রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৯ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :
বকশীগঞ্জে পুজা মন্ডব প‌রিদর্শন ও নগদ অর্থ সহায়তা দিলেন মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর বকশীগঞ্জে মধ্যবয়সী নারী ধর্ষন, আটক-১ বকশীগঞ্জে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বকশীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি বাতিল! দুই মামলায় রাশেদ চিশতির জামিন দেওয়ানগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানালেন অধ্যাপক সুরুজ্জামান বকশীগঞ্জে পৌর আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের সংর্ঘষ ।। আহত অর্ধশতাধিক বকশীগঞ্জে নারী ও শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধে বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত দেওয়ানগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর বকশীগঞ্জে এসডিজি অর্জনে জেলা নেটওয়ার্কের ষান্মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংকের ক্রমবিকাশ

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ জুন, ২০১৭
  • ২২৫৬ জন সংবাদটি পড়ছেন

গোলাম রাব্বানী নাদিম ঃ  পৃথিবীতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা অনেক পুরানো হলেও শরীয়াহ ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থার আবির্ভাব পুরানো নয়। ১৯৪৮ সালে অবিভক্ত পাকিস্তানে ষ্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ব্যাংকের প্রথম গর্ভণর জনাব জাহিদ হোসেন সদ্য স্বাধীন ব্যাংক ব্যবস্থা ইসলামী শরীয়ার ভিত্তিতে পুনর্গঠনের আহবান জানান। উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পাকিস্তানের গর্ভণর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর ভাষণে ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিক সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রবর্তনের পক্ষে মত দেন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের মূলনীতি প্রস্তাবে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ণগঠন করা হবে বলে প্রস্তাব করেন। অন্যান্য দেশের মত অবিভক্ত পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ তাদের আদর্শ ও ঐতিহ্যের আলোকে সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা কায়েমের স্বপ্ন দেখেছেন। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের সদিচ্ছার অভাবে এবং একটি দক্ষ কর্মীবাহিনীর অনুপস্থিতির কারণে এই গণ দাবী বাস্তবে রূপ লাভ করেনি। ইতিমধ্যে ১৯৬৩ সালে মিশরে কায়রো শহরের প্রায় একশত কি. মি. দূরের এক গ্রামীণ শহর মিঠগামারে ডঃ আহমেদ আল নাগগার “ মিঠগামার ব্যাংক” নামে একটি আধুনিক বিশ্বের প্রথম সুদমুক্ত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৩-৬৭ সাল পর্যন্ত মিশরে ৭টি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৭ সালে মিশর সরকার রাজনৈতিক কারণে সবকটি ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পরবর্তী ১৯৭২ সালে নাসের সোস্যাল ব্যাংক নামে একটি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৪ সালে জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ও আই সি সদস্যভুক্ত দেশসমূহের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ও আই সি এর সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সনদ স্বাক্ষর করেন। যাতে ইসলামী শরীয়ার ভিত্তিতে অর্থনীতি ও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আই ডি বি প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরের মধ্যে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে বিশটির বেশী ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭৮ সালে সেনেগালের রাজধানী ডাকারে অনুষ্ঠিত ইসলামী পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংকের সংজ্ঞা অনুমোদিত হয় এবং ইসলামী শরীয়ার ভিত্তিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর ব্যাপারে সুপারিশ গ্রহণ করা হয়, যাতে বাংলাদেশ সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে উক্ত সুপারিশ অনুমোদন করে। ১৯৬৩ সালে মিঠগামার ব্যাংক ও ১৯৭৫ সালে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম বিশ্বের ইসলামী ব্যাংকিং আন্দোলন শক্তিশালী হয় স্বাধীনতা উত্তর কালে অর্থাৎ ১৯৭৫ থেকে ১৯৮০ মধ্যে। মওলানা আবদুর রহিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশে ইসলামিক ইকনমিক্স রিসার্চ ব্যুরো এর নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জনাব মোহাম্মদ মহসিন দুবাই ইসলামী ব্যাংকের অনুরূপ একটি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশে পররাষ্ট্র সচিবের কাছে সুপারিশ করেন। এর পরপরই অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং উইং বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিমত জানতে চান। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক এর গবেষণা পরিচালক জনাব এ. এস. এম ফখরুল আহসান আন্তর্জাতিক ইসলামী ব্যাংক সমূহের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন। ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সরকারী, বেসরকারী পর্যায়ে বিভিন্ন আলাপ-আলোচনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বহু ইসলামী ব্যাংকিং, চিন্তাবিদ ও প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী সৃষ্টি করে যা পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার পথ সুগম করে। এই সব উদ্যোক্তাদের মধ্যে ইসলামিক ইকনামিক্স রির্সার্চ ব্যুরো, ওয়াকিং গ্রুপ পর ইসলামিক ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ, বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ইসলামি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইসলামিক ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন (বিবা), বি আই বি এম ও সোনালী ব্যাংক বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ইতিমধ্যে দেশের বেসরকারী উদ্যোগে একটি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে নেওয়া হয় ১৯৮২ সালে। ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে বেসরকারী খাতে যৌথ উদ্যোগে ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগের সুপারিশ পেশ করেন। প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের দীর্ঘ সময় পরে ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে “ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে লিঃ” নামে একটি শরীয়া ভিত্তিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং তফসিলী ব্যাংক হিসেবে শরীয়াভিত্তিক, সুদমুক্ত, মুনাফা ভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে এ ব্যাংকের সফলতা বিবেচনায় নিয়ে এবং জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে অন্যান্য ইসলামী ব্যাংক যেমন আল বারাকা ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ফাষ্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংক সহ অন্যান্য তফসীলী ব্যাংক সমূহের ইসলামী ব্যাংকিং ইউনিট ও ইসলামীক ব্যাংকিং শাখা স্থাপনে এগিয়ে আসে। যা এক শ্রেণীর জনগণ যারা “সুদ নয় মুনাফা” এই স্লোগানে বিশ্বাস করে তাদের আস্থা অর্জনে সমর্থন হয়। তাছাড়া এই ব্যাংকের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের বিপরীতে একমাত্র পণ্য ও সেবার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। ইসলামে “সুদকে হারাম ও ব্যবসাকে হালাল” করা হয়েছে। এই মূলমন্ত্রের ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সূদূর প্রসারী অবদান রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জামালপুরের বকশীগঞ্জে ইসলামের ব্যাংকের শাখা উদ্ভোবন করা হয় ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর । ব্যাংক শাখার উদ্বোধন করেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ আবুল কালাম আজাদ। ব্যাংকটি উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই বকশীগঞ্জে অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখ্যযোগ্য ভুমিকা রেখে যাচ্ছে।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102