সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:২৭ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English

আ’লীগ সরকার আজ গোটা দেশকে কারাগারে পরিনত করেছে…মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০১৭
  • ৭৭৬ জন সংবাদটি পড়ছেন

বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যে দেশের প্রধান বিচারপতি যখন বলেন দেশে আইনের শাসন নেই, তখন বলার অপেক্ষা থাকে না দেশের অবস্থা কোথায় ? আ’লীগ সরকার আজ গোটা দেশকে কারাগারে পরিনত করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য নয়, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরে দিতে বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়। তবে সেই নির্বাচন হতে হবে নিরোপক্ষ সরকারের অধীনে। তাই আমাদের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে আনতে হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। দেশের প্রত্যেকটা মানুষের চোদন্দ্রীয় বিএনপি’র কুটিরশিল্প বিষয়ক সম্পাদক মোজাফ্ফর হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপি’র সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে খারাপ সময় চলছে। কারণ এ আ’লীগ সরকার গণতন্ত্রের একটা মুখোশ পড়ে আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে যত দূর্নীতি হয়েছে তার সিংহভাগ এই আ’লীগ সরকারের আমলেই। দেশে বর্তমানে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা চলছে। শুধু একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বললে ভুল হবে এক ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থা। এখানে মানবাধিকার বলতে কিছু নেই, জবাবদিহিতাও নেই। নামে মাত্র একটা সংসদ আছে যেখানে জনগণের সমস্যা সমাধানের কোনো আলোচনা করা হয় না। যে সংসদে বিরোধী দল আছে যাকে সবাই বলে গৃহপালিত বিরোধী দল। তারা জলসা পার্টির দর্শক হয়ে শুধু হাতে তালি দেন। বিএনপি এই আ’লীগ সরকারের দূঃশাসনক পরাজিত করে একটি শান্তিময় দেশ গঠন করতে চায়।
বিএনপি’র মহাসচিব বলেন, অধিকার হরণ করবার একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গোটা দেশের মানুষ বলতে গেলে কারাগার তৈরী হয়ে গেছে এ থেকে মুক্তি পেতে হবে। স্বাধীনভাবে কথা বলবার, সব কিছুর ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের পদ-পদবীর জন্য নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য, গণতন্ত্রের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, মা-বোনদের সম্মানের জন্যে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার ব্যবস্থা করতে হবে। কারন দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলছে তারা।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশির নামে যে আক্রমন করা হলো সেটা কার্যালয়ের উপর আক্রমণ নয়, এটা গণন্ত্রের উপর আক্রমন দেশের মানুষের আক্রমণ। আগেই বলেছি এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। দেশে রাজনৈতিক নতুন সংস্কৃতির ধারা তৈরি করার প্রস্ততি চলছিল এটাকে ধ্বংস করে দেওয়ার সরকার এই কাজটি করেছে।
মিজা ফখরুল ইসলাম দাবী করেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য যে লড়াই আমরা শুরু করেছি, যে সংগ্রাম আমরা শুরু করেছি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে বদলে দেয়ার জন্য যে নতুন ধারার সূচনা করেছি, তাকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য, তাকে সমূলে নির্মূল করে দেয়ার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সম্মেলনে বক্তরা বলেন, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের তল্লাশি প্রতিবাদে সারাদেশের মানুষ মুখর হয়ে উঠেছে। সেখান থেকে শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার অনুমতি চেয়েছিলাম। সরকার অনুমতি দেয়নি। বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পুলিশি তল্লাশি ও হামলা সরকারের নির্দেশেই হয়েছে। যে কারণে সরকারের নির্দেশেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি মেলেনি।
সম্মেলনে বক্তরা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংক লুট করে খাচ্ছে, শেয়ার মার্কেট লুট করেছে। সমন্ত উন্নয়নের কথা বলে উন্নয়নের প্রকল্পে টাকা লুট করে নিচ্ছে। উন্নয়নের নামে শুধু সংখ্যার জালিয়াতি ছাড়া আর কিছুই করছেনা তারা। দেশে আজ বিদ্যুৎ নেই, বাড়ছে শুধু দাম। সাধারণ মানুষের হা-হা কার উঠে গেছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে। আর এই পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesba-lates1749691102