মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৪১ অপরাহ্ন
Bengali Bengali English English
সদ্য পাওয়া :
বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবে অতিরিক্ত সচিব শাওলী সুমনের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল বক‌শীগঞ্জ উপ‌জেলা বিএন‌পি`র আহ্বায়ক ক‌মি‌টির প‌রি‌চি‌তি সভা বকশীগঞ্জ ২ হাজার ভারতীয় জাল রুপিসহ আটক ৭ বকশীগঞ্জে শিশু হত্যা, পিতার মৃত্যুদণ্ড বকশীগঞ্জ বিএনপির সংবাদ সম্মেলন, কমিটির আত্ম প্রকাশ শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকারে বশেফমুবিপ্রবি’র বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন দলকে সুসংগঠিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্চ… মানিক সওদাগর আরব সাগরে ভেঙে পড়লো ভারতীয় যুদ্ধবিমান, পাইলটের মৃত্যু বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি॥ মানিক-আহ্বায়ক, মতিন- সদস্য সচিব বকশীগঞ্জ পৌর বিএনপি ॥ প্রিন্স-আহ্বায়ক, গামা-সদস্য সচিব

খালেদ মোশাররফ হত্যা : ইতিহাসের প্রয়োজনে বিচার হওয়া উচিত

সংবাদদাতার নামঃ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭
  • ৭৩৭ জন সংবাদটি পড়ছেন

শঙ্কর প্রসাদ দে

মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল নাজমুল হুদা ও লে. কর্নেল হায়দার তিনজনই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাতিসত্ত্বার সাথে মিশে আছেন। বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। ৩ নভেম্বর ’৭৫ খালেদ ও শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে মোশতাক-ফারুক-রশীদ গংদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান সফল হয় এবং খালেদ-শাফায়াত বঙ্গভবনে পৌঁছে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
সেনাপ্রধান জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে মোশতাক তা গ্রহণ করে খালেদ মোশাররফকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করেন।
৩/৪/৫/৬ নভেম্বর পরিস্থিতি অনেকটাই খালেদের নিয়ন্ত্রণে এলে বিপদ আসলো অপ্রত্যাশিতভাবে জাসদ এবং কর্নেল তাহেরের দিক থেকে। তাহেরের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই প্রস্তুতিতে নেমে যায়। ঘড়ির কাঁটায় ততক্ষণে ১২টা অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। ৭ নভেম্বর ১৯৭৫। শুরু হল তাহেরের নেতৃত্বে সিপাহী বিদ্রোহ। একজন মহিলাসহ তেরজন অফিসারকে হত্যা করা হল।
যেহেতু দু’বছর আগেই কর্নেল তাহের সেনা চাকুরি ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং যেহেতু সিপাহী বিদ্রোহে ঊর্ধ্বতন কোন সেনা কর্মকর্তা ছিল না সেহেতু বিদ্রোহী সেনাদের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তাহের বেছে নিয়েছিলেন পদত্যাগী সেনাপ্রধাান জেনারেল জিয়াকে। তাহেরের নির্দেশেই সর্বপ্রথম জিয়াকে গৃহবন্দীত্ব থেকে মুক্ত করা হয়।
জিয়া মুক্ত হবার সাথে সাথে দেশ অভূতপূর্ব এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। একদিকে ৫ দিন আগে নিয়োগপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান খালেদ মোশাররফ আর অন্যদিকে অঘোষিতভাবে পুনর্বহাল সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়া। দু’জনের মধ্যে যে কোন একজনের বিদায় অবধারিত হয়ে উঠলো। খালেদ সেনাপ্রধান হয়ে জিয়াকে হত্যা করেননি। কিন্তু জিয়া স্বপদে পুনর্বহাল হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে খালেদ মোশাররফকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।
ঢাকা গ্যারিসনের নিয়ন্ত্রণ সিপাহীদের হাতে এসে যাওয়ার পর তাহেরের ভুলে মুক্ত জিয়ার হাতে সর্বময় ক্ষমতা এসে পড়ে। বর্তমান সংসদ ভবন তখন নির্মাণাধীন ছিল এবং তথায় কর্নেল নওয়াজিশের ১০ম ইস্ট বেঙ্গল খালেদ, হুদা ও হায়দারকে আশ্রয়ের পরিবর্তে উপহার দিয়েছে বুলেট। লে. কর্নেল এইচ এম গাফফারের লেখায় দু’টো কাহিনীর উল্লেখ করা হয়েছে। শাফায়াতের বইয়ে হত্যাকাণ্ডটি সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। গাফফার সাহেবের মতে, খালেদ মোশাররফসহ তিনজনকে গাড়ির গ্যারেজে তাহেরের বিপ্লবী সিপাহীরা প্রথমে গুলি ও অতপর রেয়নেট চার্জ করে হত্যা করে। তাঁর মতে দ্বিতীয়টি হলো, মীর শওকত আলীর নির্দেশে ক্যাপ্টেন আসাদ ও ক্যাপ্টেন মাসুদ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেন।
হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে যদি বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়, তবে আরো বহু তথ্য উঠে আসবে এবং সত্য বেরিয়ে আসবে। জিয়া স্বাভাবিকভাবেই খালেদ-শাফায়াত-গাফফারের প্রতিপক্ষ ছিলেন। কিন্তু ৩-৭ নভেম্বরের ওপর আজ পর্যন্ত যতগুলো বই বেরিয়েছে, এর কোনটিতেই খালেদ-হুদা-হায়দারকে তিনি হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন এমন তথ্য নেই।
খালেদ মোশাররফের কন্যা এখন সংসদ সদস্যা। স্বাভাবিকভাবে তিনি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে আছেন। তিনি নিজে বা হুদা ও হায়দার সাহেবের পরিবারের কেউ একজন কেন বিচার চেয়ে এগিয়ে আসছেন না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। সূর্য সেনকে রাষ্ট্রদ্রোহী সাব্যস্ত করেই কিন্তু মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। তিনি নিজ হাতে কাউকে হত্যা করেছিলেন, এমন কোন তথ্য রাষ্ট্র বনাম সূর্য সেন মামলায় নেই। স্বাধীন ভারতবর্ষ ঘোষণা দিয়ে সূর্য সেন ৩ দিন চট্টগ্রামকে স্বাধীন রাখতে পেরেছিলেন।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করেছে ফারুক রশীদ গং, এরা সবাই ছিল নিম্নপদস্থ সামরিক অফিসার। ১৫ অগাস্ট থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত এরা একদিনের জন্যও বঙ্গবভন ত্যাগ করেনি এবং সেখান থেকেই তারা তাদের খুশিমত কার্যকলাপ চালিয়েছে ১৫ আগস্ট সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ কোন ব্যবস্থাই নিতে পারেননি।
২৪ অগাস্ট ’৭৫ জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন। তিনিও হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছিলেন না। ফলে খালেদ মোশাররফ ও ৪৬ ব্রিগেডের অধিনায়ক শাফায়াত জামিল বঙ্গভবন থেকে হত্যাকারী মোশতাক-ফারুক রশীদ গংদের উচ্ছেদের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করেন।
৩ নভেম্বরের সামরিক অভিযান কোন অবস্থাতেই মিউটিনি বা সেনাবিদ্রোহ ছিল না। কারণ মোশতাক প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ফারুক-রশীদের ট্যাঙ্কের আগায় বসে। তারা বন্দুকের গোলা দিয়ে দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করেছেন। ট্যাঙ্কের উপর বসে বঙ্গভবন দখল করা হয়েছিল। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের খালেদ বঙ্গভবন থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। মোশতাককে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন। খুনি সেনা কর্মকর্তাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে দেশের প্রেসিডেন্ট করেছিলেন। তিনি নিজে রাষ্ট্রপতি হননি। খালেদের সামরিক পদক্ষেপে এক ফোঁটা রক্ত ঝরেনি। অথচ তাহেরের হঠকারী সিপাহী বিপ্লব সাফল্যের পরিণতি না পাওয়ায় সিপাহী বিদ্রোহে পরিণত হয়। নিয়ন্ত্রণহীন সিপাহী বিদ্রোহে প্রাণ দিতে হয়েছে অসম বীরত্বের অধিকারী তিন মুক্তিযোদ্ধা খালেদ-হুদা-হায়দারকে। এই তিন বীরসেনাকে আমরা ফেরৎ পাব না। কিন্তু এদের দেশপ্রেম ও ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ চাপা পড়ে গেছে রাজনৈতিক কূটকৌশলের কাছে। জিয়াউর রহমান সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন কৌশল দিয়ে। তিনি তাহেরের সিপাহী বিপ্লব আত্মসাৎ করে সিপাহী বিদ্রোহে পরিণত করেছেন। খালেদের অসমসাহসী সামরিক পদক্ষেপকে তিনি কখনোই সামনে আসতে দেননি।
যদিও ইতিহাস নিজস্ব গতিতে খালেদের রাজনৈতিক স্থান নির্ধারণ করবে। কিন্তু যেটি জাতির করণীয় অবশিষ্ট থাকবে, সেটি হলো হত্যাকাণ্ডের বিচার।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গটি যখন ধীরে ধীরে সামনে আসছিল, তখন দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজের পরিষ্কার বক্তব্য ছিল, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। মানব সমাজে অপরাধ থাকবেই। তবে অপরাধের বিচারের নিশ্চয়তা না থাকলে সমাজ সভ্যতার পথে এগোয় না। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হয় না।
নতুন প্রজন্ম জানেই না যে ৩-৭ নভেম্বর এদেশে ঘূর্ণিঝড়ের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটে গেছে। ঐ কঠিন সময়ে কী ঘটেছিল তা উঠে না আসলে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক গতিধারার বাঁক নেয়ার সময়কে উপলব্ধিতে আনা যাবে না। অসম্ভব ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ঐ পাঁচদিনকে মূল্যায়ন করতে হলে খালেদ-হুদা-হায়দারের হত্যার তদন্ত ও বিচার সময়ের দাবি।
অতীতে আমরা বহু অন্যায়ের বিচার করতে পারিনি। তাই বলে কোনদিন ঐ সব অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে না, তাতো হয় না। ঐ সময়ের শাসক শ্রেণির চরিত্র ও আকাঙ্ক্ষা বুঝতে হলে খালেদ-হুদা-হায়দারের বিচার প্রক্রিয়া হতে পারে একটি শ্রেষ্ঠ পদক্ষেপ। আমরা এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারি না খালেদ-হুদা-হায়দারের হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে কিনা?
তবে এটুকু প্রত্যাশা করতেই পারি যে, খালেদ-হুদা-হায়দারের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া অন্তত শুরু হবে। ইতিহাসের দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে হলে এর কোন বিকল্প নেই।

পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
সাপ্তাহিক বকশীগঞ্জ
        Develop By CodeXive Software Inc.
themesba-lates1749691102