রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English

২১২ কোটি টাকা ব্যায়ে জামালপুর রেলওয়ে ফ্লাইওভারের অনুমোদন

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০১৭
  • ১৪০০ জন সংবাদটি পড়ছেন

সা.বকশীগঞ্জ ডেস্ক ঃ জামালপুর জেলার সার্বিক উন্নয়নে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো যানজট সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে জামালপুর শহরের গেইটপাড় রেলগেটে রেলওয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ খুব শিগগির শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার একনেকের সভায় ২১২ কোটি টাকার জামালপুর রেলওয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। একনেক সূত্রমতে, সারাদেশের মধ্যে জামালপুর জেলাতেই প্রথম এতো ব্যয়বহুল রেলওয়ে ফ্লাইওভার নির্মিত হতে যাচ্ছে।

দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশিত রেলওয়ে ফ্লাইওভার প্রকল্পটি জামালপুর জেলার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। জামালপুর শহরের প্রধান সড়কের গেটপাড়ে রেলওয়ের লেভেক্রসিং হয়ে ঢাকা- ময়মনসিংহ-জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ ও ঢাকা-ময়নসিংহ-জামালপুর-তারাকান্দি রেলপথে চারটি আন্ত:নগর এক্সপ্রেস ট্রেন, বিভিন্ন মেইল ও লোকাল ট্রেন, মালবাহী ট্রেনসহ প্রায় ২২ ট্রেন দিনে কমপক্ষে দুইবার করে যাতায়াত করে থাকে। এতে করে প্রধান সড়কের এই রেলগেটের লেভেল ক্রসিংয়ে যানবাহন আটকা পড়ে শহরে তীব্র যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি ট্রেনযাত্রীদের সময় মতো স্টেশনে পৌঁছা যায় না। অনেকেই ট্রেনের টিকিটি করা থাকলেও রেলগেটে এবং এর জন্য সৃষ্ট যানজটের কারণে ট্রেন ধরতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন।

৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের বিসিক সংলগ্ন স্থান থেকে শহরের কম্পপুর পর্যন্ত বাইপাস সড়ক চালু করে দেওয়া হয়েছে। জামালপুর শহরের ব্রহ্মপুত্র সেতু থেকে নদীর পার দিয়ে প্রথম পর্যায়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন আরেকটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। জামালপুর শহরের মাছিমপুর থেকে বেলটিয়া পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজও শুরু করা হয়েছে। এসব সড়ক নির্মাণ শেষে চালু হয়ে গেলে জামালপুর শহরের উপর মোটরযানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের চাপও বাড়বে। ফলে শহরের রেলগেটের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। তাই রেলওয়ে ফ্লাইওভার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেছেন, দারিদ্রতার মাপকাঠিতে জামালপুর হলো বাংলাদেশের ৬৩তম জেলা। আমরা এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি বিগত সাড়ে তিন বছরে জামালপুর জেলার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। জামালপুর শহরটির একগলির শহরের দুর্নাম আমরা মোচন করতে পেরেছি। এবার জামালপুর শহরের প্রধান সড়কের এই রেলগেট হয়ে যানবাহনে ট্রেনযাত্রীসহ শহরের মানুষের নির্বিঘ্নে যাতায়াত এবং শহরের যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যই জামালপুর জেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি এই রেলওয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে এখন আর বাঁধা রইলো না। একনেকের সভায় এই প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

উল্লেখ্য, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জামালপুরে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। জামালপুর শহরের বজরাপুর এলাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাশে সাড়ে ৫ একর আয়তনের জমিতে ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাই টেক পার্ক নির্মাণ প্রকল্পও একনেক থেকে পাস হয়েছে। জামালপুর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বৈশাখী মেলা মাঠ, দয়াময়ী মন্দির ও কাছারি শাহি জামে মসজিদ এলাকায় ২৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক চিত্তাকর্ষক সাংস্কৃতিক পল্লী গড়ে তোলার কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে জামালপুরের দিগপাইতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শুরু হয়েছে। সদর উপজেলার লক্ষীরচরে আরও একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মেলান্দহে হচ্ছে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি। মেলান্দহের মালঞ্চ এলাকায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পাওয়া গেছে। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই সেখানে সম্মান শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। জামালপুর মেডিকেল কলেজে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। শহরের পলাশগড়ে ৭১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকায় মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া টেক্সটাইল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ডায়াবেটিক হাসপাতাল হচ্ছে। জামালপুর সদরে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। জামালপুর সদরের বিনন্দেরপাড়ায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরও একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে। মাদারগঞ্জের কাজিয়ারর চরে হচ্ছে ২০০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। লক্ষ্য রয়েছে ২০১৮ সালের মধ্যে জেলার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার।

এছাড়াও জামালপুর পৌরসভার সেবার মান বাড়াতে নানা পরিকল্পনা ও প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। জামালপুর, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহ ও ড্রেনেজ সংস্কার কাজের জন্য আসছে ১৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প। জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের আধুনিকায়ন ও জামালপুর স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন, বাঁকাতেরা সোজা করে জামালপুর-মুক্তাগাছা আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ, জামালপুর-গাজীপুর রুটে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণসহ সারা জেলার আরও অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের নির্বাচনী এলাকা মাদারগঞ্জ উপজেলার শুকনগরী গ্রামে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। খুব শিগগির উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ দল সেখানে অনুসন্ধান ও গবেষণা চালিয়ে দেখবেন কি পরিমাণ গ্যাস সেখান থেকে উত্তোলন করা যাবে। আর গ্যাসসম্পদ প্রাপ্তিতে জামালপুর জেলার অর্থনীনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে জামালপুর জেলার নাম। এভাবে জামালপুরকে উন্নয়নের রোল মডেল এবং বহুমাত্রিক উন্নয়নের স্রোতধারায় উদ্ভাসিত করতে কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ জেলার সার্বিক উন্নয়নে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102