বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
Bengali Bengali English English

শেখ হাসিনাকে ২০ বার হত্যার চেষ্টা

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ জুন, ২০১৭
  • ৭৪৪ জন সংবাদটি পড়ছেন

ডেস্ক ঃ একুশে আগস্টের ভয়াল স্মৃতি আজও তাড়া করে ফেরে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ২০০৪ সালের এই দিনে আওয়ামী
লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াল গ্রেনেড হামলার মূল টার্গেট ছিলেন তিনিই। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তাকে হত্যা করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র থেকেই ওই গ্রেনেড হামলা হয়। সেদিন ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেলেও তার কান ও চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনও কান ও চোখের পীড়া থেকে পুরোপুরি মুক্ত হননি শেখ হাসিনা।
কেবল একুশে আগস্টই নয়, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মাটি থেকে মুছে ফেলতে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৯ বার হামলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল জানান, খুনিচক্র রাজধানীর ধানমণ্ডি, রাসেল স্কয়ার, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এবং চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, টুঙ্গিপাড়া, নাটোর, ঈশ্বরদীসহ সব মিলিয়ে ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চেষ্টা চালিয়েছিল।
জানা যায়, শেখ হাসিনাকে প্রথম হত্যার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি। এরশাদ শাসনামলে ওইদিন চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আটদলীয় জোটের সমাবেশে যোগ দিতে মিছিল সহকারে যাওয়ার সময় শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে পুলিশ-বিডিআর গুলি চালায়। সেই সঙ্গে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জও হয়। এতে ৭ জন নিহত ও তিন শতাধিক আহত হন।
১৯৮৯ সালের ১১ আগস্ট রাত ১২টায় ফ্রিডম পার্টির সন্ত্রাসীরা হামলা চালায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে। শেখ হাসিনা তখন ওই ভবনটিতে ছিলেন। হামলাকারীরা ৭-৮ মিনিট ধরে বঙ্গবন্ধু ভবন লক্ষ্য করে গুলি চালায় ও একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তবে গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা।
১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গ্রিন রোডে শাসক দলের সন্ত্রাসীরা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গুলি ও বোমাবর্ষণ করে। ওইদিন গ্রিন রোডে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে ভোটের পরিস্থিতি দেখতে গেলে তার ওপর এ হামলা হয়।
১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী ও নাটোর রেলস্টেশনে প্রবেশের মুখে শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে গুলিবর্ষণ করা হয়। পরের বছর ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর রাসেল স্কয়ারের কাছে সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়।
১৯৯৬-এর ৭ মার্চ সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের সমাবেশে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তৃতার পর অকস্মাৎ একটি মাইক্রোবাস থেকে সভামঞ্চ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। নিক্ষেপ করা হয় বোমা। ২০ জন নেতাকর্মী আহত হলেও প্রাণে রক্ষা পান শেখ হাসিনা। ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলেমেয়েসহ ৩১ জনকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে ই-মেইল পাঠায় ইন্টার এশিয়া টিভির মালিক শোয়েব চৌধুরী।
শেখ হাসিনা হত্যাপ্রচেষ্টার আরেকটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল ২০০০ সালের ২০ জুলাই। ওইদিন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য জনসভাস্থলের কাছে ও হেলিপ্যাডের কাছে পুঁতে রাখা হয় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা। সৌভাগ্যবশত এই বোমা গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ে। অত্যন্ত শক্তিশালী বোমাটি বিস্ফোরিত হলে কেবল শেখ হাসিনাই নিহত হতেন না, মারা যেতেন বহু লোক।
২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য জঙ্গি সংগঠন হুজি অনুষ্ঠানস্থলে একটি বোমা পুঁতে রেখেছিল, যা গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করে। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে গেলে ২৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন স্থানে বোমা পুঁতে রাখে হুজি। একদিন আগেই বোমাটি বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। ২০০২-এর ৪ মার্চ নওগাঁয় শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়িতে হামলা চালায় শাসক দলের ক্যাডাররা। একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা সাতক্ষীরার কলারোয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা চালায়। ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতেও শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলিবর্ষণ করে শাসক দলের সমর্থকরা।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তি সমাবেশস্থলে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে পরপর ১৩টি গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। তবে দলীয় নেতারা মানববর্ম রচনা করে শেখ হাসিনাকে প্রাণে রক্ষা করেন। পরে গাড়ি নিয়ে ধানমণ্ডির সুধা সদনের বাসভবনে যাওয়ার সময়ও তা লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলিবর্ষণ করা হয়। নারকীয় এ হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী নিহত হন। আহত হন চারশ’ নেতাকর্মী। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি।
ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালে সাব-জেলে বন্দি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার খাবারে দেওয়া হয়েছিল স্লো পয়জন। ক্রমাগত পয়জন দিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। স্লো পয়জনিংয়ের কারণে শেখ হাসিনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ২০০৮ সালের ১১ জুন ১১ মাস কারাভোগের পর শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি পান।
২০১১ সালে শ্রীলংকার একটি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপকে ভাড়া করে আগাম পেমেন্টও দেওয়া হয়েছিল শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য। সুইসাইড স্কোয়াডের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ভাড়াটিয়া খুনিরা গাড়ি করে কলকাতা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। ফলে ভেস্তে যায় শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা।
একই বছর তিন দেশে বসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যার জন্য সামরিক অভ্যুত্থানের চক্রান্ত করা হয়, যা উইকিলিকসের সৌদি আরবের এক গোপন বার্তায় প্রকাশ পায়।
২০১৪ সালের শেষদিকে প্রশিক্ষিত নারী জঙ্গিদের মাধ্যমে মানব বোমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রশিক্ষণরত অবস্থায়ই পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে ওই ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যায়। এ ষড়যন্ত্রের ঘটনায় সে সময় ভারত ও বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
গত বছরের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে কারওয়ানবাজার এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে বোমা হামলার চেষ্টা চালায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গি গোষ্ঠী। কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণও ঘটায় জঙ্গিরা।

এভাবেই বারবার শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হলেও বেঁচে আছেন তিনি। –

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102