রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০৮:১৮ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

পকেটে গাঁজা ঢুকাতে গিয়ে জনরোষের শিকার পুলিশ

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১১ জুন, ২০১৭
  • ৭৯৭ জন সংবাদটি পড়ছেন

সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ ডেস্ক ঃ দেহ তল্লাশির নামে এক যুবকের পকেটে গাঁজা ঢুকিয়ে দিয়ে হয়রানি চেষ্টার অভিযোগে জনরোষের শিকার হয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। এ খবর দিয়েছে বিডিনিউজ।

অভিযুক্ত যশোর কোতয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমানকে ঘটনার পর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে বলে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানিয়েছেন।

শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে শহরের সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী মাইকপট্টি এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে শৈশব, তিনি বন্ধু সুব্রতকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে বেজপাড়ায় নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার সামনে সাদা পোশাকে থাকা এসআই মাহবুবুর তাদের থামান।

“মটরসাইকেলের পেছনে বসা সুব্রতর পকেট তল্লাশি করতে যান মাহবুবুর। কিন্তু সুব্রত নিজে থেকেই তার পকেটের ভেতরের অংশ বের করে দেখান। তখন তার পকেটে থাকা একটি চাবি নিচে পড়ে যায়।

“সুব্রত চাবিটি উঠানোর জন্য একটু নিচু হওয়া মাত্র ওই এসআই কাগজে মোড়ানো গাঁজার একটি পোটলা সুব্রতর পকেটে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তা দেখে সুব্রত প্রতিবাদ করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা গালিগালাজ শুরু করে।”

একপর্যায়ে শৈশব তার পকেটে থাকা মোবাইল বের করে স্বজনদের ফোন করতে গেলে এসআই মাহবুবুর সেটি কেড়ে নিয়ে রাস্তায় আছড়ে ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন শৈশব।

“তখন সুব্রত চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে এসআই মাহবুবকে ঘিরে ধরে। ক্ষুব্ধ লোকজন তাকে মারধর করার চেষ্টা করে। এরই মধ্যে খবর পেয়ে কাছের কোতয়ালি থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ছুটে আসেন। তারা কৌশলে মাহবুবকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন।”

খবর পেয়ে কোতয়ালি থানার ওসি মো. শামসুদ্দোহাসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও উত্তেজিত লোকজন শান্ত না হলে পরে যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন সেখানে যান।

তার মধ্যস্ততায় পুলিশ কর্মকর্তারা শৈশবের ভেঙে ফেলা মোবাইল ফোন সেটের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিন হাজার টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এছাড়া ওসি শামসুদ্দোহা এসআই মাহবুবুরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ঘটনার শিকার শৈশব বলেন, “কোতয়ালি থানার পুলিশ এর আগেও অনেকের পকেটে এভাবে গাঁজা বা অন্য মাদক ঢুকিয়ে মিথা অভিযোগে টাকা আদায় করে বলে শুনেছি। আজ নিজে চোখে তা দেখলাম।”

পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেছেন, এসআই মাহবুবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন তারা।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ

Site Statistics

  • Users online: 0 
  • Visitors today : 26
  • Page views today : 36
  • Total visitors : 258,030
  • Total page view: 342,814
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102