বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English

অতিরিক্ত বাসভাড়া, স্বল্প আয়ের যাত্রীদের ট্রাকই ভরসা

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ জুলাই, ২০১৭
  • ৫৭৩ জন সংবাদটি পড়ছেন

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
নাড়ীর টানে এসেছিলেন বাড়ি। ঈদের আনন্দ করতে। এখন ঈদ শেষ। এখন ছুটছেন কর্মস্থলে। এজন্য প্রচন্ড ভীড় যানবাহনে। এ সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে পরিবহন চালক ও শ্রমিকরা। ফলে ইসলামপুর শহরসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। এ অভিযোগ প্রায় সবগুলো দূর পাল্লার বাস কাউন্ডারসহ সিএনজি ও বেটারিচালিত অটোরিকশা ষ্টেশনগুলোতেই। এ কারণে নাড়ীর টানে গ্রামে আসা লোকেরা পড়েছেন হয়রানীসহ বিপাকে ।

ইসলামপুর গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সংগঠনের সাধারন সম্পাদক সবুজ খন্দকার জানান, ইসলামপুর থেকে ঢাকার প্রকৃত ভাড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা । ঈদুল ফিতরের পর এ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা ।

উপজেলার গুঠাইল বাজার, আমতলী বাজার, উলিয়া বাজার ঝগড়ার চর থেকে নেওয়া হচ্ছে আরও বেশি। বিভিন্ন বাজারে ঘুরে যাত্রীদের সাথে কথা বলে পাওয়া যায় এমন তথ্য। হতদরিদ্র্য যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়ার ফাঁদ থেকে বাঁচার জন্য নিচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি। কর্মস্থলে ফিরছেন ট্রাকে করে। কেউবা বাসে যাচ্ছেন দাঁড়িয়ে। প্রধান সড়কে দাঁড়িয়েই কয়েক মিনিট পর পর দেখা যায় এমন চিত্র।

শনিবার ইসলামপুর থানা মোড় থেকে ঢাকাগামী যাত্রী মমিনুর ইসলাম। বাড়ি গোয়ালের চর মোহাম্মদপুর এলাকায়। তিনি জানান, স্টেশনে টিকেট বিক্রয় কেন্দ্রে ঈদের বিশেষ ট্রেনের টিকেট কেনার জন্য শত শত যাত্রীর উপচেপড়া ভিড় দেখে ট্রেনের দুটি টিকেট চাইতেই ভেতর থেকে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় আন্ত:নগর কোনো ট্রেনেরই টিকেট নেই। টিকেট শেষ হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে এসেছি ওই ট্রাকের কাছে।

নাপিতের চর হতে আসা সোহাগ জানান, ঈদে যা টাকা এনেছি বাড়ি এসে তা খরচ হয়ে গেছে। এখন ফেরার সময় প্রতিজনের কাছ থেকে ২০০-৩০০ করে টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দিব কোথায় থেকে? তাই বাসে দাঁড়িয়ে যাব। তবুও ১০০ টাকা বেশি দিতে হবে।

ইসলামপুর পৌর এলাকার বিল্লু মন্ডল জানান, বাসের ভাড়া বেশি। এজন্য ট্রাকের অপেক্ষা করছি। গুঠাইল বাজার থেকে ঢাকাগামী যাত্রী লুৎফর রহমান, মজিবর রহমান, শাপলা আক্তার, সুন্দরী বেগম, জেসমিন আক্তারসহ অনেকে জানান, গার্মেন্টসে চাকরি করি। যা বেতন পাই তা দিয়ে কোনো মতো সংসার চলে। আয়না খাতুন নামে আরেক যাত্রী বলেন, ঈদে বাড়ি আইসা বিপদে পইরা গেছি। অহন বেশি ভাড়া দিয়ে আবার ঢাহা যাইতে অইতাছে।

তবে বেশি বিরম্ভনার শিকার হচ্ছেন ঝগড়ারচর এলাকার যাত্রীরা। এখানে পরিবহন সেক্টরের কাউন্টার মালিকরা বিভক্ত। উভয় গ্রপের চলছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে প্রতিযোগীতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন শ্রমিক নেতা জানান, সবাই ঈদে বোনাস পায়। আমাদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়টা মনে করেন বোনাস।

এ উপজেলার প্রায় সব কাউন্টারে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। তবে সাধারণ যাত্রীদের দাবি, কাউন্টারগুলোতে পুলিশের নজরদারী বাড়ালে এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবে যাত্রীরা।

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দ্বীন-ই-আলম জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। মানুষ যাতে হয়রানী না হয় সেই দিকে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম এহছানুল মামুন জানান, সাধারণ যাত্রীরা যাতে হয়রানী না হয় সে দিক থেকে প্রশাসনের নজর রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102