তখনি চোখ পড়ে লোকালয়ে দিকে। এখন তো হাতির জন্য আরও সহজ। পা বাড়ালেই লোকালয়। খুব সহজেই লোকালয়ে প্রবেশ করে একজন কৃষকের সারা বছরে খাদ্য চোখের পলকেই খেয়ে ফেলে তারা।

ময়মনিংহ এলাকায় বনবিভাগের হাতি চলাচলের পথ মানুষের দখলে।বিশেষ করে জামালপুর ও শেরপুর অঞ্চলটি। এ কারণে বুনোহাতির আক্রমণে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন নেচার (আইইউসিএন)-এর উপদেষ্টা আইনুন নিশাত  বলেন, “দিনে দিনে সঙ্কুচিত হচ্ছে হাতির অভয়াশ্রম। যেখানে ঋতুভিত্তিক ও খাবারের খোঁজে বছরে গড়ে ৫ বার যাতায়াত করতো হাতিরা, সে পথগুলো এখন মানুষের দখলে। বছরে একবার চলাচল করতো এমন পথগুলো এখন হাতি ব্যবহার করছে।”

২০০৪ সালে বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএন পরিচালিত এক শুমারিতে দেখা যায়, দেশে হাতির সংখ্যা ১৯৬ থেকে ২২৭টি। ১১টি বন বিভাগে হাতির বিচরণ রয়েছে। বর্তমানে এ সংখ্যা ২৫০ থেকে ৩৫০ বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া আরো ৮৩ থেকে ১০০টি হাতি মিয়ানমারের আরাকান, ভারতের আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে আসা যাওয়া করে। চিড়িয়াখানা ও বিভিন্ন সার্কাস মিলিয়ে বন্দি হাতি রয়েছে ৯৪-১০০টি।

ঢাকায় আইইউসিএন-এর সাবেক আবাসিক প্রতিনিধি নিশাত মনে করেন, আবাসস্থল ধ্বংস, চলাচল পথ বা করিডোর বাধাগ্রস্ত, হাতির চলাচল পথে মানব বসতি স্থাপনের কারণে লোকালয়ে বুনো হাতির তাণ্ডব বেড়েছে।

গত কয়েক দশকে বনের ভেতরে মানব বসতির বিস্তৃতির কারণে হাতির আবাস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্বীকার করেন বন অধিদপ্তরের বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সার্কেল) তপন কুমার দে।

তিনি  বলেন, “জনবসতি ও রাস্তাঘাট নির্মাণের কারণে হাতির চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হাতির খাদ্য ও পানির অভাবও দেখা দিয়েছে।তাই হাতি গুলো বাচার তাগিদেই লোকালয়ে প্রবেশ করছে খাদ্যের সন্ধানে।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102